ঢাকা: এমনিতেই শেখ হাসিনা ফিরবেন ঘোষণা দেয়ার পরে জামাত বিএনপির মাথার ঘাম পায়ে পড়ছে, এখন তো আরো উত্তাপ ছড়ালো আরেক ঘটনায়।
আওয়ামী লীগের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে নতুন, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের কাছে আবেদন করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবীরা।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়াজরিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন শেখ হাসিনা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ম্যাট্রিক্স চেম্বার্সের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী জানতে পারা গিয়েছে, জাতিসংঘের তিনজন বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো যোগাযোগপত্রে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দলটির অংশগ্রহণের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।
আর শেখ হাসিনা প্রথম থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে ইউনূসের সময় থেকে।
শেখ হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তাঁর দাবি, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে আইনগতভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখলে জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও।
এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা আদালতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করতে চাইলেও তাঁদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে, ফলে সেই পথটাও কঠিন হচ্ছে।
তাঁর দাবি, এর ফলে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (ICCPR) চারটি ধারার লঙ্ঘন হয়েছে।
