ঢাকা: জঙ্গী, মব মাস্টার, রক্তপিপাসু ইউনূস তাঁর কর্মফল ফেরত পাচ্ছেন। এটাই হওয়ার ছিলো। কারণ তরতাজা একটা দেশকে মেরে ফেলেছেন তিনি। ৮৫/৮৬ বছর বয়স হয়েছে, এখনো তাঁর অর্থের লোভ, ক্ষমতার লোভ কতখানি হতে পারে!

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্থা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সাফ বলেছেন, ‘এটা ঘটতেই থাকবে। আমার মনে হয়, এটা তো কেবল শুরু। সারা পৃথিবীতে এই ঘটনা ঘটবে—যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দেশের মঙ্গল না চাই।’

নিউ ইয়র্কের এক টকশোতে তিনি এই কথাগুলো কথা বলেন।

নেতা আরও বলেন, ‘ওনার (ড. ইউনূস) আজ যে পরিণতি ঘটেছে—এটা কিন্তু উনি যে ড. ইউনূস বা নোবেল লরিয়েট সে জন্য হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা, আওয়ামী লীগের যারা অনুসারী, উনি যে কর্মকাণ্ডটি গত দু’বছর করেছেন, তার ফল হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ বা অভিনন্দন জানানোর মতো অবস্থা তিনি করেননি। উনি অন্যায়ভাবে, অসাংবিধানিকভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন।

অসাংবিধানিকভাবে একটা নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছেন। তার নির্দেশে বাংলাদেশের যে বাড়িটাকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর, ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার সময়কালীন হাজারের মতো পুলিশ হত্যা করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। তাদেরকে ইনডেমনিটি দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি।

তার সময়কালে এক লাখেরও বেশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। এই সেই ব্যক্তি (ড. ইউনূস), যে দলটির নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই দলটির কার্যক্রম তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।’

ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে ছাত্র সংগঠনটি বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে হয়েছিল, সেই ছাত্র সংগঠনকে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এই সেই ব্যক্তি, যার ওপর আজকে ঘটনাটি ঘটেছে, নট নোবেল লরিয়েট, সারা পৃথিবীতে যাকে নিয়ে আমরা অনেকে গর্ব করি, তাকে না, ওই ব্যক্তিটি—যিনি এই কাজগুলো করেছেন।’

বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব যখন আসেন, তার আগেও আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম যে—যারা তার সফরসঙ্গী হিসেবে আসবেন এখানে, সাবধানতার সঙ্গে চলাফেরা করবেন। তার কারণ, আমার যে আক্রোশ আছে, আমার যে অভিমান আছে, আমার যে রাগ-বিরাগ রয়েছে এই সরকারের প্রতি, গত সরকারের প্রতি বা বিভিন্ন দলের প্রতি, সেটা তো আমার কন্ট্রোল করার কোনো ক্ষমতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে আমি এভাবে দোষারোপ করতে পারি না, এ ঘটনাটি ঘটেছে তার(ড. ইউনূস) কৃতকর্মের জন্য। রাজনীতিকভাবে কিন্তু এটাই হয়। যেহেতু বাংলাদেশে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, সেজন্য উনি তো মেন্টালি(মানসিক) টর্চারড হয়েছেন, উনি আমাদের ফিজিক্যালি টর্চার করেছেন, উনি নেতাদেরকে ফিজিক্যালি হত্যা করেছেন। উনি আমাদের দলীয় নেত্রীকে ফাঁসির হুকুম দিয়েছেন।

এমন কোনো কর্ম নেই যে করেননি। অতএব উনি আওয়ামী লীগ বা বঙ্গবন্ধুর আমরা যারা অনুসারী, তাদের কাছ থেকে ভালো মানের ব্যবহার পাওয়া উনার জন্য, এটা আমাদের ডিকশনারিতে নেই। আমরা যেখানেই পাবো, আমাদের নেতাকর্মীরা যেখানেই পাবে, সেখানেই তাদের আক্রোশ বা বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। এটা হলো—এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ। নাথিং এলস। এখানে এর চাইতে বেশি কিছু নেই, এটা ড. ইউনূস, অর্থাৎ নোবেল লরিয়েটকে অপমান করা হয়েছে তা না, এটা করা হয়েছে বাংলাদেশের যে মব কালচার শুরু হয়েছে, বাংলাদেশকে আজকে একটা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।’

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে যে অবস্থাটা বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে—আপনি একটা সর্ববৃহৎ দলে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে রেখে দেবেন, আপনি ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে রেখে দেবেন…।’

‘খুব একটা ভদ্র ভাষা না হলেও তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তুমি পুলিশ হত্যা করেছো, তুমি দুই লাখের মতো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে বন্দি করে রেখেছো। উনি(ড. ইউনূস) কিন্তু কোনো উত্তর দেননি। তুমি এই দেশের গণতন্ত্র, তুমি একটা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে একটা অসাংবিধানিক কাজ করেছো। এর বাইরে কিন্তু গালাগালি করেননি। কতগুলো প্রশ্ন উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।

আমার তো মনে হয় এটা একটা ভদ্রাচিতভাবে, আওয়ামী লীগ এভাবেই কাজ করে। অনেক কিছু করতে পারত।’

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘‘এটা আইনের দেশ (যুক্তরাষ্ট্র)। আইনের ভেতরেই আমরা থাকতে চাইবো। থাকা আমাদের উচিত।  যেটা বলছি—উনার ফিজিক্যাল কোনো টর্চার করা হয়নি। যতটুকু করা হয়েছে শুধুমাত্র মেন্টাল। এটা শুধু উনার জন্য নয়, উনার সময়ে যারা উপদেষ্টা ছিলেন,  যারা এই দেশটাকে ‘ধ্বংস’ ও ‘বিক্রি’ করে দিয়েছেন, তাদের সবারই পরিণতি ঘটবে।’’

‘গৃহযুদ্ধ ! আমাদের লাগবে না, ইনারাই…। দেশ যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে দেশে ওই পথ ছাড়া খুব একটা সোজা পথ নেই’—বলেন।

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসা প্রসঙ্গেও কথা বলেন। ‘ডিসেম্বরে কে যাবেন না যাবেন, সেটা ডিসেম্বরে দেখা যাবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আছে কি আছে না, সেটাও দেখা যাবে। মূল উত্তর আমি দিতে চাই—যে ঘটনাটি ঘটেছে এটা রিভেঞ্জ না, আমাদের ভাই মারা গেছেন, আমাদের বোন মারা গেছেন, আমার ছেলে মারা গেছে, আমার বাড়ি পুড়ে গেছে, আমার বাড়ি ধ্বংস করেছে, আমার ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে, আমার ছেলেমেয়েরা ইউনিভার্সিটিতে যেতে পারে না, কলেজে যেতে পারে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষক ছিলেন তারা চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন—তাদের আত্মীয়-স্বজন যারা এখানে আছেন, এটা তাদের রাগের বহিঃপ্রকাশ। এটা ঘটতেই থাকবে। আমার তো মনে হয়, আজকে কেবল শুরু এটা।

সারা পৃথিবীতে এই ঘটনা ঘটবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দেশের মঙ্গল না চাই। যেটা আমি তারেক রহমান সাহেব আসার সময় বলছিলাম যে, সর্ববৃহৎ দলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন। জেলে যারা আছেন তাদের বের করে দেন। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সবাইকে নিয়ে আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। তাহলেই হয়তো দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

তা না হলে এটা কেবল শুরু দেখতেছেন। এর শেষ যে কোথায় হবে সেটা আপনিও জানেন না। আমিও জানি না এবং এটা আপনার জন্যও ভালো হবে না, আমার জন্যও ভালো হবে না। কারও জন্যই ভালো হবে না।’

‘আমাদের দলকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী জেলে ভরে রেখেছে। আমাদের নেত্রীকে ফাঁসির রায় দিয়েছে। আজকে যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের জানাজা করতে দিচ্ছে না। তোফায়েল আহমেদ ভাইয়ের মতো মানুষকে সংসদ ভবনে জানাজা করতে দেয়া হয়নি। এগুলো নিয়ে অনেক ক্ষোভ তো আমাদের ভেতরে আছে। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তো ঘটবেই। কীভাবে কখন ঘটবে—সেটা আপনিও জানেন না। আমিও জানি না। তবে এটা ঘটতেই থাকবে’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *