ঢাকা: মেয়ে শিশুরা না নিজের ঘরে নিরাপত্তা পাচ্ছে, না স্কুলে, না মাদ্রাসায়, না রাস্তাঘাটে, এমনকি এখন হাসপাতালেও মেয়েদের ধর্ষণ করা হচ্ছে! ভাবা যায়? লাশঘরেও ধর্ষণ হচ্ছে, কবরেও হচ্ছে আর কোথায় বাকি? মেয়েরা জীবিত অবস্থায় তো নিরাপদ নয়ই ধর্ষক পুরুষদের কাছে, মরার পরে কবরেও নিরাপদ নয়।

এই দেশটা, এই সোনার বাংলায় ধীরে ধীরে পচন ধরেছে। কেন এমন হলো পরিবেশটা দেশের?

যদি বিজ্ঞান শিক্ষা, ঘরে মূল্যবোধ শিক্ষা, বাবা মায়ের সুশিক্ষা থাকতো তাহলে কি এই অবস্থা হতো দেশটার?

বলছি না ঘরে অভিভাবকরা শিক্ষা দেন না, তবে অধিকাংশ শিক্ষা মূল্যবোধ শিক্ষা নয়। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ছেলে মেয়েদের এখন ভিডিও বানানো, দুর্নীতি, ঠকিয়ে খাওয়া এইসবের শিক্ষা দেয়া হয়। কেউ কেউ হয়তো তেড়ে আসবেন! কিন্তু এটাই সত্যি।

এই যে লেবাসধারীরা ধর্ষণ করছে ছেলে মেয়ে সবাইকে- এদের কোনো শাস্তি হচ্ছে না। আজ একটা দোষ করে শাস্তি না পেলে পরের দিন সেই দোষের মাত্রা আরো বাড়ছে।

এখন দাড়ি টুপিওয়ালাদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই ‘ইসলামবিরোধী’ তকমা লাগিয়ে দেয়া হয়। হয়তো সে যদি মুসলমান হয়, তাঁকে বলা হবে আওয়ামী লীগ বা ভারতের দালাল। আর হিন্দু হলে তো কতলই করে ফেলা হবে।

তাই ইসলাম বিরোধী কেউ হতে চায় না। মাথা পেতে সব গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ তকমা কেন দেয় তাও বুঝে আসে না।

আওয়ামী লীগই তো দাড়ি টুপিওয়ালাদের প্রশ্রয় দিয়েছে। শেখ হাসিনার সময়েই তো মৌলবাদীরা দারুণ অবস্থায় ছিলো। ছিলো না? তাদের পেলেপুষে রেখেছিলেন, এখন তারাই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

ডেমরার ঘটনা শুনলে শিউরে উঠবেন। রাজধানীর ডেমরায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে একটি মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে সেই হাসপাতালেরই ওয়ার্ড বয়।

এই ঘটনার একটি ভিডিও চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা অভিযুক্ত নুর নবীকে (২০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

শুক্রবার দিবাগত রাতে ডেমরা থানায় ভুক্তভোগীর বাবা নুর নবীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওইদিন বিকালে সারুলিয়া শামসুল হক জেনারেল হাসপাতালে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

নুর নবী শামসুল হক জেনারেল হাসপাতালেই ওয়ার্ড বয় হিসেবে কাজ করতো।

ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, মানুষের এত বড় নৈতিক অবক্ষয় কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আর হাসপাতালে আড়াই বছরের একটি মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা কিছুতেই ছাড় দেওয়া যাবে না। তাই ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলায় আটক নুর নবীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *