ঢাকা: এই জাতি কোথায় পৌঁছেছে সেটা আপনি আমি কল্পনাও করতে পারবো না!
বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মাদ্রাসায় রবীন্দ্র বিদ্বেষ, হিন্দু বিদ্বেষ তৈরি করা হয়। এই কথা ভীষণ বাস্তব। ওরা জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা ‘ গায় না।
রবীন্দ্র বিদ্বেষী, দেশদ্রোহীরা রবীন্দ্রনাথের ছবি পায়ে মাড়িয়ে ছবি দেয়! ভাবুন একবার!
১৯৪৭-এর দেশভাগের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয় যে, রবীন্দ্রনাথ একজন ‘হিন্দু কবি’।
এখানে ‘ব্রাহ্ম’ বা ‘একেশ্বরবাদী’ পরিচয়কে ছাপিয়ে ‘হিন্দু’ শব্দটিকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক শক্তি বুঝতে পারে ‘ব্র্যান্ড রবীন্দ্রনাথ’ দ্বিজাতি তত্ত্বের জন্য কত বড় থ্রেট। সাধারণ মানুষের অশিক্ষা ও ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা চালায়—রবীন্দ্রসংস্কৃতি মানেই ইসলামি ঐতিহ্যের বিসর্জন।
এই ‘শব্দের রাজনীতি’ই আজ পর্যন্ত একদল উগ্রপন্থীর কাছে প্রধান হাতিয়ার।
রবীন্দ্রবিরোধিতার সবথেকে সংক্রামক এবং তৃণমূল সংস্করণটি তৈরি হয় এদেশের মাদ্রাসাকেন্দ্রিক বলয়ে।
এখানে রবীন্দ্র-বিদ্বেষ শুধু সাহিত্যিক বা রাজনৈতিক নয়, বরং এটি একটি ‘ধর্মীয় বিধান’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
যেমন ভারতের নাম। ভারত হিন্দু, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু তাই ওদেরকে মাড়াতে হবে।
মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের একটি বড় অংশের কাছে জাতীয় সঙ্গীত ‘হারাম’, তার ওপর এটি একজন ‘কাফেরের’ লেখা। বুঝতে পেরেছেন তো?
এবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার হলেন নোয়াখালির ছাত্রদলের নেতা মারুফ৷
খুব বড় কাজ হয়েছে বহিষ্কারে? নাহ! বহিষ্কার কয়জনকে করবে? ওরা সবাই হিন্দু বিদ্বেষী, রবি বিদ্বেষী।
গত রবিবার রবীন্দ্রনাথের একটা ছবি পোস্ট করে লিখেন “রঠা কুক” এটার জের ধরে তাকে বহিষ্কার করা হয়৷
এটা নিয়ে মারুফ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন৷
“আলহামদুলিল্লাহ চাঁদাবাজি করলে বহিষ্কার হতাম না, অনৈতিক কাজ করলে বহিষ্কার হতাম না, নেশাগ্রস্ত হলে বহিষ্কার হতাম না, কেবল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতা করায় রবীন্দ্রনাথের বিরোধীতা করে পোস্ট করায় আমাকে বহিষ্কার করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল”।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
