ধানমন্ডি: দেশে বিভৎস সব ঘটনা ঘটছে। যা কোনোদিন কল্পনাও করা যায়নি। অন্তত রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন করা দেশটার হাল যে আজ এমন হবে, সেটা ভাবা যায়নি। ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের এই হাল।

ধানমন্ডিতে দেশজুড়ে বাউলদের ওপর হামলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ করতে আসা বেশ কিছু সাংস্কৃতিককর্মীদের মধ্যে দীপক শীল নামের একজনকে পুলিশ আটক করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, প্রতিবাদ করতে আসায় বাঁধা দেওয়া হয়নাই, বাধা দেওয়া হয়েছে ওরা ওখানে ” জয় বাংলা ” স্লোগান দিচ্ছিলেন বলে।

এবং দীপক শীল সাবেক ছাত্র ইউনিয়নকর্মী!  দীপকের সাথে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও দীপককে আটকের পরপরই
” জয়বাংলা ” স্লোগান দিতে থাকেন, এবং পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে বলেন, এখানে জয়বাংলা স্লোগান দেওয়া যাবে না।

অবশ্য রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মানববন্ধন থেকে আটক ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দীপক শীলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাত ৯টার দিকে ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ছাত্র ইউনিয়নের সেক্রেটারি বাহাউদ্দিন শুভও।

এর আগে, সিপিবি সূত্রাপুর থানার ৪২নং ওয়ার্ড শাখার সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা দীপক শীলকে আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একই সঙ্গে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

২৬ অক্টোবর, সোমবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউলশিল্পী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর হামলা, বাধা ও অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে ধানমন্ডিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে দীপক শীল পুলিশের হাতে নির্যাতিত ও আটক হয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। এসব অধিকার সংকুচিত করে ভিন্নমত ও প্রতিবাদ দমন করার প্রবণতা দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাউলসংগীত, লোকজ সংস্কৃতি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর হামলা এবং বাধা দেওয়ার ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক।

কোন অজুহাতেই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে না। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে মানুষের সাধারণ অধিকারের পক্ষে ভূমিকা পালন করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সিপিবির নেতৃবৃন্দ দীপক শীলকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে আটক, হয়রানি কিংবা ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *