ঢাকা: দ্বিতীয় বিয়ে না করলে চরিত্র নাকি রক্ষা করা যেতো না…! তাঁকে বিভিন্ন হোটেল, আনাচে কানাচে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো! তাই চরিত্র বাঁচাতে দুই নম্বর বিয়েটা সেরেই ফেললেন রফিকুল ইসলাম মাদানি।

আবার এই কথা নিজের মুখেই বলছেন। এদের চরিত্র এতটাই পৈশাচিক যে এদের একজন স্ত্রী ঘর সংসার ভরিয়ে রাখলেও হয় না। তিনি নাকি আবার হুজুর!

মাদানি নামের এক বিতর্কিত বক্তা যিনি মাঠেঘাটে নোংরা জীবাণু ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সমালোচিত তিনিই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

এ নিয়ে তিনি লিখেছেনও। জানা গেছে প্রথম স্ত্রী সন্তান প্রসবের এক সপ্তাহ আগে তিনি একাজ করেছেন। সম্প্রতি তিনি কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন।

বিয়েটা করার জন্য অনেক ফন্দি ফিকির করেছেন। দোষ যাতে তাঁর ঘাড়ে না চাপে, আল্লাহর ঘাড়ে চাপে তার ব্যবস্থাটা করেছেন।

বিয়ে করবেন এই কথা তার প্রথম বউকে জানিয়েছেন! কিন্তু বউতো রাজি না, সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে! মাদানির মন খারাপ! বউয়ের কষ্ট দেখে মাদানী অন্য পথ বেছে নিলেন।

জায়নামাজে বসে পড়লেন।আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেন! নাহ, নিজের মতিভ্রমের জন্য না, আল্লাহ যেনো তার স্ত্রীকে বুঝ দেন!

তাঁর বাসনা যেনো কবুল করে! তো, মাদানি ডাকবে আর আল্লাহ শুনবেনা, এটা হয়? আল্লাহ শুনেছেন তার কান্নাকাটি, দিলেন বুঝ!

ফেসবুক পোস্টে মাদানী লিখেছেন, ‘আমি আমার আল্লাহকে ভয় করি… গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে চাই।

এই চাওয়াটাই আমাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে—দ্বিতীয় বিয়ে। এই সমাজে কত মানুষ আছে, যারা বিবাহিত হয়েও হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, গোপনে গোনাহ করে। আমি সেই পথের একজন হতে চাইনি। আমি চাইনি নিজেকে কোনো হোটেল, পার্ক কিংবা অন্ধকার কোনো পথে খুঁজে পাই।

আমি চেয়েছি হালালের মধ্যে থাকতে, আল্লাহর বিধানের মধ্যে থাকতে। জানি, আমার এই সিদ্ধান্তে আমার প্রথম আহলিয়ার কষ্ট হয়েছে… হচ্ছে। এটা ভাবলেই আমার বুকটা ভেঙে যায়। তবুও আমি বিশ্বাস করি, এটি কোনো মানুষের বানানো নিয়ম নয়—এটি আমাদের সবার রবের বিধান।

তিনি যা হালাল করেছেন, সেটাকেই আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি।

কিছুদিন ধরে আমি তাকে বুঝিয়েছি… অসংখ্য রাত আমি আল্লাহর কাছে কেঁদে দোয়া করেছি—যেন তাঁর মনটা নরম হয়, যেন তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারেন।

কখনো মনে হয়েছে তিনি বুঝছেন, আবার হঠাৎই ভেঙে পড়েছেন, না বলে দিয়েছেন।
আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই—আল্লাহ তাআলা যেন আমার দুই পরিবারকে ধৈর্য দান করেন, তাদের অন্তরে প্রশান্তি দেন এবং এই বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেওয়ার তাওফিক দেন।

ইনসাফ করা—এটাই সবচেয়ে বড় শর্ত।
আর আমি আল্লাহর কাছে মাথা নত করে দোয়া করি, যেন তিনি আমাকে সেই তাওফিক দেন। যেন আমি কারো হক নষ্ট না করি, কারো প্রতি জুলুম না করি।

আর আমাকে এমন তাওফিক দিন, যেন আমি সত্যিই ইনসাফের সঙ্গে, তার সন্তুষ্টির জন্যই আমার সংসার পরিচালনা করতে পারি।’

এখন প্রশ্ন হলো, এই দ্বিতীয় বিয়ের পর আবার যদি তাঁর গোনাহ থেকে বাঁচতে ইচ্ছে করে? তারপর আরো আরো…!? তখন!? এইতো শুরু হলো, চলতেই থাকবে গোনাহ থেকে বাঁচা আর আল্লাহর ঘাড়ে দোষ চাপানো। কোনোদিন বলবে, স্বপ্নে আদেশ পেয়েছে! গল্প শুরু হলো!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *