ঢাকা: বাংলাদেশে সড়ক, রেল, পানি, আকাশ কোনো পথেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা না, এটা তাদের মৌলিক অধিকার।
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে যাত্রী আহতের ঘটনা এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, বরং একটি ভয়ংকর অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে—এগুলো কি আমরা নিত্যদিনের ঘটনা হিসেবে মেনে নেবো?
কক্সবাজার রেললাইনে চলাচলকারী ট্রেনে প্রায়ই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
গত এক বছরে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত ট্রেনগুলোতে প্রায় ১৪৫ বার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৯ জন। আর শুধু কক্সবাজার রুটেই গত এক বছরে ৩৮টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়েছেন।
রেলপথের আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল, স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরি এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা—এই বিষয়গুলো এখনই নিশ্চিত করা জরুরি।
চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। চারটি দাঁত ভেঙে গেছে। চিন্তা করে দেখুন কতটা সজোরে এসে পাথর লেগেছে যে কাঁচা দাঁত ভেঙে গেছে!
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চকরিয়া অতিক্রমের সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
আহত দুই যাত্রী হলেন- মোহাম্মদ হিমেল আহমেদ (২৫) ও মোহাম্মদ আবু সাঈদ (৪০)। পাথরের আঘাতে হিমেল আহমেদের চারটি দাঁত ভেঙে গেছে। ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন আবু সাঈদ।
দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রা বিরতিতে আহত যাত্রীদের চিকিৎসা দেওয়ার পর ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একটি পৈশাচিক বর্বরতা। এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি এক চরম বিকৃত মানসিকতা ও অমানবিক বর্বরতা।
ট্রেনের জানালায় বসা কোনো নিরপরাধ যাত্রীর দিকে লক্ষ্য করে যখন পাথর ছোড়া হয়, তখন ট্রেনের তীব্রগতিবেগের কারণে সেই পাথর বুলেটের মতো এসে আঘাত হানে।
এর ফলে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হচ্ছে, কেউ দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছে, এমনকি অনেকের প্রাণহানিও ঘটছে।
দেশটি এখন পৈশাচিক আনন্দ পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যেহেতু কোনো অন্যায়ের শাস্তি হয়না, তাই উপর্যুপরি বেড়ে চলেছে অন্যায়।
একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কখনোই অন্যের জীবন বিপন্ন করে আনন্দ পেতে পারে না।
