ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ঘটনাটি ইতিমধ্যে দেশে আলোড়ন তুলেছে। মাঝে মাঝেই আমরা এই ধরনের ঘটনাগুলোর সাক্ষী থাকি।

বিষয়গুলো সমাধান হয় না। হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের তো দেখতে হবে, তার সামনে যারা বসে আছে, তাঁরা আদৌ তাঁর ক্লাসের শিক্ষার্থী কিনা! নাকি ছাত্রের জায়গায় কোনো হামলাকারী, কিংবা অন্য কেউ বসে আছে!?

ঐ শিক্ষক বলেছিলেন, মুখ না দেখলে তিনি শিক্ষার্থীকে চিনতে পারছেন না। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই পোশাক তাঁর বিশ্বাসের অংশ। দুজনের কথাই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তাহলে মীমাংসা করবে কে? এইরকম ঘটনা এবার প্রথম নয়, আগেও ঘটেছে। এবং তীব্র তর্ক বিতর্ক চলেছে।

ঘটনা ৭ অক্টোবরের। তাসনিম সিরাজ মাহবুব এক ছাত্রীর নিকাব নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষকের ভাষ্য, পুরো মুখ ঢাকা থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না, চোখে চোখ রেখে পড়ানোও কঠিন হচ্ছিল। তিনি নিকাব খুলতে বা পোশাক বদলাতে বলেননি। কথা ছিল শুধু চেনার অসুবিধা নিয়ে। ছাত্রী ক্লাস ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করতেও চেয়েছিলেন।

তবে ছাত্রীর বয়ান ছিলো অন্য রকম। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষক বলেছেন ওই ছাত্রী সামনে বসে থাকলে তিনি অস্বস্তি ও অনিরাপদ বোধ করেন, তাই তাঁকে ভিড়ের মধ্যে গিয়ে বসতে হবে। ছাত্রী আরও বলছেন, এটা এক দিনের ঘটনা নয়।

আগেও তাঁর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি নিকাব খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি অফিস আওয়ারে দেখা করে পরিচয়পত্র দেখানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবু আপত্তি থামেনি। আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ আরও গুরুতর।

তাঁর দাবি, শিক্ষক ওই ছাত্রীকে ‘জ/ঙ্গি’ বলেছেন, এগুলোও অভিযোগ, প্রমাণিত সত্য নয়।

তবে সবকিছুরই নিয়ম আছে। ক্লাসে কে বসে আছেন, হাজিরা কার, পরীক্ষা কে দিচ্ছেন, শিক্ষককে তা অবশ্যই জানতে হবে। নিকাব পরা অনেককে চেনা কঠিন। এই অসুবিধার কথা বলা মানেই ধর্মবিদ্বেষ নয়।

ধর্মবিদ্বেষ কাকে বলে, আর আপত্তি কাকে বলে এখন বাঙ্গুরা ঠিক করতে পারে না।

এবার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে লাল কার্ড দেখালেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁরা এই প্রতিবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের কথা অনুযায়ী, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘Red Card to Racist, Classist and Hypocrite’ এবং ‘Red Card to Those Who Support Discrimination, Humiliation and Bullying’।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এসব আচরণকে সমর্থনকারীদেরও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।

উল্লেখযোগ্য যে, ঘটনার পরের দিন, ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেয়।

মূলত, বিশ্ববিদ্যালয়ে পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থী অপমানিত হবেন না, এটা যেমন জরুরি, অভিযোগ উঠলেই কোনো শিক্ষক বিচারের আগে সাজা পাবেন না, এটাও তেমন জরুরি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *