ক্ষমতার নতুন সমীকরণ ও ভূ-রাজনৈতিক ফাঁদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এক জটিল মিশ্রণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে পটপরিবর্তন এবং ক্ষমতার নতুন বিন্যাস আমরা দেখছি, তা এই ধারারই একটি চরম রূপ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন দুই বছরের শাসনকাল, পরবর্তীকালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ক্ষমতায় আরোহণ এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ—সব মিলিয়ে দৃশ্যপটটি আপাতদৃষ্টিতে একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতা মনে হচ্ছে।
কিন্তু এর গভীরে রয়েছে মার্কিন কূটনীতি, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির টানাপোড়েন।
এই জটিল বিশ্বরাজনীতির খেলায় তারেক রহমান এখন এক বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি। একদিকে মার্কিন চাপ এবং অন্যদিকে চীনের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা—এই দুইয়ের মাঝে তারেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তার ক্ষমতার স্থায়িত্ব এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে।
ইউনূসীয় ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এবং মার্কিন এজেন্ডা আলোচ্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শেখ হাসিনার পতনের নেপথ্য শক্তি এবং ড. ইউনূসের দুই বছরের শাসনকাল।

এ বিষয়টিতো স্পষ্ট যে , মার্কিনীদের চামচা বা ক্রীড়ানক ড. ইউনূসের ক্ষমতা গ্রহণ কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। বরং এটি ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, যার পেছনে মার্কিন ডিপস্টেটেরও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক স্ট্র্যাটেজিতে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ওয়াশিংটন-বিরোধী বা কিছুটা স্বাধীনচেতা অবস্থানের কারণে মার্কিন প্রশাসন এমন একটি শক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল যা তাদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করবে।
আর তাই সুদখোর ইউনুস ও দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বলতে গেলে বাংলাদেশকে মার্কিনীদের করদরাজ্যে পরিণত করার চুক্তি করেছে।
চরম ক্ষমতালোভী এই ইউনূস ক্ষমতা ছাড়ার আগেই মার্কিন প্রশাসনের সাথে কিছু অপ্রকাশ্য ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সম্পন্ন করে দেশের বারোটা বাজিয়ে গেছে।
এর মধ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ, গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার এবং আমেরিকার কাছ থেকে চড়া মূল্যে বোয়িং বিমান বা অতিরিক্ত দামে গম ও অন্যান্য পণ্য আমদানির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।
এই চুক্তিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সার্বভৌম স্বার্থের অনুকূলে তো নয়ই বরং বাংলাদেশের প্রশাসনের ভেতরে মার্কিন-নির্ভর ইউনূসীয় প্রশাসন কাজ করছে এখনকার বিএনপি সরকারের ভেতরে।
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশন নামের সিলেকশনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সংসদে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে ঠিকই। কিন্তু সিন্দাবাদের দৈত্যের মত ইউনুস-মার্কিন অপশাসন চেপে বসে আছে। আসলে হাত-পা বাঁধা তারেক রহমানের।
যেমনটি ১৬ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা একসময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুবরাজ বা মি: টেন পারসেন্ট হিসেবে খ্যাত তারেক রহমান দেশে ফেরার আগে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন- “তার দেশে ফেরা তার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেনা”।
ঠিক তেমনি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতাসীন হয়ে সেই তারেক রহমানও নিজের বা দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে চলতে পারছেন না। কারণ ইউনুস এমনই ম্যাকানিজম করে গেছে যে তা থেকে ‘নট নড়ন-চড়ন’ তারেক সাহেবের।
ইউনুস পরবর্তী সময়ে তারেক রহমান যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন উত্তরাধিকারসূত্রে এই রাষ্ট্রীয় ( মার্কিন চুক্তি মানে দাসত্ব) দায়বদ্ধতাগুলো তার ঘাড়ে এসে চাপে।
আন্তর্জাতিক চুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষার বাধ্যবাধকতার কারণে তারেক রহমান এই ক্ষতিকর শর্তগুলো মানতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তার সরকারকে আভ্যন্তরীণভাবে জনপ্রিয়তার সংকটে ফেলছে। কিন্তু তারেকও মনোকষ্টে রয়েছেন ভেতরে ভেতরে।
ফলে তারেক-ইউনূস টানাপোড়েন এবং আভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছেই। গরীবদের নিয়ে ব্যবসা করা সুদী ইউনূসের মূল খায়েশ বা আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া, যাতে পর্দার আড়াল থেকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতার সুতা নাড়ানো যায়।
কিন্তু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ড. ইউনূসের এই অতি-মহাকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বাস করতে পারেননি।
কারণ তারেক জানতেন, ইউনূসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যদি রাষ্ট্রপতির আসনে বসেন, তবে তা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতাকে সংকুচিত বা চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
এই পারস্পরিক অবিশ্বাসের ফলেই ড. ইউনূসকে মাইনাস করে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার মাধ্যমে তারেক রহমান দলের ভেতরে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির পদটিকে নিজের ও দলের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত ড. ইউনূস ও তার মার্কিন বন্ধুদের মোটেও সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তারা রীতিমতো গোস্বা করেছেন। ক্ষমতা হারানোর পর এবং রাষ্ট্রপতি পদের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়ে ড. ইউনূস এখন জামায়াতে ইসলামী ও টোকাই জঙ্গী এনসিপির মতো অপশক্তিগুলোকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছেন।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো তারেক রহমানের সরকারকে চাপে রাখা এবং প্রয়োজনে মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য একটি বিকল্প শক্তির বলয় তৈরি করা।
তবে জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানও নিজের বা অন্য কোন দেশের বুদ্ধিতে হোক ইউনুসের বিরুদ্ধেও দাবার গুটির চাল দিয়েছে।

যে ইউনুস নিজের প্রভাব খাটিয়ে আদালতের মাধ্যমে সেই ‘ কুখ্যাত ৬৬৬ কোটি টাকা করফাঁকি মামলা থেকে খালাস নিয়েছিলেন তারেক সরকার কিন্তু ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি অস্ত্র পুনরুজ্জীবিত করেছে।
ইউনূসের ৬৬৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি বা তহবিল তছরুপের মামলাটি পুনরায় চালু করা স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক বার্তা।
রাজনৈতিক মহল বলছেন, এর মাধ্যমে তারেক রহমান ড. ইউনূসকে কোণঠাসা করতে চাইছেন, যা দুই পক্ষের মধ্যকার টানাপোড়েনকে চরম রূপ দিয়েছে।
তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই চীন সফর করায় মার্কিন প্রশাসন স্বভাবতই নাখোশ হয়েছে। তারেক মনে করেছিলেন তিনি ভারসাম্যের রাজনীতি করবেন । কিন্তু সেই ভারসাম্যের রাজনীতিতে ফাটল ধরেছে।
তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কাটি আসে তার সাম্প্রতিক চীন সফরের পর। বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরেই বেইজিং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলেছে।
কিন্তু গত ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে মার্কিনীদের ছত্রচ্ছায়ায় ও ডিপষ্টেটের পরিকল্পনায় তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক পটভূমির পর তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে ওয়াশিংটন ভালোভাবে নেয়নি।

মার্কিন ডিপস্টেটের ধারণা ছিল, শেখ হাসিনার পতনের পর নতুন সরকার সম্পূর্ণভাবে তাদের অক্ষের মধ্যে থাকবে। কিন্তু তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে চীনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হন, কারণ মেগা প্রজেক্ট এবং আর্থিক সহায়তার জন্য বেইজিং এখনো সবচেয়ে বড় উৎস। কিন্তু এই চীন সফর মার্কিন প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ করেছে।
তারা মনে করছে, তারেক রহমান তাদের স্বার্থের পুরো অনুগত নন।

মার্কিন এই অসন্তোষ প্রশমিত করতেই তারেক রহমানের আসন্ন নিউইয়র্ক সফর এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বরং এটি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সাথে বৈঠক করে তাদের আশ্বস্ত করার একটি মরিয়া চেষ্টা।
তারেক রহমান বোঝাতে চান যে, চীনের সাথে সম্পর্ক কেবলই বাণিজ্যিক, কৌশলগত নয়।
কিন্তু বিশ্বরাজনীতির খেলোয়াড়রা এতটা সহজে আশ্বস্ত হয় না। মার্কিন অসন্তোষের তলোয়ার এখনো তারেকের মাথার ওপর ঝুলছে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে দিন দিন।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- বিদায়ের ঘণ্টা নাকি টিকে থাকার লড়াই? বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তারেক রহমান কি বিশ্বরাজনীতির এই জটিল খেলায় নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন, নাকি তাকেও কোনো না কোনো উপায়ে রাজনীতি ও ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে কয়েকটি সমীকরণের ওপর:
১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খোঁজার নীতি: মার্কিন ডিপস্টেট কখনো একটিমাত্র বিকল্পের ওপর নির্ভর করে না। তারেক রহমান যদি তাদের শর্ত (যেমন: সেন্টমার্টিন বা বোয়িং চুক্তি) পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করেন বা চীনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন, তবে আমেরিকা ড. ইউনূসের মাধ্যমে জামায়াত ও ডলারলোভী কথিত সুশীল সমাজের সমন্বয়ে একটি নতুন ‘তৃতীয় শক্তি’র উত্থান ঘটাতে পারে। সে ক্ষেত্রে তারেককে বিদায় দেওয়া তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।
২. অভ্যন্তরীণ জনরোষ এবং অর্থনৈতিক সংকট : চড়া মূল্যে মার্কিন পণ্য ও বিমান কেনার ফলে দেশের অর্থনীতিতে যে চাপ পড়ছে, তা যদি সাধারণ মানুষের পিঠে চাবুকের মতো পড়ে, তবে অভ্যন্তরীণ জনরোষ তৈরি হবে খুব দ্রুত । ড. ইউনূস ও জামায়াত চক্র এই জনরোষকে পুঁজি করে তারেক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে।
৩. সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা : বাংলাদেশের রাজনীতিতে পর্দার পেছনের শক্তির ভূমিকা অপরিসীম। তারেক রহমান যদি প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পারেন, এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি ভেতরে ফাটল ধরাতে পারে, তবে যেকোনো সময় ‘মাইনাস ফর্মুলা’ কার্যকর হতে পারে।
কারণ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান মূলত জামায়াতের লোক। পাশাপাশি সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনী ও সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বা বিজিবি’র মধ্যেও এই জামায়াতের বেশ শক্ত অবস্থান তৈরী হয়েছে। তবে এর বিপরীত শক্তিও ক্রিয়াশীল রয়েছে।
তবে তারেক রহমানের শক্তির জায়গাও কম নয়। বিএনপির মতো একটি বিশাল তৃণমূল সমর্থিত রাজনৈতিক দল তার পেছনে রয়েছে। তিনি যদি অভ্যন্তরীণভাবে জামায়াত-ইউনূস অক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে পারেন এবং কূটনৈতিকভাবে মার্কিন অসন্তোষ দূর করে চীনের সাথে একটি অর্থনৈতিক বোঝাপড়ায় আসতে পারেন, তবে তিনি টিকে যেতেও পারেন।
সবকিছু মিলিয়ে তারেক রহমান বর্তমানে একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। ড. ইউনূসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এবং মার্কিন চুক্তিগুলোর যে ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে, তা থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন।
বিশ্বরাজনীতির দাবা খেলায় পারদর্শী না হলে টিকে থাকা মুশকিল। তারেক রহমান যদি রাজনীতির দাবা খেলার প্রতিটি চাল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে না দেন, তবে তাকেও শেখ হাসিনার মতো বা তার চেয়েও করুণভাবে ক্ষমতা ও রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হতে পারে।– এ আশংকা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায়না।
কারণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি কাউকে চিরস্থায়ী বন্ধু মনে করে না, তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ চেনে। তারেক রহমান মার্কিন অসন্তোষ প্রশমন করতে পারবেন কি না এবং অভ্যন্তরীণ চক্রান্তের জাল ছিন্ন করতে পারবেন কি না—তার ওপরই নির্ভর করছে তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব।
আগামী দিনগুলো বাংলাদেশের রাজনীতি এবং তারেক রহমানের নিয়তি নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত সংকটময়।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১ তম অধিবেশনকে ঘিরে বাংলাদেশের নয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ৯ দিনের। তারপরে তা ৬ দিনের।
তবে এরই মধ্যে নাকি তা মাত্র ৩ দিনে নেমে এসেছে। প্রসঙ্গত: ২০০৮ সালে ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মোরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জোরালো সুপারিশ করেছিলেন।সেটির রেশ যে কেটে গেছে তা কিন্তু নয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক জনসমক্ষ নিষেধাজ্ঞা (Public Sanction) জারি করা হয়নি।
অনেক সমালোচক বলছেন- যুক্তরাষ্ট্রে তারেক রহমানের চলাচল অনেকটা সীমিত করা হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেয়া নৈশভোজে অংশগ্রহণ ছাড়া অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর সফর বা যোগদান হয়তো সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
তার মানে তারেকের মার্কিন সফর অনেকটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে? তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
# ইশরাত জাহান: লেখক, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।
