গোপালগঞ্জ: জীবন তো অদ্ভুত আছেই, সেই সাথে অদ্ভুত আমাদের সরকার।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একের পর এক মরছে, সরকারের কোনো হুঁশ নেই। কয়েকদিন আগেই একজন চিকিৎসক মারা গিয়েছেন ডেঙ্গুতে। এবার মারা গেলেন আরো একজন নার্স।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাগুলো কি বিএনপি সরকারের চোখে শুধু কাগজের হিসাব, নাকি প্রতিটি সংখ্যার পেছনে থাকা মানুষের জীবনও সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ ডেঙ্গু শুধু জ্বর নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীর যেকোনো সময় শক সিনড্রোম হতে পারে; রক্তচাপ ও পালস কমে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে রক্ত-অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হলে জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বছর ২৫ এর বৃষ্টি ঘরামির বিয়ের বাকি ছিলো মাত্র দুই সপ্তাহ। লাল শাড়ি, নতুন সিঁদুর কেনার পর্ব শেষ।
কিন্তু সেই সিঁদুর মাথায় উঠলো যদিও তা মৃত্যুর পর। এর থেকে বেদনাদায়ক আর কী আছে?
এমন সময়ে ডেঙ্গু কেড়ে নিল গোপালগঞ্জের বৃষ্টি ঘরামির জীবন। ২৫ বছর বয়সী হাসিখুশি এই তরুণীর হবু বর মৃত্যুর পর তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন। মৃত্যুর পর!
গত শুক্রবার পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হওয়া বৃষ্টির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৯ মাস এখানে কাজ করেছেন।
গোপালগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটে পড়ালেখা করা বৃষ্টির হবু বরের বাড়ি পার্শ্ববর্তী টেকেরহাট এলাকায়।
বৃষ্টির বোন বলেন, ‘বোনজামাই ওকে সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছে। ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে আসার পথে ওর শ্বশুর-শাশুড়ি বিয়ের সব জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন। বৃষ্টির চলে যাওয়া আমাদের শত জীবনের শোক হয়ে থাকবে। বিয়ে নিয়ে কত আশা ছিল, কত যে গল্প করত…’!
তাঁর মৃত্যুর দিন সকালে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বি নেগেটিভ রক্তের জন্য একটি আকুতি জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি। এরপর রাতেই তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতের বড়বোন জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর বৃষ্টির বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ডেঙ্গুর ছোবলে সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। মৃত্যুর সময় তার শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
মানুষের সেবায় বৃষ্টির কতটা মায়া ছিল, তা তাঁর বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টেও ফুটে উঠত।
রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিঁদুর পরা বৃষ্টির নিথর দেহের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তাঁর ফেসবুক আইডিতেই দেখা যায়, মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে একটি ফোন নম্বর দিয়ে রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে তাঁর দেওয়া নম্বরে ফোন করা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বড়বোন।
কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে তিনি বলেন, ‘আমার বোন। আমার বোন আর নাই। ১৬ অক্টোবর বিয়ের দিন ছিল। সব কেনাকাটা শেষ। ডেঙ্গু বোনটাকে কেড়ে নিল।’
