ঢাকা: বাংলাদেশটায় কত যে আজগুবি ঘটনা ঘটে, তার হদিশ পাওয়া যায় না।
বিএনপি নেতা ইশরাক যা করেছেন, তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরাসরি পিস্তল বের করে পুলিশি কায়দায় অভিযান চালিয়েছে।
পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া এধরণের অধিকার বাংলাদেশের আইন কাউকে দেয়নি। এই অপরাধে তার বেশ কয়েক বছর জেল, জরিমানা এবং পিস্তলের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু বিএনপি তাদের পোষা এই আজব প্রাণীটিকে যে কিছুই করবেনা, তা নিশ্চিত থাকুন।
আরে এই দেশে ক্ষমতা থাকলেই আইন ভাঙার যায়, এগুলো কোনো বিষয় নয়।
এবার আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তাঁর দাবি, নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি।
ওমা ভিডিও দেখে কী তাই মনে হয়েছে?
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই নাকি অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে নাকি বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে মনে হয়েছে তাঁর।
বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন।
গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
মাদক কারবারিদের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়ার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে নেওয়া উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবেই গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় যান তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।
মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল।
তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খোদ এলো না কেন?
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে নাকি এগিয়ে আসেন। এই পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা থেকে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
