বাংলাদেশ কি আবারো ইসলামী বোমাবাজ ও জঙ্গীবাদের ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে যাচ্ছে? এমনিতেই গত ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে আমেরিকান ডিপষ্টেট ও ‘নোবেল লরিয়েট’ ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে ইসলামী জঙ্গী ও সামরিক ক্যু এর কারনে জঙ্গীদের অবাধ বিচরণের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিককালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বোমা বিষ্ফোরণ ও শক্তিশালী বোমা-বিষ্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে নতুন করে আতংক তৈরী হচ্ছে।
রাজনৈতিক জঙ্গীবাদ বিশ্লেষকদের মতে এই বাংলাদেশ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক মোড়লদের নতুন খেলা শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ, প্রেশার কুকারের মধ্যে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার এবং ঢাকার মতিঝিল মেট্রো স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) বা শক্তিশালী বোমা উদ্ধার হয়েছে ও হচ্ছে।

ফলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, দেশে ইসলামী উগ্রবাদী ও জঙ্গী সংগঠনগুলো নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে।
পাশাপাশি এই গোষ্ঠীগুলো বড় ধরনের নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে। যদিও পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু বোমা-বিষ্ফোরক উদ্ধার ও সেগুলো নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।
একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায় যে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি (JMB), হরকাতুল জিহাদ (HuJI), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT) বা নব্য জেএমবি-র মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো তাদের সুপ্ত নেটওয়ার্ককে আবার সক্রিয় করার চেষ্টা করছে।
দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও নানা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব তথ্যই উঠে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছু আশঙ্কাজনক ঘটনা ঘটেছে যা জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মানে ৩০ জুলাই রাতে রাজধানীর উপকণ্ঠে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার চায়ের দোকানের সামনে থেকে একটি ‘শক্তিশালী বোমা’ উদ্ধার করা হয়।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী পরে তা নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল।
বোমাটি ছিল একটি প্রেশার কুকারের মধ্যে; সেটি উদ্ধারের কয়েকঘণ্টা আগে এক ব্যক্তি ওই প্রেশার কুকারটি ব্যাগের ভেতরে করে দোকানের সামনে ফেলে যান।
ওই দোকানদার পুলিশকে খবর দেয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে দোকানের সামনে থেকে বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।
বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি প্রেসার কুকারের ভেতর বিয়ারিংয়ের বল ও রাসায়নিক ঢুকিয়ে বোমাটি তৈরি করা হয়েছিল।
তাঁর ভাষ্য, “বোমাটি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।” ডিএমপির কাউন্টারিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চারাবাগ এলাকার একটি চায়ের দোকানে বোমাটি ফেলে যান এক ব্যক্তি, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি এখনো।
তিনি জানিয়েছেন, “রাত প্রায় ১ টার দিকে বম ডিসপোজাল ইউনিটে ওই বোমাটি নিষ্ক্রিয়করণের জন্য কল আসে। রাত ৩ টার দিকে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে।
এরপর শুক্রবার ভোর বেলায় পাশের একটি খালি মাঠে গর্ত খুঁড়ে, চারপাশে বালুর বস্তা চাপা দিয়ে বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।”
সবচেয়ে বড় আশংকা ও আতংকের বিষয় হলো- সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও বিস্ফোরণের কম্পনে একটি সীমানা দেওয়াল ধসে পড়ে বলে জানিয়েছেন বোম ডিসপোজাল ইউনিটের ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলছেন, প্রেসার কুকারের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক বিয়ারিংয়ের বল দিয়ে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে বোমাটি তৈরি করা হয়েছিল। বিস্ফোরক হিসেবে কোন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল তা পরীক্ষার পর বলা যাবে।
এর আগে গেল ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ‘পাইপ বোমা’ বা ছাতার মধ্যে ওই বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রা।

