Oplus_131072

ঢাকা: তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে খুলে গেলো সুন্দরবন। এ বছর তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ থাকায়, জীবিকা নির্বাহের জন্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে আয়ের বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। তাঁদের অনেকটাই কষ্ট হয়ে যায়।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার পর্যটক ও বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য এটি ফের খুলে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় হচ্ছে, সুন্দরবন খুলে দেওয়ায় জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবার স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।

যেহেতু বন খুলেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন নদীবন্দর ও জেলেপল্লীগুলোতে বেশ কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেলো।

জেলেরা ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন, পুরনো নৌকায় আলকাতরা লাগাচ্ছেন এবং ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। কাঁকড়া সংগ্রহের জন্য সরঞ্জামও প্রস্তুত করছেন তাঁরা।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে; বিশেষ করে বনকেন্দ্রিক অপরাধীদের দ্বারা চাঁদাবাজি, হয়রানি ও অপহরণের আশঙ্কার বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলছে।

তবে বনের দুয়ার উন্মুক্ত হলেও সবাই সব জায়গায় ইচ্ছেমতো যাতায়াত করতে পারবেন না। বন বিভাগের পাস বা অনুমতিপত্র নিয়ে নির্দিষ্ট পথ ও নির্ধারিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাওয়া যাবে। তবে সংরক্ষিত কিছু বিশেষ এলাকায় প্রবেশের জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হবে।

খুলনা বিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হাসানুর রহমান জানিয়েছেন, তিন মাস সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের গাছগাছালিগুলো বেড়েছে। হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির সংখ্যাও বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বেড়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *