ঢাকা: তীব্র দাবদাহে পুড়ছে স্পেন। গ্রীষ্মের দ্বিতীয় তাপপ্রবাহের মুখে পড়েছে স্পেন।
জানা গিয়েছে, বিস্তীর্ণ এলাকায় কমলা এবং হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গরম পড়বে আন্দালুসিয়া, গুয়াদালকিভির ও গুয়াদিয়ানা নদী উপত্যকা, এব্রো উপত্যকা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্তও উঠতে পারে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার ছিল সবচেয়ে উষ্ণ দিন। বলা হয়, বুধবার থেকে কিছু কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে যদিও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।
উল্লেখযোগ্য যে, জুন মাসের প্রথম তাপপ্রবাহে স্পেনে প্রায় ৯০০ মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটেছে।
কর্তৃপক্ষ জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, খোলা জায়গায় কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
ইউরোপের গরমের কিছু কিছু ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুনতে অবাক লাগলেও ইউরোপের একাধিক দেশে গরমে রাস্তা গলতে শুরু করেছে।
ভয়ঙ্কর তাপপ্রবাহে ইউরোপের অনেক শহরে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলেছে।
তীব্র গরমে জার্মানির লাইপজ়িগ ও ন্যুরেমবার্গে ট্রাম লাইনের চারপাশের রাস্তা গলে যাচ্ছে। পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
শুধু জার্মানি নয়, সুইৎজ়ারল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিভিন্ন রাস্তাতেও অতিরিক্ত গরমে রাস্তার উপরে বিটুমিনের স্তর নরম হয়ে গিয়ে উপরে উঠে আসছে।
ইউরোপজুড়ে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা এবার নতুন রেকর্ড গড়েছে। ফ্রান্সে কয়েক দিনের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর একটি শহরে সেটা সর্বোচ্চ ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিই হয়তো ইউরোপের নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ)-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ইউরোপে এ ধরনের তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা ২০০৩ সালের তুলনায় কয়েক দশক থেকে কয়েকশ গুণ বেশি। আর ৫০ বছর আগে এমন তাপপ্রবাহ একেবারে অকল্পনীয় ছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক ড. হ্যান্স ক্লুগে সতর্ক করে বলেছেন, উষ্ণায়নের কারণে তাপে মৃত্যুর ঘটনা ভবিষ্যতেও ইউরোপে নিয়মিত দেখা যাবে।