ওই বোমাটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে রাখা হয়েছিল।‘শক্তিশালী বোমাটি’ (আইইডি) নিষ্ক্রিয় করা হয় জানিয়ে পুলিশ বলেছিল, তাদের ধারণা সেটি পাতা হয়েছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রার পথ লক্ষ্য করে।
এই যে হিন্দুদের রথযাত্রা নিষিদ্ধ করা ও রথযাত্রা কোনভাবেই করতে না দেয়ার জন্য এদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত একশ্রেণীর উগ্র ইসলামী জঙ্গীবাদী লোক প্রকাশ্যে ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রচন্ড বিদ্বেষ থাকে এসব ভিডিওতে। কিন্তু পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলঅ রক্ষাকারি বাহিনী কখনোই এসব উগ্রবাদী চরম সাম্প্রদায়িক উষ্কানীদাতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা অত্যন্ত রহস্যজনক কারণে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা বলছেন-,যদি এসব জঙ্গীবাদী উষ্কানিদাতাদের গ্রেপ্তার ও তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো তাহলে আরো অনেক ভয়ংকর তথ্য বের হয়ে আসতো।
হয়তো বিষ্ফোরণ ঘটতো না বা এ ধরনের ভয়াবহ বিপদজনক বিষ্ফোরক বা বোমা পাওয়া যেতোনা।
জুলাই মাসের শুরুতে সাভারে টোকাই জঙ্গীদের সংগঠন বা রাজনৈতিক দল এনসিপি’র সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
তবে ধারনা করা হচ্ছে সেই ঘটনাটি এনসিপি নিজেরাই ঘটিয়েছিল তাদের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য। কারণ সারাদেশেই এনসিপি এখন ঘৃণিত দলে পরিণত হয়েছে। যেখানেই যাচ্ছে এনসিপি’র নেতারা সেখানেই প্রতিরোধ ও হামলার শিকার হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার “উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা” ভবনে এই ভয়াবহ বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণে মাদ্রাসার একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল ও ছাদের অংশবিশেষ উড়ে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আহতরা হন ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও ইসলামী জঙ্গী শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান।
ঘটনাস্থল থেকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ২৫০ কেজি বোমা তৈরির রাসায়নিক ও সরঞ্জাম জব্দ করে। এর মধ্যে ২টি হাতে তৈরি বোমা (আইইডি), ৫টি বৈদ্যুতিক বোমাসদৃশ যন্ত্র, ৩৯৪ লিটার তরল কেমিক্যাল এবং বিপুল পরিমাণ ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ছিল।
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন বিস্ফোরণের আগের রাতজুড়ে আইইডি বা হাতে তৈরি বোমা বানাচ্ছিলেন।
ঘটনার পর আহত পরিবারকে হাসপাতালে রেখে আল আমিন পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (ATU) ও র্যাব অভিযান চালিয়ে মূল আসামিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এই যখন আমাদের দেশের মাদ্রাসাগুলোর অবস্থা তখনও আমাদের দেশের একশ্রেণীর সুশীলরা বলছেন মাদ্রাসা শিক্ষাকে আমাদের মূল ধারার সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে, আর তাহলেই এসব জঙ্গী তৎপরতা থেমে যাবে।
এ প্রসঙ্গে কিছু কথা না বললেই নয়। তাহলো- কবে আমাদের দেশের মাদ্রাসায় সাধারন শিক্ষাব্যবস্থা ছিল? একসময়ে পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করার সুবাদে যেটি দেখেছি বাংলাদেশের হেন কোন কওমী মাদ্রাসা নেই যেখানে হিন্দু বিদ্বেষ, ভারত বিদ্বেষ, সেক্যুলার বিদ্বেষ ছড়ানো হয়না।
এমনকি এদেরকে কতল করার জন্য জেহাদে উদ্বুদ্ধ করার কাজটি বেশ জোরেসোরেই চলে।
এমন নানা বিষ্ফোরণ ও বোমা উদ্ধারের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দফতর থেকে জাতীয় সংসদ ভবন, শাহবাগ, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করে দেশব্যাপী বিশেষ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়।
কিন্তু ওদিকে ঢাকায় অতি সম্প্রতি পুলিশের এক বড় অফিসার দাবি করেছেন যে দেশে জঙ্গীবাদী হামলার কোন আশংকা তারা দেখছেন না।
‘দেশে জঙ্গী আছে’ আবার ‘দেশে জঙ্গী নেই’ এ ধরনের বৈপরীত্যমুখী বক্তব্য দেখা গেছে খোদ বিএনপি সরকারের মন্ত্রীদের মুখ থেকেই।
জঙ্গি আর জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নিয়ে তারেক রহমানের সরকারের ভেতরেই একাধিক বয়ান ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ মানতেই চাননি জঙ্গিবাদের অস্তিত্বের কথা। কিন্তু প্রশ্ন সেখানেই। তাই যদি হবে তাহলে তারই মন্ত্রকের অধীনে থাকা বাংলাদেশ পুলিশ কী করে গোয়েন্দা রিপোর্ট উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক করল?
বাংলাদেশ পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়েছে পাকিস্তানে তেহেরিক ই তালিবান পাকিস্তান নামে একটি সংগঠনের দুই জঙ্গি সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকজনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তদন্তে আরো জানা যায় নিষিদ্ধ সংগঠনটি বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার ষড়যন্ত্র করছে।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক থিংক-ট্যাংকগুলোর মতে, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর এই আকস্মিক তৎপরতার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু আভ্যন্তরীণ ও ভূ-রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
গত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থায় বড় ধরনের চাকরিচ্যুতি, রদবদল ও পুনর্গঠন চলে আসলে এটি হলো- আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নিয়োগ প্রাপ্তদেরকে যে কোন অযুহাতে বাদ দেয়।
কিন্তু এই সাময়িক শূন্যতা বা ট্রানজিশন পিরিয়ডের সুযোগ নিয়ে নিষ্ক্রিয় বা আত্মগোপনে থাকা জঙ্গিরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের কয়েকটি কারাগারে হামলা ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে শতাধিক সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন শীর্ষ জঙ্গি পালিয়ে যায়।
পাশাপাশি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (ABT) প্রধান জসিমউদ্দিন রাহমানীসহ বেশ কিছু উগ্রপন্থী আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্ত হওয়ায় তাদের অনুসারীরা নতুন করে উজ্জীবিত হচ্ছে।
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে দেখা গেছে, নব্য জেএমবি বা আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী ভাবাদর্শে বিশ্বাসী দলগুলো এখন আর আগের মতো প্রকাশ্যে দল গঠন করছে না।
তারা টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং বিভিন্ন গোপন অ্যাপ ব্যবহার করে উগ্রপন্থী প্রচারণা চালাচ্ছে এবং বিচ্ছিন্ন ‘স্লিপার সেল’ বা লোন-উলফ (Lone-wolf) স্টাইলে হামলার ছক কষছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়েই জেএমবি-র উত্থান ঘটেছে। তখনও সেই সরকারের মন্ত্রীরা সব অভিযোগ অস্বীকার করতো।
এদেশে-সমাজে জঙ্গিবাদের শিকড় ও এর ভয়াবহতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছিল:
এরই মধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় হরকাতুল জিহাদ (HuJI) আল-কায়েদার আদলে

ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্টতম রাজনৈতিক সহিংসতা।

এর পরপরই ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা হলো।
শায়খ আবদুর রহমান এবং সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (JMB) মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে দেশের ৬৩টি জেলার প্রায় ৫০০টি স্থানে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের শক্তির জানান দেয়।

একই বছর মানে ২০০৫ সালের নভেম্বরে ঝালকাঠিতে দুই সহকারী জজকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় হত্যা করা হয়, যা ছিল দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত।
ঐতিহাসিক এই প্রেক্ষাপট প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা রাষ্ট্রীয় নমনীয়তার সুযোগ পেলেই এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও উগ্রপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
পাঠক, একটু খেয়াল করুন–সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধার এবং বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার একটি সুগভীর ব্লু-প্রিন্ট।
অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে মনে রাখতে হবে যে, ধর্মীয় উগ্রবাদীরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বন্ধু নয়, তারা পুরো রাষ্ট্রের শত্রু।
তাই গণতন্ত্র রক্ষা, বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ ধরে রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে এই নব্য জঙ্গি ষড়যন্ত্রের ডালপালা উপড়ে ফেলতে হবে।
সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক তালিকাভুক্ত জঙ্গি সদস্য (জেএমবি, আনসার আল ইসলাম, হিযবুত তাহরীর ইত্যাদি) ২০২৪ এর আগষ্টে জামিনে মুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রায় ৩৭০ জনের বেশি জঙ্গি এখনো পলাতক রয়েছে।
এরা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ (যেমন- টেলিগ্রাম, ডার্ক ওয়েব) ব্যবহার করে তরুণদের মগজ ধোলাই এবং অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিকে কেন্দ্র করে মুসলিম নিপীড়নের ন্যারেটিভ তৈরি করে স্থানীয় যুবকদের উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত করা হচ্ছে।
আসলে সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধার এবং বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার একটি সুগভীর নীলনকশা।
অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে মনে রাখতে হবে যে, ধর্মীয় উগ্রবাদীরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বন্ধু নয়, তারা পুরো রাষ্ট্রের শত্রু।
তাই গণতন্ত্র রক্ষা, বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ ধরে রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে নব্য জঙ্গি ষড়যন্ত্রের ডালপালা উপড়ে ফেলতে না পারলে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
