রংপুর: রংপুরের একই পরিবারের চারজন নিরীহ হিন্দু মানুষকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরো মানবতাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
এবং সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, কীভাবে খুন হয়েছে, কারা খুন করেছে, মা মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে, ১৩ বছরের ছেলেটির লিঙ্গ কর্তন করা হয়েছে এইসব বিষয় লুকিয়ে ফেলেছে সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন। কী লাভ তাদের?
বড় লজ্জার এবং জঘন্য বিষয় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত! তদন্তের নামে যে চরম ‘হযবরল’ ও দায়সারা নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে, তা স্পষ্টতই খুনিদের বাঁচানোর এক নগ্ন চেষ্টা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনাটি নব্য জেএমবিরা ঘটাতে পারে। অথবা শাসক দলের চাঁদাবাজরা খুনী ভাড়া করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে, জায়গা দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তাঁরা। আর সেজন্যেই পরিবারের শেষ সম্বল ছোট ছেলেটিকেও ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করেছে।
আর এই চারজন তো শেষই, সেই সাথে আরো দুটো হিন্দু পরিবারের ছেলেকে কারাগারে নিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। তাঁদের পরিবার, মা বাবার নিরাপত্তা নিয়েও জনগণ শঙ্কিত এই মুহূর্তে।
এবং শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশে যারা থাকেন, সেই প্রতিবেশীরা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁরা পরিষ্কার বলছেন, আমরা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছি কারণ মুখ খুললে পরবর্তী শিকার আমরাও হতে পারি।
আর এই ঘটনায় পুলিশের মায়া কান্না তো আরো রং ঢেলেছে।
তাঁরা এই কথাও স্বীকার করেননি যে আগামী চক্রবর্তী এবং তাঁর মাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ডোমের কথার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
তিনি বলছেন, তাঁদের দুইজনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাহলে পুলিশ কেন বললো না?
একটি পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পর এমন প্রহসনমূলক তদন্ত হাজির করার মূল অপরাধী তৎকালীন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ এবং আরেক কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী। এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পেশাদারিত্বের অবমাননা এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপরাধে এই দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত এবং আইনের আওতায় আনা উচিত ছিল।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রশাসন তাদের শাস্তির বদলে ‘বদলি’র মতো এক হাস্যকর পুরস্কার দিয়েছে! বদলি কোনো শাস্তি হতে পারে না। এটি নিছক জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার অপচেষ্টা এবং অপরাধীদের পুনর্বাসন করার শামিল।
রংপুরের নৃশংস ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে কান্না করা সেই পুলিশ কমিশনারের কথা মনে আছে?
গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী-র কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলো- “আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে যাচ্ছি। কারণ এই বয়সী আমার নিজেরও একটি ছেলে আছে।”
সেই পুলিশ কমিশনার ‘মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে’ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জরুরীভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি ‘মাহবুবুর রশীদ’।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পরই এই পরিবর্তন নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে এনেছে।
আর একজন প্রফেশনাল পুলিশ কোথাও এভাবে কাঁদে দেখেছেন? ৫ আগস্টে পুলিশ মেরে ঝুলিয়ে দেয়ার পরেও তো কাঁদেনি! আর এখন কোন কান্না? তদন্তের নামে হযবরল করে তিনি চোখের পানি ফেলেন! জোকার? নাহ! জোকার না! অতি চালাক।
এই ঘটনায় অবিলম্বে আবদুল মাবুদ এবং সনাতন চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার দাবি উঠেছে।
রংপুরের ৪ খুনের ঘটনার একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, জনগণের দাবি এটা।
জনগণের করের টাকায় চলা পুলিশ বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার এমন কলঙ্কজনক ভূমিকা পুরো বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
