রাঙামাটি: রাঙামাটির সাজেক উত্তপ্ত, স্তব্ধ! চার দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের অবরোধে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে রাঙামাটির সাজেক।
পিসিজেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর ক্ষমতার লড়াই
সাজেকের এই চলমান অশান্তির পেছনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর মধ্যকার গভীর ক্ষমতার লড়াইকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সাজেকের সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন— লংগদু কার্বারি হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কল্যাণমিত্র চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি ভবতোষ দেওয়ান ও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।
কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করে শান্তি বিজয় চাকমা বলেছেন, ‘প্রশাসন ও দুই এমপি মিলে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। প্রশাসনসহ সাজেকের হেডম্যান-কার্বারিদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে কবে সভা হবে, তা এখনও জানানো হয়নি। সময় হলে আমাদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে মিটিংয়ে বলা হয়েছে।’
পর্যটকশূন্য জনপ্রিয় রুইলুই পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ হয়ে রয়েছে যান চলাচল; সড়কে সড়কে চলছে পিকেটিং।
পর্যটনকেন্দ্রের বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি গম্ভীর।
এই অবস্থায় সংকট নিরসনে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সাজেকের সমস্যা সমাধানে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। তবে কবে নাগাদ অবরোধ প্রত্যাহার হবে, সেটা তো এখনও অনিশ্চিতই।
পর্যটক না থাকায় মনে হয় শ্মশান হয়ে রয়েছে সাজেকের জনপ্রিয় রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, সাজেকে এখন কোনো পর্যটক অবস্থান করছে না। তাই সব হোটেল-রিসোর্টের কর্মীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। রেস্তোরাঁগুলোতেও ক্রেতা নেই। অবরোধ কর্মসূচি চলছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে।
এটি এই দুই সংগঠনের ডাকা তৃতীয় দফার অবরোধ। তৃতীয় দফায় চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে অবরোধ কর্মসূচি।
অবরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘সাজেকের ১০ নম্বর, ১৪ কিলো ও হাজাছড়া এলাকায় পিকেটিং চলছে। সাজেক সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।’
তবে কোনোরকম অশান্তির ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
