ঢাকা: জুতাপেটা করলেই ফুয়াদরা ঠিক হবে মনে হয়? জামাতি, পাকিস্তানি ফুয়াদদের চামড়া মোটা। এরা ঠিক হয়ওনি, হবেও না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন ফুয়াদ।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তার ব্যঙ্গচিত্রে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রতিবাদকারীরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে ব্যারিস্টার ফুয়াদের একটি ব্যঙ্গচিত্র স্থাপন করা হয়।
ব্যঙ্গচিত্রটির গলায় “I AM PERVERT” লেখা একটি প্ল্যাকার্ড ঝুলানো হয় এবং তার শরীরে জুতা ঝুলিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানো হয়।
এর পাশাপাশি কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে ফুয়াদের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনামূলক বার্তা প্রদর্শন করা হয়। সেগুলো তার পাশেই রাখা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের অবমাননাকর এবং নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এর অংশ হিসেবেই বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এবি পার্টির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের প্রতিকৃতিতে জুতা দিয়ে আঘাত করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফুয়াদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলার সময় শিক্ষার্থীরা ‘ঢাবির অপমান, সইবে না রে ছাত্রসমাজ‘শিক্ষা-দীক্ষার ঢাবি নিয়ে কটূক্তি কেন?’স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও যৌক্তিক আন্দোলনের সূতিকাগার। এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কোনো ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য মেনে নেওয়া হবে না।
তারা অনতিবিলম্বে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে তাঁর বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখযোগ্য যে, বুধবার (১ জুলাই) ডাকসু ভবনে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে ফ্যাসিস্ট, ক্রিমিনাল, টাউট-বাটপার তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়”।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন করে দেওয়া হলে দেশের কী ক্ষতি হবে?”
তার এসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অন্যতম কেন্দ্র। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিও অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।
