আমি আসলে অর্থনীতি কিছুই বুঝিনা।কারণ এটিকে আমার কাছে বেশ খটোমটো একটি বিষয় মনে হয়। তাই একটু এড়িয়ে থাকতে চাই এ ব্যাপারে।
তবে দেশের সাধারণ মানুষ বা যাদেরকে অনেকে ‘ম্যাংগো পিপল’ বলে থাকে তাচ্ছিল্য করে তাদের মত করে বুঝি যে- দেশে ধান ঠিকভাবে উৎপাদন না হলে সাধারণ মানুষের কপালে দুঃখ আছে। মাছ-মাংস-সবজি যদি ঠিকমতা না হয় তাহলে মানুষের খাদ্রদ্রব্যের সংকট দেখা দেবে।
আর সরকারি অফিসার ও সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন বাড়লে বাজারেও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। আর তাতে করে সারাদেশের মানুষের মধ্যে হাহাকার লেগে যায়।
কিন্তু আমাদের সরকার বাহাদুরেরা কিন্তু আমজনতার কথা চিন্তা করেনা, তারা সরকারি অফিসার ও প্রশাসনের লোকজনদেরকে তাদের কব্জায় রাখার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। যাতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিগড়ে না যায়।
কারণ সরকারতো জনগণের জন্য না। সরকারতো তার নিজের জন্য ও তার নিজের দলের কিছু নেতাকর্মীর জন্য মাত্র। এটাই হচ্ছে কঠিন বাস্তবতা।
তবে মাঝেমধ্যে পত্র পত্রিকা আর টেলিভিশন আর ফেইসবুকের বদৌলতে যা দেখলাম তাতেতো আমার মত ছাঁপোষা মানুষদের রক্তচাপ অনেক বেড়ে গেছে। তো আবার সেই রক্তচাপের ওষুধের দামও কিন্তু বেড়ে গেছে। কি যে করি বুঝতে পারছিনা।
তো একটু দেখে আসি আমাদের অত্যন্ত আত্মসম্মানী ও মর্যাদাবান প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাহাদুর সরকারি কর্তাব্যক্তিদের চুপ থাকার জন্য কি লোভ দেখিয়েছেন?
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি আগস্ট ২০২৬-এ নতুন ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ (নবম পে-স্কেল) অনুমোদন করেছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর ধরা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরকারের পর্যায়ক্রমিক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন সামরিক ও বেসামরিক মিলে প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত এবং ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে মোট ৩৩ লাখের বেশি মানুষ।
দেশের ১৭ কোটির বেশি জনসংখ্যার অনুপাতে এই সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২ শতাংশের এর কাছাকাছি।
যদি বলি সরকারি পে-স্কেল বনাম আমজনতার হাহাকার; বৈষম্যের অর্থনীতি ও বাজারের লাগামহীন উর্দ্ধগতির কবলে বাংলাদেশ- তাহলে তা কি খুব অন্যায় হবে?
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ১,৫৬,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কাজের অনুপ্রেরণা বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি এবং সংকটে জর্জরিত বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত কোটি কোটি সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
এই পে-স্কেল কি শুধুই এক মুঠো ভাগ্যবান সরকারি কর্মচারীর ক্ষোভ প্রশমন নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য? আর এই স্কেলের প্রভাবে দেশের বিশাল সিংহভাগ বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রারই বা কী পরিণতি হবে?
সাধারণ বেসরকারি চাকরিজীবী আশরাফ আহমেদ আলাপ প্রসঙ্গে বললেন—“পে স্কেলে জ্বলছে অর্থনীতি, পুড়বে জনগণ…।
গ্যাস, বিদুৎ জ্বালানি,দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল জনজীবন। এর মাঝে ১৮ লাখ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার ১৮ কোটি মানুষকে চেপে ধরেছেন।
এদেশে পে স্কেল বৃদ্ধি মানেই তো একশ্রেণীর বাজার লুটেরাদের পোয়াবারো। দিনশেষে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার যোগান মেটাতে হবে সাধারণ জনগণকেই। পে-স্কেলের কারণে বাড়বে মূল্যস্ফীতি।
বেসরকারি খাতের ওপর চাপ পড়বে এবং এই খাতে হতাশা তৈরি হবে। বিশেষ করে ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান, উৎপাদন ও সেবা খাতে চাপ পড়বে।
সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নতুন পে স্কেলের জন্য বাড়তি যে টাকা প্রয়োজন হবে, তা এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমেই মেটাতে হবে। এনবিআর এখন করের জাল বিছিয়ে রাজস্ব আহরণে নামবে।
প্রায় ১২ বছর পে স্কেল বঞ্চিত থাকা সরকারী চাকুরেদের হয়তো এটা পাওনা ছিল। কিন্তু সময়টা হয়তো সঠিক হলো না। আর পে স্কেল দিয়ে বেতন বাড়ালেই কি সরকারী দপ্তরে ঘুষ দুর্নীতি, হয়রানি বন্ধ হবে? তাদের কাছ থেকে এ নিশ্চয়তা কে আদায় করবে”?
প্রমাণ হলো- সরকারি চাকরিজীবী কতজন এবং তা বাংলাদেশের জনসংখ্যার কতভাগ? তাহলে অন্য যারা বেসরকারি চাকরিজীবী তারাতো কোন পে স্কেল পাচ্ছেনা নতুন করে? তাহলে তাদের কি হবে জীবনযাত্রার? অন্য সাধারণ মানুষেরই বা কি পরিণতি হবে?
এই উর্দ্ধগতির বাজারমূল্যে- যেখানে দ্রব্যমূল্যের কোন লাগাম নেই। যার যেমন খুশি দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট প্রচণ্ড। কৃষক ঠিকমতো তার উৎপাদিত পণ্যের দাম পায়না।
বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানী তেলের সংকটে দিশেহারা সরকার। মানুষের ঘরে হাঁড়িতে ভাত হয়না গ্যাসের অভাবে। তো এই সরকারি পে স্কেল কি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের খুশী করে তাদেরকে সরকারের পক্ষে কাজ করার জন্য?

ইউনুসের জঙ্গী-সেনা সরকারতো এমনিতেই দেশের অর্থনীতি-পররাষ্ট্রনীতির বারোটা বাজিয়ে গেছেন তার আমলে।
পাশের যে দেশটি বিগত শেখ হাসিনার আমলে খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটকালে পাশে এসে দাঁড়াতো, গার্মেন্টস সেক্টরের কাঁচামাল সরবরাহ করতো সে দেশটির সঙ্গেই চরম শত্রুতা শুরু করলো সুদখোর ইউনুস সরকার।
এমনকি ইউনুস নিজে চীন গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে ল্যান্ডলক এলাকা আখ্যায়িত করে চীনকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার মাধ্যমে ভারতের ওই সেভেন সিস্টার্সকে দখলে নিয়ে সেখানে শিল্প কারখানা ও ব্যবসা করার অযৌক্তিক প্রলোভনও দেখিয়েছিলেন।
তাছাড়া চিকেন নেক ও ভারতের এই উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স এমনকি কলকাতা দখলের জন্য ইসলামী জঙ্গী সংগঠন, তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত, সারজিস, বর্তমানের এনসিপির নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারিসহ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়ার নেতারা নানাভাবে প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।
তারমানে ইউনুস ও এনসিপিসহ অন্যরা যে উগ্র ভারত বিরোধীতার চরম আস্ফালন দেখিয়েছে তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করছে তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।
আর ইউনুস ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অন্যনামে মার্কিন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ইজারা দেয়ার চুক্তি করেছে।
বিএনপি তা বাতিলতো দূরের কথা সেটিই দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বন্দর আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা করার নামে। এ জন্য অবশ্য শোনা যাচ্ছে ইউনুস সরকার ও এখনকার তারেক রহমানের সরকার মোটা অঙ্কের উৎকোচ পেয়েছেন যা তাদের বিদেশী ব্যাংকে বা অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লগ্নি করা হয়েছে।
বন্দর নিয়ে চলছে নানা আন্তর্জাতিক ভাগবাটোয়ারা ও ষড়যন্ত্র। অপরদিকে আমেরিকার সাথে ইউনুসের যে চুক্তি তাতে করে অতি উচ্চমূল্যে গমসহ অন্য খাদ্যপন্য এমনকি অস্ত্রসহ অন্যান্য পণ্য আমদানী করতে আমেরিকার অনুমতি ছাড়া কিছুই করা যাবেনা এমন ক্লজ বা ধারা বজায় রেখেছে।
ফলে বাংলাদেশের পক্ষে সেসব অবস্থান থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মূলত বাংলাদেশকে সেই ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ন্যায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।
আর ইসলামী দেশ পাকিস্তান-সৌদি আরব এমনকি তুরস্ক অস্ত্র কারখানা করে দেয়ার লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশকে একটি পরনির্ভরশীল অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। যাতে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতে না পারে।
সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের সময় যে বাংলাদেশ বলতে গেলে অনেকটাই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার মত পর্যায়ে গিয়েছিল সেখানে এখন আবার বাংলাদেশ পুরোপুরি আমদানী নির্ভর একটি দেশে পরিণত হচ্ছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ধরে নিয়েই এখনকার তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এগোচ্ছে যা দেশটির জন্য চরম ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। বাংলাদেশের এই আত্মঘাতী রাজনীতি-পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থা দেশকে কোথায় কোন অন্ধকার গহ্বরে ফেলবে তা কেউ জানেনা।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবী এবং পেনশনভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। ১৭ কোটির এই দেশে তারা মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় করে যে বেতন বৃদ্ধির উৎসব চলছে, তার সুফল ভোগ করবে দেশের মাত্র ২ ভাগ মানুষ।
প্রশ্ন জাগে, বাকি ৯৮ ভাগ মানুষের কী হবে? যে বেসরকারি খাতের ওপর ভর করে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা থাকে, সেই বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পে-স্কেল নেই।
বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা সরকারি তদারকিও নেই। ফলে, এই উর্দ্ধগতির বাজারে বেসরকারি খাতের কোটি কোটি চাকুরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের বাজারে কোনো লাগাম নেই। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এখন সিন্ডিকেটের দখলে। বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে চলেছে, অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা নেই।

নিত্যপণ্যের এই প্রচণ্ড সংকটের সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের পকেটে বাড়তি টাকা আসার খবর বাজারে পৌঁছানো মাত্রই পণ্যমূল্য আরও এক দফা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কারণ, অতীতেও দেখা গেছে—যখনই পে-স্কেল ঘোষণা হয়েছে, বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিশাল বাড়তি অর্থ বাজারে তারল্য বাড়াবে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। ফলে সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বাড়লেও দিনশেষে মুদ্রাস্ফীতির জাঁতাকলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমবে।
অথচ দেশের অন্য প্রান্তের চিত্র অত্যন্ত করুণ। যে কৃষক রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফসল ফলায়, সে আজ মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সরকার নিজেই দিশেহারা।
কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—গ্যাসের অভাবে মানুষের ঘরের হাঁড়িতে ঠিকমতো ভাত চড়ছে না।
জ্বালানি সংকটের এই চরম মুহূর্তে রাষ্ট্রের এক বিশাল পরিমাণ অর্থ কেবল একদল নির্দিষ্ট শ্রেণির পেছনে ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। পে-স্কেল কি কেবলই আনুগত্য ক্রয়ের হাতিয়ার?
জনমনে এই সমালোচনা তীব্র হচ্ছে যে—এই সরকারি পে-স্কেল কি কেবলই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খুশি রেখে প্রশাসনের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি অপকৌশল? মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নীতিনির্ধারণী স্তরের মানুষদের সন্তুষ্ট রাখতে পারলে যেকোনো সংকটে তাদের পক্ষে ব্যবহার করা সহজ হয়।

সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় চলা রাষ্ট্রব্যবস্থায় যখন সিংহভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকে, তখন মাত্র ২ শতাংশ মানুষের বেতন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই আমলাতন্ত্রকে তোষামোদি করার এবং নিজেদের পক্ষে রাখার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।
কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সরকার যদি বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানির তীব্র সংকট সমাধান করতে না পারে, যদি কৃষকের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হয় এবং সর্বোপরি যদি বাজারের লাগামহীন সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া না যায়—তবে এই নতুন পে-স্কেল কেবলই একটি সুবিধাবাদী শ্রেণির জন্ম দেবে।
আমজনতার হাহাকারকে আড়াল করে কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার এই নীতি দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও দীর্ঘায়িত ও প্রকট করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো সমাজ ও অর্থনীতির জন্য এক বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে এটি নিশ্চিত। কারণ সরকারের হাতে আলাদীনের চেড়াগ নেই।
# ইশরাত জাহান: লেখক প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।
