ঢাকা: বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘সংকটজনক পর্যায়ে’ পৌঁছালে সেনাবাহিনীকে ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বৃহস্পতিবার তথা ১ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত ত্রৈমাসিক দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।
সেনাসদস্যদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্যও সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।
দরবারে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জেনারেল ওয়াকার। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অপরাধ দমনে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে বিশেষ যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।
তবে পরদিন সেনাবাহিনীর দরবারে এ ধরনের কোনো অভিযানের বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ পরিচালনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরেই ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ শুরু হয়েছিল। অভিযানটি চলেছিলো ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮৪ দিন।
অভিযানে প্রায় ৪০ হাজার সদস্যের যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার, দুই হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, প্রায় ৩০ হাজার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছিল।
এই অভিযান চলার সময় যৌথ বাহিনীর হেফাজতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মৃতের সংখ্যা ৬৫ বলা হয়েছে।
এসব মৃত্যুর বেশির ভাগের কারণ হিসেবে ‘হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া’ উল্লেখ করা হলেও তখন হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও ওঠে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা মনে করছেন যৌথ বাহিনীর সম্ভাব্য অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে।
বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কার কথা তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে।
