মুন্সীগঞ্জ: দেশের হৃদয়টা খালি হয়ে যাচ্ছে। কিছু অপমানে, নির্যাতনে, আর মৃত্যু তো আছেই।
চলে গেলেন আরো এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা যার নেতৃত্বে বিক্রমপুরের মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন সেই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন চলে গেলেন না ফেরার দেশে ।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেইজে হাসিনার শোকবার্তাটি প্রকাশ করা হয়।
হুবহু তুলে ধরলাম শেখ হাসিনা যা বলেছেন:
“মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইনা লিল্লাহি … রাজিউন)। এই জননন্দিত রাজনীতিকের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।
একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরযোদ্ধা অ্যাড. ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে জগন্নাথ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি লৌহজং থানা মুক্তিবাহিনীর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এবং ঐতিহাসিক গোয়ালীমান্দ্রা সম্মুখ সমরে তাঁর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ওই অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর পতন ত্বরান্বিত করেছিল।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির প্রবীণ সদস্য অ্যাড. ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা, অসহযোগ থেকে মুক্তির সংগ্রাম এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও উদার গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর মতো দেশপ্রেমিক ও মহৎপ্রাণ রাজনীতিকের অভাব পূরণ হবার নয়।
দেশ ও মানুষের এই চরম প্রতিকূল সময়ে তাঁর মতো গণমানুষের নেতার আজকে খুব বেশি প্রয়োজন ছিল।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
আমি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি”। শেষে শেখ হাসিনা বলেন, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ”!
