ঢাকা: এই দেশে হিন্দু মরে! মরে তো মরেই! প্রতিবাদ যতোই হোক, কোনো লাভ নেই। গলা চিড়ে ফেললেও কেউ দেখবে না। দেশটা এতটাই রসাতলে গিয়েছে।
হত্যা তো হয়ই, সেই হত্যার তদন্তও হয় এই দেশে শয়তানি করে।
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ঢাকার ধানমণ্ডিতে প্রতিবাদ হয়।
মানববন্ধন থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়েছে। মানুষ মরে যাক সমস্যা নেই। জয় বাংলা স্লোগানে সমস্যা।
অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, বক্তাদের একজন বক্তব্য শেষ করে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে সেখানে তিনজন এসে হট্টগোল করার চেষ্টা করে। বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশও আসে।
মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ বলছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর তারা সেখানে গিয়ে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকার ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে মিনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’- এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়।
সমাবেশের সংগঠকদের একজন ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট ও চারু শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী।
মানববন্ধনে তিনি বলেছেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছবিতে দৃশ্যমান নিষ্পাপ মুখগুলো বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার হৃদয় ব্যথিত, আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না। আমরা কেমন সমাজে বাস করছি? এদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী শিখছি? আমরা কি একটি বর্বর জাতিতে পরিণত হচ্ছি?”
তিনি বলেন, “ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের চোখের সামনে এই স্বাধীনতাকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। সে কারণেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবাদ সমাবেশ যেন করতে না পারি, সেজন্য আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে ফোনকল এসেছে।”
কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তিনজন ব্যক্তি এসে স্লোগানের প্রতিবাদ জানান।
রাজাকাররা তো জয় বাংলা স্লোগানে ভূত দেখে। তাই দেশে যতো অন্যায় হোক, না খেয়ে মরুক- কিন্তু মতো সমস্যা বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ নিয়ে।
