ঢাকা: বছরের হাজার বাধা, সংঘর্ষ, দ্বিধাদ্বন্দ্ব পেরিয়ে ফের এলো পয়লা বৈশাখ। বাঙালির প্রাণের উৎসব।
এই উৎসব অসাম্প্রদায়িক। জাত, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই অংশ নিতে পারেন, সবাই আনন্দ করতে পারেন।
এই পবিত্র দিনে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
তিনি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন:
“নতুন বছর আমাদের মাঝে মঙ্গল বয়ে আনুক, মুছে দিক যত জরা, ক্লেশ। বাংলাদেশের মানুষের জন্য এখন মুক্তি ভীষণ জরুরি।
প্রায় ২ বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর চলছে মৌলবাদ-সন্ত্রাস-মব-দখল-ধর্ষণ-খুনের বুলডোজার। দল-মত-শ্রেণী-বয়স-শিক্ষা নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষ আজও ভুগছে। ইউনুসের ক্ষমতা দখল আর সান্ধ্যকালীন নির্বাচন দিয়ে দেশকে মবের মুল্লুকে পরিণত করা হয়েছে।
একের পর এক সংকটে মানুষের জীবন হচ্ছে পর্যুদস্ত, কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্ব যারা নিয়েছে তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধিতেই মনোযোগী।
জ্বালানি সংকটে দেশের খেটে খাওয়া কৃষক থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প, পুরো দেশের অর্থনীতি ভুগছে। কিন্তু দায়িত্বশীলদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার মত মানসিকতার কারণে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ”।
তিনি আরো সমস্যার কথা এদিন তুলে ধরে বলেন, “দেশে তেল রিজার্ভ করে রাখার মত অবকাঠামো সম্পুর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় থাকার পরেও ব্যবহার না করে ফেলে রাখা শুধু মূর্খতাই নয়, বরং ইচ্ছে করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া।
মহেশখালী সিংগেল পয়েন্ট মুরিং সিস্টেম ব্যবহার করে যেমন তেল আমদানিতে সময় বাঁচতো ৯ দিন তেমনি তেল মজুদ রাখার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেত।
কিন্তু শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্মিত প্রকল্প হওয়ার কারণে দুই বছরেও প্রকল্পটিকে চালু করা হয়নি, বরং বসিয়ে রেখে ঋণের কিস্তি শোধ করা হচ্ছে যেখানে সুযোগ ছিল বছরে ৮০০ কোটি টাকা আয়ের”।
এবং তিনি উল্লেখ করেন বর্তমানে আরেক জ্বলন্ত সমস্যা হামের কথা। এই হামে কত শিশু মারা গিয়েছে। এর দায় কে নেবে?
জয় লেখেন, “এই সংকটের মাঝেই আরেকটি ভয়ংকর সংকট চলছে যার মূল শিকার আমাদের ছোট্ট শিশুরা। ২০২৫ সালে অবৈধ ইউনুস সরকার অর্ধেকেরও বেশি শিশুকে হামের টিকা না দেওয়ার কারণে এক বছরের মাথায় মাসখানেকের ব্যবধানে শত শত শিশু মারা গেলো।
এই দায় কার? আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টিকা দেওয়ার হার ছিল প্রায় শতভাগ। আর ২০২৫ সালে সেটা ছিল ৫৯%। ইউনুস সরকারের গাফিলতির কারণে প্রায় বিলুপ্ত এই রোগ আজ দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে।
একই সাথে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী বানোয়াট তথ্য দিয়ে বললেন গত ৮ বছর ধরে নাকি টিকা দেওয়া হয় নি। আজ পর্যন্ত হাম মহামারীকে নিয়ন্ত্রনে আনতে বর্তমান সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ।
এই সংকটের কারণে যত শিশু হামে মারা গিয়েছে এবং অসুস্থ হয়ে আছে সকল মৃত্যু ও লাঞ্ছনার দায় বর্তমান বিএনপি সরকার ও অবৈধ ইউনুস সরকারের। এই শিশু হত্যাকান্ডের জন্য মানুষ তাদেরকে কোন দিন ক্ষমা করবে না। এই হত্যাকান্ডের বিচারের মুখোমুখি একদিন তাদের হতেই হবে।
এখানেই সংকটের শেষ নয়। ২০২৪ এর আগস্ট থেকে শুরু হওয়া মব আক্রমণ এখনও বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরেছে তৌহিদী জনতা নামধারী উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীরা।
দেশে আইনের শাসন ইউনুসের আমলেও ছিল না, এখনও নেই। দেশ এখনও উগ্রবাদীদের দখলে। যে উগ্রবাদীরা ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমাহামলা করে ১০ জনকে হত্যা করলো, গত বছর পহেলা বৈশাখের সময় আতংক ছড়ালো, বাঙ্গালির ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি চালু করার চেষ্টা করলো, সেই উগ্রবাদীরা এখন আরো বেশি ক্ষমতাবান।
তাই সাধারণ মানুষের প্রতি আমার আহবান, উগ্রবাদ-মৌলবাদ-মববাদকে রুখে দাঁড়ান।
বাংলাদেশের মানুষের আজ ভয়শূন্য চিত্ত নেই, আমাদের শির আজ বিদেশি প্রভুর কাছে নত করে রাখা হয়েছে, আজ আমাদের জ্ঞান অবরুদ্ধ জঙ্গিদের কালো পতাকার তলে। এই অচলায়তন ভেঙ্গে ফেলতে হবে, মুছে ফেলতে হবে সে সব কিছু যা আমাদের স্বাধীনতাকে ও ইতিহাসকে নষ্ট করতে চায়।
আসুন স্লোগানে স্লোগান মেলাই, মৌলবাদীদের বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করি।আবারও শুভ নববর্ষ”।
