ঢাকা: রামিসা হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হবে না। হয়েছে আগের ঘটনাগুলোর বিচার?

এক একটা ঘটনা ঘটে, দুই চারদিন হৈ হুল্লোড় হয়, শেষ! সরকার চাইলে সব করতে পারে। কিন্তু করে না।

এইযে শিশুগুলোকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে ,টকশোতে আলোচনা আছে? নারীবাদীদের বিবৃতি আছে? তথাকথিত সুশীল বুদ্ধিজীবীদের কলাম আছে?

নারীবাদীরা রামিসাকে নারী মনে করে না। বিবেকবান অনেক মানুষ এই নিয়ে প্রতিবাদও করছে না।

সোশ্যাল মিডিয়াতে দু-একজন যারা বলাবলি করছেন, তাঁরা সবাই নিম্ন-মধ্যবিত্ত, গরিব। তারাই সেই দুঃখটা অনুভব করতে পারে।

নির্বাচন হয়ে গেছে, ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে স্টেবল পজিশনে সবাই চলে গেছে, তাই রামিসার হত্যাকাণ্ডে রাস্তায় কাউকে পাবেন না।

বা রাস্তায় নেমেও কোনো কাজ হয় না‌। রাষ্ট্রের ব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে। জঘন্য! কোনো বিচার নেই।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা। শিশুটির ওপর চালানো নৃশংসতার বর্ণনা দেয় ঘাতক।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল জানায়- মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ছোট্ট শিশু রামিসা।

এদিকে, শিশুটির মা সোহেলের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে ফেলে।

দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে রাখে। এবং ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিল। একপর্যায়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলেও জবানবন্দিতে জানায় ঘাতক। জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না তার।

শিশু রামিসাকে (৮) মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় দাফন করা হয়েছে।

বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরে মশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার রাত ৭টার দিকে থানারপুল এলাকার ‘অঙ্কুরিত যুদ্ধ-৭১’ ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে মশাল মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *