Oplus_131072

ঢাকা: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ! আর ২০২৬ সালে অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের ৫৫ বছর পর পাকি- অভিশাপ থেকে মুক্ত হলেন মন্নাস আলী।

বাংলাদেশও নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধ- বিরোধীদের কবল থেকে মুক্ত হবে।

মন্নাস আলী যেনো বাংলাদেশের এক বাস্তব চিত্র। স্বাধীনতার পরও ৫৫ বছর তিনি পাকবাহিনীর বুলেটের অসহনীয় কষ্ট নিজের শরীরে বয়ে বেরিয়েছেন।

বাংলাদেশও ৫৫ বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছে পাকবাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদর আলশাম্‌স ও এদের বংশধদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্র। এখন তো এই মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরাই এই দেশের হর্তাকর্তা! তাঁদের ইশারায় আইন চলে, দেশ চলে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর মন্নাস আলীর পাক-অভিশাপমুক্তির ঘটনাটি যেনো দেশবাসীর জন্য একটি বার্তা, একটি পূর্বাভাস।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শরীরে বিদ্ধ হওয়া পাকিস্তানি মিলিটারির একটি গুলি দীর্ঘ ৫৫ বছর পর অপসারণ করা হয়েছে মন্নাস

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মন্নাস আলী (৭৫) র শরীর থেকে এই গুলিটি বের করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় সফলভাবে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

মন্নাস আলী দুর্গাপুরের গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামের বাসিন্দা।

১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি মিলিটারিদের একটি ক্যাম্প ছিল। গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে তিনজন পাকিস্তানি সেনা নিহতের জেরে তৎকালীন মিলিটারিরা আশপাশের গ্রামে নারকীয় তাণ্ডব চালায়।

ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে এবং নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়। সেই সময় পালানোর সময় একটি গুলি মন্নাস আলীর পেটে গুলিবিদ্ধ হয়।

চরম দারিদ্র্যের কারণে মন্নাস আলী এত বছর সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেননি। শরীরে সেই গুলি নিয়েই পার করেছেন জীবনের দীর্ঘ সময়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি আলোচনায় এলে চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।

মন্নাস আলীর পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, “বাবা সব সময় বলতেন তার শরীরে গুলি আছে। তিনি বলতেন, মরে যাওয়ার পর যেন গুলি বের না করে তাকে দাফন করা হয়। আজ চোখের সামনে সেই গুলিটি দেখে আমরা বিশ্বাসই করতে পারছি না যে দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান হলো।”

মন্নাস আলী সুস্থ আছেন এবং তাঁকে আরও তিন-চার দিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *