ঢাকা: গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের চারজনকে হত্যা ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ যা শুরু করেছে, তা কোনো সভ্য দেশে করে বলে আমাদের মনে হয় না। চারজন হিন্দু তো খুন হয়েছেন, তাঁদের তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে খুনীকে বাঁচিয়ে, এখন আরো দুটো নিরীহ হিন্দু আরো দুটো পরিবারকেও ধ্বংস করেছে পরিকল্পিতভাবে।

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা এবং বড় ভাইকে আটক করা হয়।

এরপর প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিবি অফিসেও হিন্দুদের জামাই আদর করা হয় আজকাল সেটা দেখলো দেশবাসী! তাই ডিবি অফিসে গেলো সুস্থ মানুষ ফিরলো মাজা ভাঙ্গা!

সিদ্ধার্থের ভাইকে পুলিশে মারে টারে নাই। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর মাজা সোজা করে হাঁটতে পারছে না, এই আরকি!

ডিবি অফিসে গেলেন সিদ্ধার্থর বাবা এবং ভাই! স্টাম্পে সই দিয়ে জামিন পেলেন!!
ডিবি অফিসে গেলেন কত সুন্দর করে, সুস্থ মানুষ।

বের হওয়ার সময় সিদ্ধার্থর ভাইয়ের এই অবস্থা কেন!

রহস্য খুব জটিল” কে কার বিচার করছে। প্রকৃত অপরাধীরা বাংলাদেশের বুকে নিরাপদে বুক ফুলিয়ে হাঁটবে। আর নিরীহ মানুষদের তদন্তের নামে নির্যাতন নিপীড়ন করে তাদের মুখ বন্ধ করবে।

শনিবার বিকেলে নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস।

এই পার্থ দাস ই দেখে ফেলেছিলেন ছাদে মোটরের পানি ছেড়ে আলামত মুছতে। এখন বুঝতে পারছেন তো!?

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘চার খুন মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের বাবা এবং বড় ভাইকে আমরা বিকেলে এনেছিলাম। আমরা এর আগে তাদেরকে অনেকবার বলেছি, আমাদের অফিসে এসে তাদের সাক্ষাৎকারটা দেওয়ার জন্য, কিন্তু তারা কোনোভাবেই আসেননি। সেজন্য আমরা তাদের নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। আনার পরে আমরা তাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেছি। কিছু তথ্য আমরা তাদের কাছ থেকে পেয়েছি। এই বিষয়গুলো আমরা আবার যাচাই-বাছাই করব।’

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘তাদেরকে আমরা মুচলেকা সম্পাদন করে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেগুলো তারা জানিয়েছে, সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। আর পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে আবার তাদের আমরা ডাকব। তারা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ডাকলে আমাদের অফিসে তারা আসবেন।’

এদিকে যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সেন্ট্রাল রোডের কার্যালয় থেকে সিঁড়ি হয়ে তিনতলা থেকে নামার সময় পার্থ দাসকে তার বাবাসহ অন্য একজনের কাঁধে ভর করে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পার্থ দাস বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কিছু হয়নি, সুন্দর ব্যবহার করেছে। আমি বাড়িতে ভয়ে ছুটোছুটি করছি, ওই কারণে পায়ে কোমরে আঘাত লেগেছে। এজন্য খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছি। ডিবি অফিসে আমাদেরকে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।’

হয়তো তাঁকে এখন মুখ খুলতেই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *