ঢাকা: রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হয়েছে।
রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালত অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এবং সাথে অর্থদণ্ড।
ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত, বিচার কার্যক্রম এবং রায় ঘোষণার মাধ্যমে মামলাটি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
একটি শিশুর প্রতি এমন নৃশংস অপরাধ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজের প্রত্যাশা—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে যেন এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।
তবে রামিসার মতো বাকি শিশুদের বিচার কবে হবে? বাকি নারীদের কবে বিচার হবে? আবার বলবেন না যেন, রামিসার বিচার তাড়াতাড়ি হওয়ায় আমরা অখুশি। এটাই তো চাই! তবে আরো যে শিশুগুলো দুনিয়ার কিছু বুঝে ওঠার আগেই চলে গিয়েছে তাদের বিচারের দায়িত্বও আছে এই রাষ্ট্রের!
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি তো জানতেন না যে বাংলাদেশের নারী, বাংলাদেশের শিশুরা কতটুকু নিরাপদ? এখন তো জেনেছেন, দেখছেন, বিচার করুন সব অপরাধীর!
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে সেই রাষ্ট্র সর্বদিকে পিছিয়ে থাকে!
রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা হান্নান মোল্লা।
রবিবার (৭ জুন) শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলায় অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনা করে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
তবে রায় দ্রুত কার্যকরের কথাও তিনি বলেছেন!
আদালত প্রাঙ্গণে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। এই রায়ে আমাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা মিটবে। রায়ে আমি শতভাগ খুশি হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সময়ের মধ্যেই আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। যত দ্রুত রায় কার্যকর চাই।’
তিনি আরও বলেন, বিচারপতি, পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ দেশের সব মানুষ যারা আমার এবং আমার পরিবারের বিপদের সময়ে পাশে ছিলেন আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
এদিন, সকাল থেকেই আদালতে উত্তেজনা ছিলো এদিন। আইনজীবী, সাংবাদিক, জনতা, পুলিশে ভরে যায়।
আজ আসামি সোহেলকে ‘ডলার’ নামে কথিত সেই ব্যক্তি নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।
আসামি সোহেলকে কাঠগড়ায় দেখা যায় পেছনে হাতকড়া লাগিয়ে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়াতে। আজও তার চোখে মুখে ভয়, চিন্তার কোনো লেশমাত্র নেই। ঠান্ডা মাথার একজন খুনি।
১১ টা ৩৬ মিনিটের দিকে বিচারক ঘোষণা দিলেন, সোহেল আর স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো। ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে বলা হয়।
