সাম্প্রতিক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় প্রচণ্ড বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা-জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি। তাই পরীক্ষা পেছানোসহ কয়েকটি দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাজপথের আন্দোলন আবার নতুন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে নাতো?

স্বাভাবিকভাবেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের অবস্থা মানবিক কারণেই চিন্তা করে পরীক্ষা পেছানো দরকার।

সরকার তেমন ঘোষণাই দিয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিতে ভেজা ও অসুস্থতা নিয়ে ‘ফার্মের মুরগী’র সঙ্গে তুলনা করায় হঠাৎ করেই ইস্যু পেয়ে যায় আন্দোলনের পেছনের কুশীলবরা।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ সারা দেশেই এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা তুমুল আন্দোলনে নামে। তবে হঠাৎ করেই এ আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ অনেকটা সেই ২০২৪ এর একদফা আন্দোলনের ( প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ) কথাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

আসলে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে নানা সময়েই বাংলাদেশে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের ফায়দা হাসিল করতে সচেষ্ট ছিল। এর আগে ২০১৮ সালেও ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের নামে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল।

তবে সে সময়ও জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন সেই রগ কাটা পার্টি ‘ইসলামী ছাত্র শিবির’ ও ‘হিযবুত তাহরীর ’ এই সাধারণ শিক্ষার্থীদের খেপিয়ে তুলেছিল।

তখন কিন্তু আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীগণ এই কথিত ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যের অপশক্তির বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও সোচ্চার ছিলেন। তখন শেখ হাসিনার বুদ্ধিমত্ত্বার কারণে সরকার সেই জামায়তে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির, ও হিযবুত তাহরীরের মত ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের ষড়যন্ত্র দমন করতে পেরেছিল।

কিন্তু ২০২৪ এ মার্কিন ডিপষ্টেট ও প্রচন্ড ক্ষমতালোভী-টাকালোভী ড. মোহাম্মদ ইউনুসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এর যৌথ প্রযোজনায় ‘গুপ্ত’ ইসলামী জঙ্গী গোষ্টী শিক্ষার্থীদেরকে কাজে লাগিয়েছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে।

আর এ জন্য তারা বেছে নিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে।সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল সেটিকেই উপলক্ষ্য করেছিল। তখন ধুঁয়া তুলেছিল-‘মেধা না কোটা’।

সাধারণ জনগণকেও এই‘মেধা’ ট্যাবলেট খাওয়াতে পেরেছিল সে সময়কার কথিত আন্দোলনকারিরা।

আসলে এটি পুরোপুরিই ছিল মুক্তিযুদ্ধ-প্রগতিশীল রাজনীতি-বাঙ্গালী সংস্কৃতিসহ এ দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা সেটিকে ধ্বংস করে দেয়া।

এই কথিত ছাত্র আন্দোলনে জামায়াত-শিবির-হিযবুত তাহরিরসহ চরম ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠীর সদস্যরা বাম ছাত্র সংগঠনগুলোও কৌশলে যুক্ত করতে পেরেছিল।

এই কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে মূলত বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও তরুণ সমাজকে এমনকি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিক নেতৃত্বকে টেনে এনেছিল। আর সেটি সম্ভব হয়েছিল আমেরিকান বিপুল পরিমাণ ডলারের বিনিময়ে।

সেই কোটা আন্দোলনের একটি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, কোটা কি মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে নাকি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? তখনই এটিকে নতুন করে ইস্যু তৈরী করেছিল ইসলামী জঙ্গী সংগঠনগুলো।

আসলে তাদেরকে এই সস্তা ইস্যু মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল ডিপষ্টেটের কুশীলবদের পক্ষ থেকে। শ্লোগান শুরু হয়ে গেলো- ‘তুমি কে আমি কে – রাজাকার রাজাকার’। ‘কে বলেছে- স্বৈরাচার স্বৈরাচার।’

তার মানে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বানিয়ে দেয়া হলো, আর আন্দোলনকারিদেরকে রাজাকার আখ্যাটি নিজেরাই বানিয়ে নিলো। এভাবেই উত্তেজিত করে তোলা হয়েছিল।

এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে যখন কোটা তুলে নেয়ার ঘোষণাও দেয়া হলো তখন এসব কথিত আন্দোলনকারিরা প্রধানমন্ত্রীর পতনের একদফাতে অনড় থাকলো।

আর তাতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ইসলামী জঙ্গী সদস্যরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করলো। সেনাপ্রধান ওয়াকার উয-জামান অত্যন্ত কূটকৌশলে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে মূল ভূমিকা পালন করলেন।

অথচ ওয়াকারকে সেনাপ্রধান না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নানা পক্ষ থেকে বারন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি লতায় পাতায় ভগ্নিপতি জামায়াতের গুপ্ত নেতা ওয়াকারকেই সেনাপ্রধান বানালেন। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।

বিষধর জামায়াত নামের সাপটি তার ছোবল ঠিকই মেরেছে শেখ হাসিনাকে। কিন্তু পুরো বাংলাদেশটিকেই তছনছ করে ফেলেছে এই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী।

তো এরই মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার ইস্যু নিয়ে যে ছাত্র আন্দোলন তাতেও কিন্তু সেই জামায়াত-শিবির ও তাদের বাই প্রোডাক্ট রাজনৈতিক দল এনসিপি আগুনে ঘি ঢালছে।

কারণ শিক্ষামন্ত্রী মিলন ওই যে ‘ফার্মের মুরগী’র কথা বলেছিলেন সেজন্য তিনি সংসদে দুঃখ প্রকাশও করেছেন। কিন্তু তারপরও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ সারাদেশে যে নৈরাজ্যকর ছাত্র আন্দোলন দেখলাম আমরা তাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে সত্যিই কি এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন? নাকি এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য কাজ করছে?

২০২৪ এ ছিল- “তুমি কে আমি কে – রাজাকার, রাজাকার”। এবার এলো- “আমি কে তুমি কে–ফার্মের মুরগি ফার্মের মুরগি”।

বৃষ্টি-জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বৃষ্টিতে ভিজলে পরীক্ষা দেয়া যাবেনা এমন শিক্ষার্থীকে শারিরীকভাবে অত্যন্ত নরম বোঝাতে গিয়ে ফার্মের মুরগীর সাথে তুলনা করেন।

দুর্বল ও ফার্মের মুরগীর সাথে তুলনা করায় আরো বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। এই ‘ফার্মের মুরগী’ আখ্যায়িত করাটিকেই পুঁজি করে এই আন্দোলনে উস্কানিদাতা আমেরিকান মদদপুষ্ট গোষ্ঠী।

এ নিয়েই তারা রাজপথে নেমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা কর্মসূচী ঘোষণা করে। তবে তাদের মূল টার্গেট হয়ে যায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও উত্তরায় বিক্ষোভ করছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলন শুরু করেন।

এসময় নানা প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন তারা।এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা দেখা যায়, ‘এক দফা এক দাবি, মিলনের পদত্যাগ’; ‘আমি কে তুমি কে, ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’ ও ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’– এমন নানা স্লোগান দেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে ‘কলেজ নেটওয়ার্ক’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রথমে কর্মসূচির প্রচারপত্র প্রকাশ করা হয়। এ যেন সেই ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টের প্রতিচ্ছবি।

তবে তখন ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়। আর এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায়। শুধু আওয়ামীলীগ-বিএনপি ফারাক।

কিন্তু শ্লোগানের ভাষা ও আন্দোলনের ধরন একই। খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে এই যে ‘এইচএসসি পরীক্ষা সমস্যা’ –এটিকেই ‘ইস্যু’ তৈরী করেছে জামায়াত শিবির ও এনসিপি। তবে এজন্য তাদের পেছনে রয়েছে আমেরিকান ডিপষ্টেটের চাবিকাঠি।

বিভিন্ন পরিবেশ-পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু নানা ষড়যন্ত্রেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যতটুকু জানা গেছে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তা হলো- ছাত্রদের চলমান আন্দোলনের সাথে সরাসরি যুক্ত মার্কিন ডিপস্টেট এবং জামাত-এনসিপি কাজ করছে।

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে এসে অবস্থান নিচ্ছে মার্কিন ডিপস্টেটের ৬ জন ইন্টেলিজেন্ট। এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে আরো কিছু কমান্ডো এসেছে। তাদের মূল টার্গেট তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে উৎখাত করে জামাত-এনসিপিকে দিয়ে সরাসরি সরকার গঠন করা।

কারণ হলো এখনকার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমেরিকা এখানে চলমান এবং ভবিষ্যতের প্রজেক্টগুলো সফল করার বিষয়ে বিএনপির উপর ভরসা রাখতে পারছে না ।

মূলত তারা খানিক গড়িমসি করেছে এবং সেগুলো ডিপস্টেটের কাছে তুলে ধরেছে জামাত এনসিপি। ফলে ডিপস্টেট চাচ্ছে জামাত-এনসিপি দিয়ে সরাসরি সরকার গঠন করে কাজগুলো দ্রুত সফল করবে। প্রজেক্টগুলো সফল করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর পুরো পূর্ণ সাপোর্ট পাবে জামাত এনসিপি।

এরপর হলো-আওয়ামীলীগকে ঠেকানো বা শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকানো। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির জন্য এটা জীবনপণ প্রসঙ্গ। কারণ আওয়ামীলীগ ফেরা মানে নিশ্চিতভাবে তাদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহিতায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

