ঢাকা: প্রতি বছর ৮ মার্চ পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। তেমনি ঘুরেফিরে আজ এলো দিনটি।
এই দিনটি নারীদের সাফল্যকে সম্মান জানানোর দিন। সমাজ, রাজনীতি, বিজ্ঞান, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে নারীদের অবদান স্মরণ করা হয় এই দিনে।
একই সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার কথাও নতুন করে সামনে আসে।
তবে এই দেশে জাঁকজমক করে নারী দিবস পালন করতে দেখলে হাসি পায়। কার দিবস? কিসের দিবস?
যে দেশে নারীর যৌনাঙ্গ নিয়ে কুৎসিত ভাষায় স্লোগান দিলে সরকার ও লালবদর তাকে জাতীয় বীরের মর্যাদা দিয়ে ৩ দিন জাতীয় শোকদিবস পালন করে, জাতীয় কবির পাশে কবর দেয়…
যে দেশে সাত বছরের শিশুর যৌনাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত হয়, শ্বাসনালি কাটা হয়, রক্তাক্ত হয়, কাটা গলা নিয়ে বাঁচার জন্য জঙ্গলে দৌড়াতে হয় শিশুটাকে সে দেশে নারী দিবস পালন করাটা কেমন অসামাজিক মনে হয় না?
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ৫,১৯১টি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়, ২০২৪ সালে তা দাঁড়ায় ৪,৩৯৪টি। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রায় ৯,৯৭৭টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে—গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩ জন নারী বা শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব আরও উদ্বেগজনক।
২০২৫ সালে নারী ও শিশুদের ওপর ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৮৬ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২% বেশি। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল শিশু ও কিশোরী।
এছাড়া কিছু গবেষণা দেখাচ্ছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ৬,৩০৫টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের ৫৫%-এর বেশি ছিল ১৮ বছরের নিচে।
তবে এগুলো তো হিসাব। এর বাইরে কী ঘটনা নেই? কত ঘটনাই তো হিসাবে আসে না।
নারী দিবস পালন করে মনে হয় সব ব্যর্থতাকে ঢেকে দেয়া হচ্ছে।
” নারী দিবস ” কোন একটি দিন বিশেষভাবে নারীদের নিয়ে উৎসব পালন করার মানে হচ্ছে নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা ।
এই নারী দিবস নিয়ে কত স্লোগান, কত কী? কিন্তু পরিস্থিতি কী পাল্টায় একটুও? বরং সমাজ দিনে দিনে আরো ভয়ঙ্কর হচ্ছে!
নারী জন্মই যেন পাপ। সরকার যদি নারীর সাথে না থাকে, সেই দেশে, সমাজে নারীর এগিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ হবে না।
এখন আর নারী দিবসে কাব্য করতে ইচ্ছে করে না। মনে হয় ‘পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি ‘!
