ঢাকা: এক একটা নৃশংস ঘটনা দেখে মনে হয় দেশের সমাজটা একদম পচে গিয়েছে। এখানে কী ভয়ঙ্করভাবে নারীবিদ্বেষ বাড়ছে, আর তা থেকে বাড়ছে ধর্ষণ, খুন। নারীদের নরকের কীটের চাইতেও খারাপ নজরে দেখা হয়।
শুধু তাই না, দেশে হিন্দু বিদ্বেষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
নারীর প্রতি পুরুষের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং বিদ্বেষ বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ; বিষাক্ত পুরুষতন্ত্র, চরম শ্রেষ্ঠবাদিতা, উগ্র মৌলবাদের বিস্তার, নারীবিদ্বেষী চর্চার বিস্তৃতি ইত্যাদি।
এ রকমের বিদ্বেষের কারণেই পুরুষ নারীর স্বাধিকার কেড়ে নিতে চায়, তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, রোধ করতে চায় নারীকণ্ঠ, সীমিত করতে চায় তার স্বাধীন সত্তা এবং আত্মপরিচয়।
নারীবাদী লেখক তসলিমা নাসরিন বরাবর পুরুষতন্ত্র, হিন্দু নির্যাতন নিয়ে কথা বলেন, প্রতিবাদ করেন।
এবারো দেশের নারীদের নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা নিয়ে লিখেছেন।
ফেসবুকে তিনি লেখেন:
“বাংলাদেশে নারীবিদ্বেষীদের মধ্যে নারীকে বেঁচে থাকতে হয়। হিন্দুবিদ্বেষীদের মধ্যে হিন্দুকে বেঁচে থাকতে হয়। রাস্তা-ঘাটে, হাটে-মাঠে, অফিসে-আদালতে, গ্রামে-শহরে, জলে-স্থলে—কোথাও তাদের নিরাপত্তা নেই।
নারী হওয়ার কারণে নারী অনিরাপদ, সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে হিন্দু অনিরাপদ। একজনকে তার লিঙ্গের জন্য, অন্যজনকে তার ধর্মের জন্য বৈষম্য, নিপীড়ন আর সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁচতে হয়।
একটি সভ্য দেশে কারও লিঙ্গ বা ধর্ম তার ভয়ের কারণ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু যে অসভ্য সমাজে নারীবিদ্বেষ এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে , সেখানে নারী ও সংখ্যালঘু অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন কাটাতে বাধ্য হয় ।
আমি হিন্দু না হয়েও, শুধু নারী বলেই হিন্দুদের জীবন নিয়ে ‘লজ্জা’ আর ‘ফেরা’ লিখতে পেরেছি। নারী বলে আমি জানি অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতা কাকে বলে”।
