ঢাকা: দেশে ৮২ লক্ষ ব্যক্তিই মাদকাসক্ত বলে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এটা তো একটা সাধারণ ধারণা, এই সংখ্যা আরো বেশি হবে।
বাংলাদেশে মাদকাসক্তির সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।
মাদক শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৪.৮৮ শতাংশ।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পরিবার তো বটেই, তাছাড়াও আইন, সরকার যদি কঠোর না হয় তাহলে এইসব ঠেকানো কোনোমতেই সম্ভব না।
কারণ শুধু কার্য দেখলেই তো হবে না, এর পেছনের কারণ, উৎপত্তি দেখতে হবে।
সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলা করা সম্ভব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪. ৮৮ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জাতীয় পর্যায়ের এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে।
বিশেষ করে নতুন ধরনের সিনথেটিক এবং সেমি-সিনথেটিক মাদকের বিস্তারের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পাশাপাশি মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আইন দিয়ে মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
মাদক কারবারিরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। ফলে তাদের অবস্থা এখন ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মতো।
এই সংকট কাটাতে ডিএনসি কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পাশাপাশি মাদক আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা চলতি সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে।
ঢাকায় মাদকের ৮০ হাজার মামলা পেন্ডিং আছে এবং বিভিন্ন জেলায় আরো অনেক মামলা ঝুলছে। একথা নিজেই জানান তিনি।
এই বিপুল সংখ্যক মামলার বিচার প্রথাগতভাবে করা কঠিন মন্তব্য করে তিনি বলেন, মাদক মামলার বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি প্রথাগত আদালতেও এর বিচার কাজ চলবে।
