ঢাকা: জুনায়েদ আহমেদ পলককে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন বলার আছে কিছু?
তিন উত্তর দিলেন ‘জং ধরা হ্যান্ডকাঁফে রক্তাক্ত হাত”……! এই এক বাক্যেই পরিষ্কার তাঁদের কীভাবে নির্যাতন চলছে।
তবে তার সাথেই দুই আঙ্গুল তুলে বিজয়ের প্রতিধ্বনি দিয়ে গেলেন পলক।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং আইনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে হাজিরা দিতে আদালতে হাজির করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত’ বলে মন্তব্য করেন। এবং আঙুল দিয়ে ভিক্টরি বা জয়ের চিহ্ন দেখান সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
আজ, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে হাজিরা দেন পলক। হাজিরা শেষে তাকে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করে কারাগারে পাঠানোর সময় দুই হাত দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হচ্ছে হাত।’
উল্লেখযোগ্য যে, এদিন দুদকের করা মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে দুদক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালত ২৩ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,”দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। উনাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। ন্যায়বিচার থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন এটাই তিনি বুঝাতে চেয়েছেন।”
প্রসঙ্গত, জঙ্গী ইউনূসের সময় তথা ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বিত ঢাকা জেলা কার্যালয়-১ এই মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, “জুনাইদ আহমেদ পলক অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ আট কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। একইসাথে নিজ নামে ২৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩২ কোটি চার লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন।”
২০২৪ সালের ১৫ অগাস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়।
