ঢাকা: আজকাল অনেক নারীর মুখেই একটা কথা শোনা যায়, “শাড়ি পরতে পারি না, অনেক ঝামেলা!”
শুধু কথা না, আমাদের দেশে আসলে শাড়ি পরাটাকে হিন্দুয়ানী বলা হয়। কট্টরপন্থীরা ধর্মের সাথে যখন বাঙালির সংস্কৃতি মিলিয়ে হুঙ্কার দেয়, সেটা জঙ্গীপনা।
শাড়ি হিন্দুয়ানী না, শাড়ি বাঙালি নারীর সম্পদ। এখন তো সম্পদ হয়েছে বোরখা।
আবার অনেকের কাছে শাড়ি আধুনিক জীবনের সঙ্গে বেমানান কোনো পুরোনো জিনিস!
মজার ব্যাপার হলো, আমাদের ঘরের মা, দাদী, নানী, চাচি, তাঁরা তো এই ‘ঝামেলার’ শাড়ি পরেই জীবনের বেশিরভাগটা পার করে দিয়েছেন।
সংসার করেছেন, রান্না করেছেন, সন্তান মানুষ করেছেন, মাঠে-ঘাটে কাজ করেছেন, সবই করেছেন শাড়ি সামলে।
বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, একাত্তরের দিনগুলোতে পাকিস্তানি আর্মির ধাওয়া খেয়ে কীভাবে তাঁরা শাড়ি সামলে ইউনিভার্সিটির আমতলা বা মেডিকেল এলাকা থেকে জীবন বাঁচাতে দৌড়েছেন।।
ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, নারীরা শাড়ি পরেই রাজপথে নেমেছেন, আন্দোলন করেছেন, এমনকি কাঁধে রাইফেল তুলে যুদ্ধও করেছেন।
গুণী অভিনেত্রী দিলারা জামান সম্প্রতি শাড়ি নিয়ে তাঁর অনুভূতির কথা শেয়ার করতে গিয়ে দারুণ একটি স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন—
”টেস্ট পরীক্ষা দেওয়ার সময় যে শাড়ি পরা শুরু করেছি, সেই শাড়ি এখনো পরে যাচ্ছি। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাড়া করলে শাড়ি গুঁজে দৌড়াতাম। তারা কখনোই আমাদের খুঁজে পেত না! আর এখন যখন কেউ বলে শাড়ি পরে কাজ করা যায় না, তখন আমি হাসি।”
এখন প্রশ্ন হলো, যে পোশাক পরে নারীরা যুদ্ধের ময়দানে যেতে পেরেছেন, সেই পোশাক পরে আজ কয়েক ঘণ্টা চলাফেরা করাই কি সত্যিই এত বড় ঝামেলা?
“শাড়ি পরে কাজ করা যায় না”—এই ধারণাকে ৮০ পেরিয়েও নিজের জীবন দিয়েই ভুল প্রমাণ করে চলেছেন দিলারা জামান!
ভাবা যায়? আজকের সময়ে আমরা অনেকেই মনে করি, শাড়ি পরে কর্পোরেট কাজ করা কিংবা ব্যস্ত জীবনের নানা দায়িত্ব সামলানো কঠিন। অথচ আমাদের অগ্রজ নারীরা শাড়ি পরেই আন্দোলন করেছেন, পথে নেমেছেন, কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন।
শাড়ি তাদের কাছে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি; বরং বাঙালি নারীর পরিচয়, ঐতিহ্য আর আত্মবিশ্বাসেরই এক অনন্য প্রতীক হয়ে থেকেছে।
৮০ পেরিয়েও অভিনয়জীবন ও পোশাকে বাঙালি ঐতিহ্যকে এত সুন্দরভাবে ধারণ করে চলেছেন দিলারা।
