চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সারা দেশে বিদ্যুৎ নেই। ১৪ ঘন্টায় ২২ ঘন্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। গ্রামেগঞ্জের মানুষের অবস্থা বেহাল।

বিএনপির মানুষেরাই বলছে, আমরা আর পারছি না এইসব বইতে।

জনগণ রাতে মাঠেঘাটে বসে থাকে, দুইটা, আড়াইটা রাত, কারেন্ট নেই। শিশুরা ঘুমোতে পারে না। ঘরে ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। অথচ কোনো কথা বলা যাবে না। এটাও বলা যাবে না, বিদ্যুৎ নেই। না থাকলেও বলতে হবে আছে।

এবার বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করায় বিচারকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, এজলাসে রীতিমতো ভাঙচুর হলো। দরজা, কাছ ভেঙে একাকার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতের এজলাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করার অভিযোগ এনে একজন যুগ্ম ও দায়রা জজের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এমনটাই জানা গিয়েছে।

এখনো যে তাঁর চাকরি যায়নি সেই জন্য শুকরিয়া করা উচিত! বাপ রে বাপ!

মো. উজ্জল হোসেন নামের এক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় আদালতের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও এজলাস কক্ষে ভাঙচুর করা হয়।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় ভবনের সামনে এই লজ্জাজনক বিক্ষোভ হয়।

পরে বিক্ষোভকারীরা বিচারক মো. উজ্জল হোসেনকে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং এ বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেধে দেন।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফজলে আজিম মিম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের হওয়া একটি মামলায় হাজিরা দিতে নেতাকর্মীরা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যান।

এ সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন বিচারক মো. উজ্জল হোসেন। এ ঘটনার পর আদালত থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন নেতাকর্মীরা।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী বলেন, ওই বিচারক ফ্যাসিস্ট। তাই তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তবে বিচারক মো. উজ্জল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাবর বলেন, ‘তিনি আগের সরকার ভালো ছিল বলে মন্তব্য করেন। তখন আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। এজলাস থেকে বের হয়ে আদালতের সামনে রাস্তায় কর্মীরা বিক্ষোভ করি আমরা। সেখানে আমি বক্তব্য দিই। তখন বিচারককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’

বাবরের অভিযোগ, ‘জামিন মঞ্জুরের পর বিচারক আমাদের উদ্দেশে বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। আপনাদের সরকার। আগের সরকারই তো ভালো ছিল।’

তবে বিচারকের খাস কামরার দরজায় ভাঙচুরের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাবর।

তিনি বলেন, ‘ভাঙচুরের সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আদালতের সিসি ক্যামেরায় দেখা যাবে কে বা কারা জড়িত। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা এতে জড়িত নই।’

এদিকে, আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারক কোনও সমালোচনা করেননি। তিনি (বিচারক) বলেছিলেন, “বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সব জায়গায় খারাপ। এখানে যারা আপনাদের লোক আছেন, তাদের একটু বলেন, আদালত চলাকালে যেন বিদ্যুৎ থাকে, সেই ব্যবস্থা যেন করেন।”

তখন এজলাসের বাইরে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ছেলেরা হট্টগোল শুরু করে। প্রথমে খাস কামরার দরজার কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে এজলাসের দরজার কাচও ভাঙা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *