বাংলাদেশী শূকরে হারাম, কিন্তু আমেরিকান শূকরে আরাম!! কারণটি কি ? বাংলাদেশী শূকর কালো তাই? আর আমেরিকান শূকর কি শ্বেতবর্ণের? এ জন্য? এই হলো আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের মুসলমানদের মনোভাব ও আত্মতুষ্টি ! এটাই বোধ হয় এখানকার ইসলাম ও কালচার!

যেই জামায়াতে ইসলামী, কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক হেফাজতে ইসলাম , চরমোনাইয়ের পীরসহ আরো যেসব ইসলামের ধ্বজাধারী আছেন আমাদের এই দেশে ( নতুন পাকিস্তান বলা কি অযৌক্তিক হবে ?) কিন্তু তেনারা সব চুপ।

সবাই মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। হয়তো ওনারা কানেও কম শোনেন আজকাল। চোখেও হয়তো কম দেখেন। নাহলে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে সেই হারাম শূকরের গোসত আমদানী করে আনা হবে কিন্তু ইসলাম রক্ষাকারিরা একদম স্পিকটি নট !?

আসলে এরা কি ইসলাম রক্ষাকারি না ইসলাম ধ্বংসকারি ? এ দেশের আল্লাহ ও নবীপ্রিয় সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ কিন্তু বোঝে সবই। কিন্তু সেই মানুষরাতো আর মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেনা।

কারণ এই ইসলাম ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই তার ওপর নেমে আসবে মব সন্ত্রাস। নেমে আসবে নাঙ্গা তলোয়ার।
কারণ কি ? কারণ তো আর কিছুই না ।

দেশটি হলো বিশ্বের এক নম্বর ক্ষমতাশালী দেশ, ডলারের দেশ আমেরিকা। তাই তারা যা কিছুই বলুক না কেন, যতই লাথি ঝাঁটা মারুক না কেন সবই যেন বেহেশতের খোরমা খেজুর, আল্লাহর রহমত ! হায়রে আমেরিকা ! হায়রে জামায়াতে ইসলামী ! হায়রে বাংলাদেশের ইসলাম!

একদিকে তারা এই স্বাধীন বাংলাদেশে (আসলে কি স্বাধীন !) আমেরিকার ২৫০ বছর পালন করে সোৎসাহে। তাও আবার জাতীয় সংসদের জায়গা দখল করে। অবশ্য এখনকার যে সংসদ, সরকার, বিরোধী দল যারা আছে তাদের আসলে বলার কিছুই নেই আমেরিকার ব্যাপারে।

হৈমন্তী শুক্লার কণ্ঠে মান্না দে’র সুরে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এই সেই বিখ্যাত গানটির কথা মনে পড়ে গেলো-

আমার বলার কিছু ছিল না
না-গো আমার বলার কিছু ছিল না।
..কী জানি কী ভেবে তুমি ফিরেও তাকালে না
পিছু ডেকে কোনোদিন কোনো কথা বললে না
আমার তো কোনো দোষ ছিল না
আমার বলার কিছু ছিল না।
আমার বলার কিছু ছিল না
না-গো আমার বলার কিছু ছিল না।

গানটির প্যারোডি খুব জমতো মনে হয় আমেরিকার লাথি-ঝাঁটা খাওয়া রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বেলায়। কিন্তু এত মধুর ও সুন্দর একটি গানের আর প্যারোডি করতে মন সায় দিচ্ছেনা।

অবৈধ-অগণতান্ত্রিক- উড়ে এসে জুড়ে বসা বেহায়া ইউনুস সরকার তার দায়িত্ব ছাড়ার আগে তার বস আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের যে দাসত্বের চুক্তি করে গেছে তা মাঝে মধ্যে একটু পড়া একান্ত ফরজ বলে মনে করছি। চুক্তির এই ছোট একটি ধারাটি পড়ে দেখুন প্লিজ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জঙ্গী দোসরদের নিয়ন্ত্রিত ইউনুস সরকার এই বাণিজ্য চুক্তি করেছে। বর্তমান বিএনপি সরকার চুক্তিটি বহাল রেখেছে।

খলিলুর রহমান (বর্তমানে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) চুক্তিটির মূল আলোচক ছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ যেসকল খাদ্য আমদানীর ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারবে না (সোজা কথায় আমদানী করতে হবে) তা চুক্তির ক্লজসহ নিচে দেয়া হলো।

ধারা ২.৫: পনির ও মাংসজাত খাদ্যের নাম —

সংযোজনী–২-এ তালিকাভুক্ত মাংস ও পনির জাতীয় খাদ্য, যুক্তরাষ্ট্র থেকে যা আমদানিতে বাংলাদেশ বাধা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে না।

(খ) মাংসজাত খাদ্য:

(i) ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম (মূল উপাদান: শূকরের উরুর মাংস)
(ii) বোলোনিয়া সসেজ (মূল উপাদান: সাধারণত গরু ও শূকরের মাংস; কখনও শুধু গরু বা মুরগির মাংস)
(iii) ব্রাটওয়ার্স্ট (মূল উপাদান: সাধারণত শূকরের মাংস; কখনও গরু বা বাছুরের মাংস)
(iv) ক্যাপিকোলা (মূল উপাদান: শূকরের ঘাড় বা কাঁধের মাংস)
(v) চোরিজো (মূল উপাদান: সাধারণত শূকরের মাংস; কিছু দেশে গরু বা মুরগির মাংসও ব্যবহৃত হয়)
(vi) কিয়েলবাসা (মূল উপাদান: সাধারণত শূকরের মাংস; কখনও গরু বা উভয়ের মিশ্রণ)
(vii) মর্টাডেলা (মূল উপাদান: শূকরের মাংস)
(viii) পানচেত্তা (মূল উপাদান: শূকরের পেটের মাংস)
(ix)প্রসিউটো (মূল উপাদান: শূকরের উরুর মাংস)
(x) সালামি (মূল উপাদান: সাধারণত শূকর বা গরুর মাংস; কখনও উভয়ের মিশ্রণ)

তো এতদ্বারা কি বুঝলেন হে মুমিনগণ? তো সেই হারাম শূকরের গোসত খেতে নিশ্চয়ই খুব সুস্বাদু হবে- তাই না? কারণ সেটিতো হুজুরে পাক আলহ্বাজ-মাওলানা শেতাঙ্গ আমেরিকা !

খুব জানতে ইচ্ছে করে হে ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ আর কত নীচে নামলে আপনাদের দিল খুশ হবে! ধর্মের নামে এসব প্রতারণার ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসা করেন। তাতে যদি কিছু সৎপথে , হালাল রুজি-রোজগার হয়। জানি এসবের কোনকিছুই আপনাদের দিলে ঠাঁই পাবেনা।

তবুও বলি আর কি। যেমন আপনারা শুনেন নাই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। কারণ তখন আপনাদের কাছে পেয়ারে পাকিস্তান ছিল বেহেশত।

আর সেই পাকিদের সাথে আপনাদের বিগ বস বা আব্বা হুজুর আমেরিকা হাত মিলিয়ে আপনাদের (জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী, চরমোনাই, শর্ষিনা পীর ছাহেবদের সহ আরো কিছু ইসলামী নামধারীদের) চরম পেয়ার করেছিলেন।

এদেশের ইসলামের নামধারী দলগুলো একদিকে আমেরিকার পা চাটবে আবার অন্যদিকে ইরানের নেতা মারা গেলে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান বা জানাযায় শরীক হয়ে অসীব ছওয়াবে কামাইয়ের ধান্ধায় থাকে। চরম বৈপরীত্য এদের।

যেই আমেরিকা ইসরাইলের সাথে মিলে ইরান, ফিলিস্তিনকে মেরে ফাতা ফাতা করে দিলো তার কাছে এসব ইসলামী দলগুলো সব নতজানু। আবার ওদিকে ইরান গিয়ে মুসলিম বা ইসলামী ব্রাদারহুড খুঁজবে তারা।

একদিকে ইসলামী বিশ্বভ্রাতৃত্ব চাইবে, অপরদিকে ইসলামী দেশের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় ইসলামের পরম শত্রু আমেরিকার বশ্যতা স্বীকার করে নেবেন , এ কেমন বৈপরীত্য আপনাদের হে ইসলাম ব্যবসায়ীগণ?

কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে এও বলছেন- আমরিকার ৫২তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বর্তমান মুচলেকা ও বাংলাদেশ বিক্রির সরকার ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে তাদের বাপ আমেরিকার প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়েছে।

বিগত ৫৫ বছরে এই ঘটনার প্রথম স্বাক্ষী হলো আজকের পরাধীন বাংলাদেশ। দিল্লি না ঢাকা শ্লোগান দেওয়া পাকিস্তানি নাপাক বীর্যের রুহানি জারজ ও কুলাঙ্গাররা কই আজ?? ছি!! নির্লজ্জ বাংলাদেশ!! ছি!!!

আবুল খায়ের শাহজাহান এদের সমালোচনা করে লিখেছেন- ‘ জামাত হেফাজত এরা নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করলেও এরা প্যলেস্টাইন, সিরিয়া লিবিয়া, লেবানন ও ইরানের মুসলিমদের হত্যার বিচার চাইবে না কারণ এই অপরাধ করছে তাদের বাপ আমেরিকা ও তাদের ভাই ইসরায়েল, আর এরা যেহেতু শুয়োরের বাচ্চা তাই শুয়োরের মাংসের ব্যাপারে কিছু বলবে না।’

প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল হক তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এভাবে—‘সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান করুক চাই কি ভবনের মধ্যেই করুক, তাতে যে ক্ষতি তার চার গুণ বেশি ক্ষতি চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫ লাখ টন গম আমদানির বাধ্যবাধকতা।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৬.৬ লাখ টন গম আমদানি করতে হবে, যার ফলে ১৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে। প্রথম ধাপে ২.২ লাখ টন গম আনা হচ্ছে। এ তো শুধু গম। অন্যান্য পণ্য আমদানি পুরোদমে শুরু হলে বঙ্গ সন্তানকে কিডনী বেচে খাদ্য কিনতে হবে, অবশ্য যদি ক্ষতিগ্রস্থ কিডনীর ক্রেতা থাকে তবেই।’

বাংলাদেশকে কোন আগাম তথ্য দেয়া ছাড়াই আমেরিকানরা তাদের সৈন্য নামাতে পারে, নামিয়েছেও। সংসদ ভবনটাকে কমিউনিটি সেন্টার ভেবে সেখানে তারা তাদের ইভেন্ট করেছে।

সেক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, কথিত বাম জোনায়েদ সাকিসহ আরো অনেকেই গিয়ে তাদের চরম আনুগত্য প্রকাশ করে এসেছেন। তাদের এই উপস্থিতি ও বক্তৃতাই প্রমান করে, তারা বলতে চাইছে কুর্নিশ করে- যো হুজুর, জাহাপনা শুধু হুকুম করুন, আপনার আদেশ আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্য।

বাংলাদেশের কেউ কি একটিবারের জন্যও বলার সাহস দেখিয়েছেন -এই ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডে সাড়ম্বরে পালনের জন্য বারিধারায় তাদের (আমেরিকার) যে প্রাসাদোপম ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবেষ্ঠিত দূর্গ রয়েছে সেখানেওতো করতে পারতো। সেটিতো ভাবতেও পারেনা এরা।

কারণ সেটিতো চরম বেয়াদবি ও নাফরমানি কাজ হবে তাহলে। হয়তো সেদিন সংসদ প্লাজায় গিয়ে কেউ কেউ হয়তো মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন- হুজুর গোস্তাফি মাফ কিজিয়ে।

বাংলাদেশকে তো আমেরিকা চুক্তির মাধ্যমে তাদের ‘নয়া উপনিবেশ’ই মনে করছে। অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক। নাহলে এমন একটি দাসখতের চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের ডান-বাম- ইসলামী দলগুলো কেউ কোন টু শব্দটি করলো না ! অবশ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের কথা বাদই দিলাম।

কারণ শেখ হাসিনার আমেরিকান বিরোধীতার কারণেইতো তাঁকে ক্ষমতা হারাতে হলো। শুধু ক্ষমতা হারানো নয়, দেশ থেকে নির্বাসনেই পাঠিয়ে দেয়া হলো।

আচ্ছা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যদি ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের স্বাধীনতা বা প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করতো বা করার জন্য চেষ্টা করতো তাহলে কেমন হতো? একটু ভাবুনতো? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সুশীল অঙ্গনে রীতিমতো লু ঝড়ো বাতাস বয়ে যেতো, কত ডিগ্রী ফারেনহাইট উঠতো পারদ তা বর্ণনাও কঠিন।

তবে এটিতো ঠিক বা বোঝাই যায় যে, ভারতীয় হাইকমিশন , ভারতীয় ভিসা সেন্টারসহ ভারতীয় যা যা আছে বাংলাদেশে সেসব অভিমুখে মিছিল-ঘেরাও-ভাংচুর হতো। ক্ষমতায় যে সরকারই থাকুক তাদেরকে অবিলম্বে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেওয়া হতো।

এসব ব্যাপারে অনেকেই হয়তো নানা ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের দায় মেটাতে চাইবে কখনো। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে বিএনপি কিছুই বলবে না। তার অন্যতম কারণ হিসেবে যেটি সন্দেহ করি তা হলেঅ তাদের প্রধান নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন হঠাৎই নিশ্চিত হওয়ার পেছনে যে আমেরিকা ও ভারতের কাছে শর্তসাপেক্ষ ছিল, সেটা প্রমাণিত।

এটিতো দিবালোকের মত সত্য যে, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ও ক্ষমতার মসনদে আরোহন সবকিছুই ঘটেছে আমেরিকা ও ভারতের আশীর্বাদে।

ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী ধর্মান্ধ উগ্র ইসলামী মৌলবাদী বা জঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে আমেরিকার প্রতি বিশ্বস্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের পরীক্ষিত ত্যাগী বন্ধু ভারতের সাথে চরম বেইমানি করছে। চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এমন একটি পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করছে।

প্রসঙ্গত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষায় জাতির সাথে বেইমানি দিয়েই তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান সেনা ছাউনিতে থেকেই সেনা গোয়েন্দা সংস্থাকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে বিএনপির জন্ম দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে রক্ষা করে চলেছেন জিয়া পুত্র তারেক সাহেব ।

জেনারেল জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক দল বিএনপি ( বিভিন্ন দল থেকে ভাগিয়ে আনা নেতাদের নিয়ে গঠিত ) ভারত জুজু’র ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশে চরম দক্ষিণপন্থী রাজনীতি শুরু করেছিল।

যা এখনো অব্যাহত আছে। কারণ তাদের রাজনীতির মূল ট্রাম্পকার্ড তো সেটিই। তারই পুত্র তারেক রহমান স্বাভাবিকভাবেই তার পিতা ও মাতা বেগম খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন এটাই স্বাভাবিক।

কারণ ২০২৫ এর ২৯ নভেম্বর তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেছিলেন— “এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।”

বিভিন্ন সূত্র বলছে, প্রচণ্ড ধড়িবাজ ইউনুস লন্ডনে উড়ে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে বৈঠকের পর তারেক রহমান ভারতের নীতিনির্ধারক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

যেসব বৈঠকে তার বাংলাদেশে ফেরার পথ বাতলে দেয়া হয়েছে। মূলত তারেক রহমানের খুব বেশিদূর যাওয়ার উপায় নেই মেটিকুলাস ডিজাইনার ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ফাঁদ থেকে। কারণ ইউনুস সেই ছোটবেলা থেকে মানুষের সাথে কেমনে প্রতারণা করতে হয় সে ব্যাপারে অত্যন্ত পটু হতে শিখেছেন।

তারমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির এখনকার রেজিম তার আগের ইন্টেরিম সরকার ইউনুস রেজিমের ধারাবাহিকতা মাত্র। হয়তো একটু ভিন্ন আঙ্গিকে।

# রাকীব হুসেইন: লেখক; প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *