ঢাকা: সাত মাসে প্রায় ১৫ হাজার শিশু গায়েব হয়ে গেছে। এই শিশুদের কিছু অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে বিস্তারিত কোনো কথা সরকার, প্রশাসনের মুখ থেকে জানা যায়নি।
শিশুগুলো যে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, ওদেরকে কে/কারা ধরছে? কে করছে এইসব? এই ব্যাপারে কোনো কথা বলছে না রাষ্ট্র। অভিভাবকরা তো মরে যাচ্ছে চিন্তায়।
‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’ বুকফাটা কান্নায় এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান ঝিনাইদহের হোশেন আলী।
তাঁর ১২ বছরের ছেলে মো. আলী দেড় মাস ধরে নিখোঁজ। সন্তানকে ফিরে পেতে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে তিন দিন ঘুরতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘জিরো মিসিং চিল্ড্রেন’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ জন।
এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেটের পাশে চা-পান বিক্রেতা শিশু মোঃ সাদ্দাম ইসলাম নিখোঁজ হয়ে গেছে হঠাৎ। তার বয়স ৮/১০ বছর হবে।
তার পরিবার পুরান ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নামাজ পড়ার জন্য বের হওয়ার পর থেকে এই শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় গেলো? কী ঘটলো? কিচ্ছু জানা নেই!
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নামাজ পড়ার কথা বলে বের হয় সাদ্দাম। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেন। পরে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানেও সন্ধান চালানো হয়। তবে কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, একটি সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, সাদ্দামকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের আশপাশে দেখা গেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাদ্দামের গায়ের রং ফর্সা এবং শারীরিক গঠন হেংলা।
তাদের পরিবার অনেক গরীব। পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের পাশে ছোট একটি দোকানে চা-পান বিক্রি করত সাদ্দাম।
সন্তানের খোঁজ না পেয়ে তার মা বলেন, “আমার এই সাদ্দাম ছাড়া কেউ নাই পৃথিবীতে। ওরে না পাইলে আমার পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে।”
সাদ্দামের সন্ধান পেলে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