আর সেটা ঠেকাতে তারা সারা দেশে তাদের শক্তির জানান দেবে – এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার আওয়ামীলীগ ঠেকাতে পারবে না ; শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকাতে পারবে না। এমনকি – শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সময় জামাত যে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চায় – বিএনপির হাতে ক্ষমতা থাকলে সেটার ভরসা পাচ্ছে না জামায়াত-এনসিপি। ফলে তারা বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলে ক্ষমতা হাতে নিয়ে ফেলতে চাচ্ছে।

জামায়াত-এনসিপি জঙ্গী গোষ্ঠী মূলত তাদের পুরনো কূটকৌশলকেই কাজে লাগাতে চাইছে। ২০২৪ এ তারা যেভাবে সফল হয়েছিল এবারও তারই পুনরাবৃত্তি করার কৌশল নিয়েছে। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন- জামাত এনসিপির অনেক নেতা বার বার বলেছেন – বিএনপিকে সরাতে তাদের ২দিনও লাগবে না। এটা সেই মিশন।

যে মিশনে মার্কিন ৬ জন ইন্টেলিজেন্ট দেশে অবস্থান করে সরাসরি এগুলো পরিচালনা করছে।

চীন সফরের মাশুল দিতে হবে তারেক রহমানকে ?

বাইচান্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য মূল্য দিতে হচ্ছে সম্ভবত। যদিও তারেক রহমান মালয়েশিয়া এবং চীন সফর থেকে তেমন কোনো কিছু আনতে পারেননি। অনেকটা খালি হাতে ফিরেছেন, আশ্বাস ছাড়া।

কিন্তু তারপরও আমেরিকার মদদে ক্ষমতায় বসে চীন সফর করতে যাওয়া আমেরিকার জন্য অপমানজনক। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকা তা মেনে নেবে না। সুতরাং দেশে কিছু একটা দিয়েতো সমস্যা তৈরী করতে হবে।

অতএব এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জনপ্রিয় সমস্যাটিকে আরো তুঙ্গে তুলে দেয়ার সমস্ত প্রচেষ্টা চলছে। নাহলে ঢাকাসহ সারাদেশে একসাথে এই আন্দোলন দানা বাঁধতে পারতোনা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখলাম-বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মূল গেইটের একটি লোহার গেইট বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিপুল উৎসাহে খুলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যে দাবিতে তারা আন্দোলন করছে সেজন্য কি তাদেরই শিক্ষা বোর্ডের ক্ষতি করবে তারা?

এটি কোন ধরনের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন? আন্দোলনের এসব ধরন কোনভাবেই স্বাভাবিক আন্দোলন মনে হচ্ছেনা। ২০২৪ এর সেই কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তারা সারা দেশেই যেভাবে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করেছিল এবারও কি তাই করতে চাইছে?

এসব ঘটনাবলীকে একেবারে সাদামাটাভাবে দেখা বোধ হয় ঠিক হবেনা।

কারণ হুট করে নানা শ্লোগান দিয়ে প্ল্যাকার্ড বানানো, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনঢ় থাকা এসব নিশ্চয়ই এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া ছাত্রদের মাথা থেকে হুট করে আসেনি।

একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে কথিত সুশীল সমাজের কয়েকজন ব্যাক্তি যারা আমেরিকার অঙ্গুলি হেলনে চলেন তারা বিএনপি সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন।

এদিকে শেখ হাসিনা দেশে ফেরা মানে সব ওলট-পালট হয়ে যাওয়া। এবং এই ২ বছরে দেশে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা কতগুণ বেড়েছে – সেই রিপোর্ট মার্কিন ডিপস্টেটের কাছে আছে।

ফলে তারা জানে – শেখ হাসিনা ফেরা মানে ফের ক্ষমতায় যাওয়া, ফের ক্ষমতায় যাওয়া মানে আমেরিকার সব আশা শেষ।

রাজনৈতিকভাবে তাদের সর্বোচ্চ আশা-ভরসার জায়গায় আছে জামাত এনসিপি। সুতরাং, জামাত এনসিপিকে দিয়ে সরকার গঠন করতে তারা একাধিক প্ল্যান প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। তার প্রথম এবং ছোট প্ল্যান এখন প্রয়োগ করা হচ্ছে।

খেয়াল করুন – শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় ঘোষণার ২ দিনের মধ্যে মার্কিন ডিপস্টেটের ৬জন ইন্টেলিজেন্ট বাংলাদেশে এসে অবস্থান করা ছোট বিষয় নয়।

তারা বর্তমানে ওয়েস্টইন এ আছে। দেশে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশে তোলপাড় শুরু হলো। ইস্যু ছিলো বন্যা এবং এইচএসসি পরীক্ষা পিছানো এবং শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগী বলা। সেটা রাতের মধ্যেই ডিপস্টেট ক্যাশ করে ফেলেছে।

আজ সারাদেশে যে আন্দোলন চালানো হচ্ছে – সেখানে বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে জামাত এনসিপি গুপ্ত অংশ এবং ২৪ এর ষড়যন্ত্রে ব্যবহৃত সেই স্ট্রাকচারের অংশমাত্র।

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *