ঢাকা: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে বসছে পানির ফোয়ারা!

মুক্তিযুদ্ধের এই ঐতিহাসিক স্থানে ভাস্কর্যের বদলে ফোয়ারা — এ সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

৭১ কী তাহলে একেবারেই ধুয়েমুছে সাফ ফোয়ারার পানিতে? ৭১ মিথ্যা, ২৪ এর আন্দোলন সত্য?

এখানে কী কোনো দ্বিমত আছে যে একাত্তর মুছে দিতেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের স্থানে পানির ফোয়ারা বসানো হয়নি!?

২০২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে তো দেশটা জঙ্গীরাই পরিচালনা করছে, মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন, ৭১ এর পক্ষের শক্তি, জনগণকে অত্যাচার, মুক্তিযুদ্ধকেও অস্বীকার করা হচ্ছে।

এবার হয়তো ফোয়ারার পানিতে পুরোপুরি মুছেই ফেলা হলো ৭১!

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের দুই গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নের স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করে পানির ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এক পাশে ৭ মার্চ ১৯৭১-এর ঐতিহাসিক ভাষণের স্থান, অন্য পাশে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান—এই দুই স্থানকে দৃশ্যমানভাবে চিহ্নিত করতে যে ভাস্কর্য নির্মাণের কথা ছিল, সেখানে এখন ওয়াটার ফাউন্টেইন (দারুণ মনোরঞ্জনের পানির ফোয়ারা) বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নথিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় এই দুই ঐতিহাসিক স্থানে ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা স্থাপন করে সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়টি নতুন নকশায় যুক্ত করা হচ্ছে।

যে মাটিতে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, যেখানে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল-সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।

এই ঐতিহাসিক স্থানে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের প্রস্তাবিত ভাস্কর্যের বদলে এখন পানির ফোয়ারা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং আমাদের গৌরবময় ইতিহাসকে অবমূল্যায়ন করার শামিল।

ইতিহাসের ভাষায় জায়গাটির পরিচয় খুব পরিষ্কার—এখানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। এখানে বাংলাদেশের বিজয়ের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় সম্পন্ন হয়েছিল।

সেটিকে একদম নস্যাৎ করা হলো। ইউনূসের অধরা কাজ বিএনপি সম্পন্ন করছে।

ফোয়ারার পানি কি ইতিহাসের স্মৃতিও ধুয়ে দিতে পারে?

আগামি প্রজন্ম কী শিখবে? ওরা দেশদ্রোহী হয়ে উঠলে এর দায় কে কাঁধে নেবে? এর দায় কী শুধু শিশুর হবে?

কাল কোনো শিশু হয়তো প্রশ্ন করবে—
—“এখানে কী হয়েছিল?”
গাইড বলবে—
—“এখানে পানি উঠত।”
শিশু আবার জিজ্ঞেস করবে—
—“না, তার আগে কী হয়েছিল?”
গাইড একটু থেমে বলবে—
—“আগের ইতিহাসটা একটু জটিল বাবা… পানি দেখো, খুব সুন্দর পানি!”

মনের কষ্টেই বললাম।

উল্লেখযোগ্য যে, ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পটি রিস্কোপিং ও রিপারপাসিং করে দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

প্রায় ৩৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপূর্ত অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করছে।

জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭৫ দশমিক ৯১%। নথিতে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি দেখানো হয়েছে ৯৪ শতাংশ।

আগের পরিকল্পনায় ৭ মার্চের ভাষণের জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে আত্মসমর্পণের দৃশ্যভিত্তিক ভাস্কর্য নির্মাণের কথা ছিল। এখন সেই পরিকল্পনা বদলে ফেলা হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *