গাইবান্ধা: রাম মূর্তি নিয়ে প্রচুর উস্কানি দেখা যাচ্ছিলো দেশজুড়ে। এআই দিয়ে সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে অবমাননামূলক ছবি বানিয়ে প্রচার চলছিলো। রামের মূর্তিতে প্রশ্রাব করছে, তারপর সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষরা যাকে ভগবান হিসেবে পুজো করে সেই রায়ের মূর্তির ওপর দাঁড়িয়ে কুড়াল দিয়ে ভাঙা হচ্ছে মূর্তি এমন সব ছবি বানিয়ে এই কয়দিন খুব প্রচার চলেছে।

কেউ কেউ ভিডিও ছাড়ছেন, এই মুসলমানের দেশে মূর্তি হতে পারবে না বলছেন, এই যে এত অপমান, অবমাননা করা হলো এগুলো কী ধর্মীয় অবমাননা নয়? ধর্মে আঘাত নয়? যদিও এগুলো ভুলের কিছু না এই দেশে।

তবে সনাতনীরা কিছু না করেও কারাগারে চলে যায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে!

এইসব কেচ্ছা কাহিনীর পরেই গাইবান্ধায় বন্ধ হয়ে গেলো দেশের সবচেয়ে বড় রামের মূর্তি তৈরী।

যা সব আচার বিচার দেখা যাচ্ছিলো, তাতে এমনিতেও এই মূর্তি নির্মাণ হলে থাকতো কিনা সন্দেহ ছিলো।

ইসলাম পন্থী মহলের প্রতিবাদের মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে মূর্তি নির্মাণের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

পলাশবাড়ীর হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (কোমরপুর) গ্রামে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এই প্রকল্প চলছিল। সেখানে ইতিমধ্যে ২৮ ফুট উঁচু শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উঁচু কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

রামমূর্তির উচ্চতা হবে প্রায় ৮১ ফুট বলে জানা গিয়েছিল, যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় হিন্দু দেবতার মূর্তি বলে জানা গিয়েছে।

এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকা। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এবং কিছু দাতার অর্থায়নে কাজ এগোচ্ছিল।

কিন্তু কাজ এগোলে কী হবে? স্থানীয় ইমাম-ওলামা পরিষদ, তৌহিদী জনতা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন মূর্তি নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করে।

তাঁরা বলছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এমন মূর্তি নির্মাণ স্থানীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে।

কোনদিকে আঘাত করবে, সেটা অবশ্য তারা বলতে পারেনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, এটি তাঁদের নিজস্ব জমি এবং নিজস্ব অর্থে ধর্মীয় উপাসনালয়ের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছিল।

একজন স্থানীয় হিন্দু নেতা বলেন, “আমরা শান্তিতে ধর্ম পালন করতে চাই। এখানে কারও অনুভূতিতে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”

ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন তসলিমা নাসরিন।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:

“বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ বলছে, “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।”

অনুচ্ছেদ ২৮(১) বলছে, “কেবল ধর্মের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।”

অনুচ্ছেদ ৪১(১) প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালন, ধর্ম প্রচার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার অধিকার দিয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার অধিকার দিয়েছে।

সেই কারণে, আইনসম্মতভাবে একটি রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগকে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বাধাগ্রস্ত করা বা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা সংবিধানের সমতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির পরিপন্থী।

একজন মুসলমানের মসজিদ নির্মাণের অধিকার যেমন আছে, তেমনি একজন হিন্দুরও মন্দির নির্মাণের অধিকার আছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু নির্বিশেষে সবার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *