ধুঁয়া তোলা হয়েছিল বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে কোন গণতন্ত্র ছিলোনা। ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিলোনা-কেউ কোন মতপ্রকাশ করতে পারতো না মুক্তভাবে।
সাংবাদিক তথা সংবাদমাধ্যমের কোন স্বাধীনতা ছিলনা। আর মানবাধিকার বলতে যা বোঝায় তার ন্যুনতম কোন কিছুই ছিলনা। ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর সেজন্যই নাকি দেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে নাগরিকদের সবকিছু ফিরেয়ে দেয়ার জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক থুড়ি ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা কায়েমের জন্য “গণঅভ্যুত্থান” করেছিল।
তো গত দুই বছরে কি পেলো এই দেশের জনগণ? গণতন্ত্র -মানবাধিকার-মতপ্রকাশের স্বাধীনতা-মানবাধিকার সবই বোধ হয় এত বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে যে দেশে এখন এসবের নহর বইছে। সেজন্যই কি সাধারণ জনগণ অনেক আগে থেকেই বার বার বলছে-আগেই ভালো ছিলাম?

আমেরিকান ডিপষ্টেট আর নো-বেল লরিয়েট প্রতারক শিরোমনি ড. ইউনুসের আমলে যা যা ঘটেছে তাতে কি দেশবাসী সন্তুষ্ট ছিল?
বার বার কেন তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো (নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের কথা বাদই দিলাম) গণতান্ত্রিকভাবে ইলেকশনের দাবি তুলেছিল? আর সেজন্য নানা ক্যারিকেচারের পর এ বছর ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনের নামে একটি সিলেকশন হলো।
সেই সিলেকশনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান ১৭ বছর লণ্ডনে আয়েশি জীবন যাপন শেষ করে দেশে এসে ক্ষমতা গ্রহণ করলেন।
তিনি শুধু ক্ষমতাই গ্রহণ করেননি, সেইসাথে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের নরঘাতকের দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র পেয়ারের সহযাত্রী বন্ধুরা মিলে ৭৬ টি আসন দখল করে।
এর মধ্যে জামায়াতের বাই প্রোডাক্ট টোকাই জঙ্গী দল এনসিপি’র সদস্য সংখ্যা ৬ জন। এই ৬ জনের একেকজন সত্যিই এত বেশি জিনিয়াস যে , তাদের অবস্থা ’২৪ এর আন্দোলনের আগে কি ছিল আর এখন কি অবস্থা তাতো দেশবাসী দেখতেই পাচ্ছেন। একেকজন বোধ হয় আলাদীনের চেড়াগ পেয়েছেন।
আর তাদের হাবভাব দেখলে এমন মনে হয় যে, এরা একেকজন আল্লাহর প্রেরিত ফেরেশতা!
তাদের মূল বাণিজ্য হচ্ছে সেই জুলাই , যাকে অনেকে ‘ঝুলাই’ ও বলে থাকেন। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে যেসব উপমা দেয়া হয় তাদের ‘মহান ঝুলাই’ কে তা আর উল্লেখ করার প্রবৃত্তি নেই।
আহা ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনাল!
২০২৪ সালে ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ( যা আসলে ক্যাঙ্গারু আদালত) নামেই সমধিক পরিচিত সেই আদালতের এক আদেশে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক কোনো বক্তব্য গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
সেই নিষেধাজ্ঞার পর দেশের গণমাধ্যমগুলো শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক কোন বক্তব্য প্রচার করেছিল কি না তা আমার গোচরিভূত হয়নি।
কারণ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সযতনে (!)এত বেশি দায়িত্ব পালন করেছে ও করছে যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেন। বরং বিদেশী গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোই তারা সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে এমনকি আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়েই, গণমাধ্যমগুলো ‘বিদ্বেষমূলক’ বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থেকেছে।
আবার এরই মধ্যে আমাদের তথ্য অধিদপ্তর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে সব গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেছে।
এই বিবৃতিতে তারা কোথাও বলেনি, ‘বিদ্বেষমূলক’ বক্তব্য অথচ আদালত স্পষ্ট করে আদেশ দিয়েছিল, শেখ হাসিনার কোন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা যাবে না। এখানে একটি প্রশ্ন রয়েছে- দেশে কি আদৌ কোন গণমাধ্যম আছে !?
আমাদের তথ্য অধিদপ্তরের বিবৃতি দেখে প্রশ্ন জাগে- তারা কেন এই অর্ধসত্য বিবৃতিটি দিলেন? আদালতের নির্দেশনাটি কি তারা পড়েননি? যদি পড়ে থাকেন, তাহলে দেশের সংবাদমাধ্যম যদি রয়টার্স, বিবিসি বা অন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোর তর্জমা প্রকাশ করে (বিদ্বেষমূলক শব্দ-বাক্য ছাড়া) তাহলে সে সমস্যা কোথায়?
শেখ হাসিনা ফিরবে কি ফিরবে না, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়, রাজনৈতিক বিষয়। কিন্তু সরকার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে নিজেরাই বিচলিত হয় , তাহলে আর বলার কিছু থাকেনা।
আচ্ছা, এটি কি অস্বীকার করা যাবে যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এমন কোন দিন কি আছে যে, সংবাদমমাধ্যমে কোন না কোনভাবে শেখ হাসিনা বিষয়ক খবর প্রকাশিত হয়নি। এমন কোন টকশো পাবেন না, যেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। হায়রে মানবাধিকার!

এরই মধ্যে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, বিচারের আগে আটকাবস্থায় (প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন) থাকা ৪ সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে ৫টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যম অধিকার-বিষয়ক সংস্থা।
যাদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে তারা হলেন- ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও এবং প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তা প্রধান শাকিল আহমেদ এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রূপার অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে ।

মুক্তি দাবি করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো হলো— অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো সরকারের প্রতি এই দাবি জানায়।
একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৫-৬ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পরিচালিত নিরাপত্তা অভিযানের সংবাদ কভারেজের জেরে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে আইসিটিতে তদন্ত চলছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তারা নিহতের সংখ্যা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়িয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে ভূমিকা রেখেছেন।
এই মামলায় গত ১৪ মে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগপত্র বা প্রমাণ হাজির করা যায়নি। সংস্থাগুলো বলছে, কোনো রাজনৈতিক বা বিতর্কিত ঘটনার সংবাদ প্রচার বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করা আইনগতভাবে ভুল।
এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তাদের দাবি গণমাধ্যমের ওপর ভীতিকর প্রভাব তৈরি হয়।
সংস্থাগুলোর মতে, রূপা এবং বাবুর বিরুদ্ধে আইসিটিতে নেয়া এই পদক্ষেপ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির (ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস) ১৫ এবং ১৯ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপাকে ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর থেকে বিচারপূর্ব আটকাবস্থায় রাখা হয়েছে।
এসব মামলার কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি এবং সংবাদ প্রচারের কারণে কীভাবে হত্যার অভিযোগ আনা যায়, তার কোনো ব্যাখ্যাও নেই।
এ বছরের ১১ মে হাইকোর্ট রূপা ও শাকিল আহমেদকে অধিকাংশ মামলায় জামিন দিলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন। সংস্থাগুলোর মতে, হত্যা মামলাগুলোর জামিনের সিদ্ধান্ত যা-ই হোক না কেন, আইসিটির এই মামলাটি সাংবাদিকদের অব্যাহতভাবে আটকে রাখার একটি আলাদা হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সংস্থাগুলো আহ্বান জানিয়েছে, কেবল সাংবাদিকতার কারণে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুকে যেন আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি করা না হয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইসিটির মামলাগুলো পর্যালোচনায় একটি স্বাধীন ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আনা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মামলা ও গণ এফআইআর দায়ের বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করার এই পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
তাই উল্লিখিত মামলাগুলো প্রত্যাহারের মাধ্যমেই সরকার এই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।
কিন্তু তাদের এই আশা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা তো অঅমরা গত দুই বছর ধরেই দেখচি সেই ইউনুসের আমল থেকে। আর এই তারেক রহমানের সরকার যেহেতু ড. ইউনুসেরই এক্সটেনশন সরকার , সুতরাং সে আশা গুড়েবালি বলেই ধরে নেয়া যায়।
এতেই বোঝা যায় দেশে মানবাধিকার ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোন অবস্থায় রয়েছে।
সাংবাদিকরা এখনো জঙ্গী মবের শিকার হচ্ছেন:
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে সিনিয়র সাংবাদিক মুন্নী সাহা, জ ই মামুন ও প্রভাষ আমিনকে ঘিরে চরম হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে।
ইম্পালস হাসপাতালের সামনে একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকদের তৎপরতা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে তারা কোনরকমে নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক মহলে নতুন করে নিরাপত্তা ও আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দৈনিক সমকাল-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আবু সালেহ রনি বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনার কথা জানান। তিনি ঘটনার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন।
পোস্টে রনি লেখেন, মতপার্থক্য বা রাজনৈতিক ভিন্ন অবস্থান থাকতে পারে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে হেনস্তা করার সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, সহকর্মীদের দ্রুত তৎপরতা এবং পুলিশের উপস্থিতির কারণে তিন সাংবাদিক নিরাপদে ঘটনাস্থল ছেড়ে বাসায় ফিরতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য এবং সংবাদকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতভেদ বা অতীতের অবস্থানের কারণে কাউকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া কিংবা প্রকাশ্যে হেনস্তা করা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
অভিযোগ থাকলে সেটির নিষ্পত্তি আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ওই সময়ের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্পাদকীয় ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে রদবদল হয়।
এ সময় এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রভাষ আমিন প্রতিষ্ঠানটি থেকে চাকরিচ্যুত হন। একই সময়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমের একাধিক সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা এবং সমালোচনাও বাড়তে থাকে।
২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর সারাদেশে অন্তত কয়েকশ সাংবাদিকের নামে হত্যা, হত্যাপ্রচেষ্টা, বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, চাঁদাবাজিসহ নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে চরমভাবে হয়রানী করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং সাংবাদিক নেতারা এসব মামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সাংবাদিকতার পেশাগত কাজকে অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়; অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার হওয়া প্রয়োজন।
রাজধানী ঢাকার বাইরেও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়িসহ হেন কোন জেরঅ নেই যেখানে সাংবাদিকেদের বিরুদ্ধে নানা হয়রানীমূলক মামলা দেয়া হয়নি। অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত মুন্নী সাহা ২০২৫ রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় তিনি মব সন্ত্রাসের শিকার হন। এসব মব সন্ত্রাসীরা তাকে নানাভাবে নাজেহাল করেছে। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তার নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তিনি থানা থেকে বেরিয়ে আসেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
সাংবাদিকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রভাবে সংবাদকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আগের তুলনায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে ‘মব সন্ত্রাস ‘ বা জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, কোনো অভিযোগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে কথিত জনতা ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ, ভিডিও ধারণ কিংবা শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রবণতা বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ এতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তো এখনকার সরকারের সময়ে গণতন্ত্র-মতপ্রকাশের স্বাধীনতা-সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা-মানবাধিকার কি অবস্থায় আছে তা পরিসংখ্যান দিয়ে ভারী করে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাইনা।
শুধু এটুকু বলি-এই দিন দিন নয়, আরো দিন আছে। তখন যদি এখন যা ঘটছে তার বিপরীত কিছু হয় তখন সামাল দিতে পারবেনতো?
# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
