খবরটি চোখে পড়লো সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু এমন সংকট ও ক্ষুব্ধ কৃষকদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও বোধ হয় সাংবাদিক বন্ধুগণ তেমন সাহস করে লিখতে কিছুটা সংকোচ করেছেন।

২৩ আগষ্ট প্রকাশিত খবরটির হেডলাইন ছিলো-“ কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা।”

সাবেক অবৈধ-অগণতান্ত্রিক ইউনুস সরকারের খুব একনিষ্ঠ তাবেদার-সম্পাদক(অবশ্য তিনি এখন বিএনপির কান্ডারি তারেক রহমান বলতেও অজ্ঞান) মতিউর রহমানের পত্রিকা প্রথম আলোতেই লেখা হলো- ‘ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে’!

পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সনে বলা হয়েছে-“পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সারের সংকটের কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও উপজেলা কৃষি কার্যালয়।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার সরবরাহের জন্য তিলাই ইউনিয়নের ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্সের’ নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমের জন্য ডিলার ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কিন্তু কৃষকেরা কয়েকবার গুদামে গিয়েও সার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে আজ সকালে স্থানীয় কৃষকেরা এক জোট হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

এদিকে কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেছেন, কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েও তাঁরা সার পাননি। ডিলারের গুদামে সার না থাকলেও খোলাবাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

পরে কৃষকেরা জোটবদ্ধ হয়ে গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। এ বিষয়ে শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।”

যে কৃষক ফসল ফলিয়ে আমাদের খাদ্যের যোগান দিয়ে পুরো জাতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন সেই কৃষকদের জন্য এই হোলো গত ৬ মাসের তারেক রহমানের সরকারের “উপহার”। সারের জন্য কৃষকদের এ বিক্ষোভতো শুধুমাত্র শুরু। এরপর বিদ্যুৎ-ডিজেলের জন্যও যে শুরু হবেনা তার কোন গ্যারান্টি নেই। অবশ্য সেচ মৌসুমে এ বিষয়গুলোর পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

আমার কাছে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারির কৃষক ভাইদের এই সার নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশটি আজ থেকে ৩১ বছর আগের ঘটনাবহুল মর্মান্তিক কৃষক হত্যার বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়।

১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ বিএনপির শাসন আমলে সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত গুলিবর্ষণে ১৮ জন কৃষকের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল এ বাংলার মাটি। আহত হয়েছিলেন শতাধিক খেটে খাওয়া কৃষক।

তারমানে কি হয়েছিল তখন? বিএনপি’র লোকেরা সারের ডিলার নিয়ে তা চোরাইভাবে বিক্রি করতো। পকেট ভারি করেছিল তারা।

বিএনপি সরকার মানে তখনকার খালেদা জিয়ার সরকার কৃষকদেরকে সারতো দেয়ইনি উল্টো পুলিশ আর বিএনপির ক্যাডারদের দিয়ে গুলি চালিয়ে কৃষকদেরকে নির্মমভাবে খুন করে, অত্যাচার করে আন্দোলন দমাতে চেয়েছিল।

এইতো ছিল তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। সারের বদলে প্রাণ গেলো কৃষকের।

তো এখন তো তারই সুযোগ্য (!) পুত্র তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায়। তো মায়ের দেখানো পথেই যে পুত্র হাঁটবেন কিছুটা হলেও তাতো বোঝাই যাচ্ছে।

সাধারণ যে কৃষক তার ফসল ফলানোর জন্য ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছেন না। যা তাদের ন্যায্য অধিকার সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফলে ফুঁসে উঠেছেন কৃষক সমাজ।

সেই ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চের ন্যাক্কারজনক কৃষক হত্যা দিবসটি বাংলাদেশে কালের অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তো আবার এই ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে সারের জন্য ডিলারের গুদাম ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আবারো কিন্তু সেই বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ন্যায্য অধিকারের বিষয়টিই মনে করিয়ে দেয়।

এখনকার তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের সার কারখানা বন্ধ থাকায় তীব্র আমদানি-নির্ভরতা পুনরায় দেশের কৃষি ও সার বণ্টন ব্যবস্থার বড় ধরনের সংকটকে সামনে এনেছে।

দেশের সার কারখানাগুলোর উৎপাদনের কি অবস্থা ও বিদেশ থেকে কি সার আমদানী করতে হচ্ছে? সার সংকট দেখা দিয়েছে এরই মধ্যে? ইতিমধ্যে কুড়িগ্রামে আবার সারের ডিলারের গোডাউন থেকে বিক্ষুব্ধ কৃষকের সার নিয়ে যাওয়া নিশ্চয় বর্তমান সরকার যে কৃষকবান্ধব নয় তারই প্রমাণ মেলে।

তারমানে আবারো সেই লোভী সিন্ডিকেটের থাবা! আবারো কৃষকের কান্না! অতীতের রক্তপাত থেকে কি শিক্ষা হয়নি এদের? নাকি দলের লোকজনকে লুটপাট করতে দেয়ার জন্যই ক্ষমতায় আসা?

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কিন্তু এই কৃষকই বাঁচিয়ে রেখেছে দেশটিকে। এখনো যে দেশে দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়নি তার পুরো কৃতিত্ব কিন্তু এই কৃষকদের। তা শুধু ফসল ফরঅনোর ক্ষেত্রে নয়।

মাছ,মাংস থেকে শুরু করে সব ধরনের খাদ্য-আমিষ যোগান দেয়ার ক্ষেত্রে কিন্তু এই কৃষকদেরই অবদান সবচেয়ে বেশি সেটি ভুলে গেলে চলবেনা।

যেখানে এ দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে মাটির উর্বরতা ও ফসলের ফলনের ওপর নির্ভরশীল। এ দেশের কৃষককে বলা হয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, যুগে যুগে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভুল নীতি, সিন্ডিকেট এবং বণ্টনের অব্যবস্থাপনার কারণে এই কৃষকদেরই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

অতীতে সারের দাবিতে রাজপথে কৃষকের রক্ত ঝরেছে, আর বর্তমানেও ডিলারের গুদাম ভেঙে কৃষকদের সার কেড়ে নেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এই ঘটনাগুলো কেবল সারের সাময়িক অভাবকেই নির্দেশ করে না, বরং দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত দুর্বলতা, দেশীয় কারখানার উৎপাদন বিপর্যয় এবং প্রশাসনের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার এক জীবন্ত দলিল।

১৯৯৫ সালের শুরু থেকেই দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় কৃষকরা সারের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে এবং কালোবাজারি বন্ধের আহ্বানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেন।

কিন্তু বিএনপি সরকার কৃষকদের এই যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে দমনপীড়নের পথ বেছে নেয়। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ আন্দোলন তীব্র রূপ নিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে।

এই বর্বরোচিত পুলিশি অ্যাকশনে ১৮ জন নিরীহ কৃষক প্রাণ হারান। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে “কৃষক হত্যা দিবস” বা “সার আন্দোলন” নামে পরিচিত। রাষ্ট্র যখন কৃষকের অন্নের সংস্থান করার উপকরণের বদলে বুকে বুলেট উপহার দেয়, তখন তা নাগরিক অধিকারের চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য হয়।

অতীতে সংকটের মূল কারণ যদি হয়ে থাকে কৃত্রিম হাহাকার, তবে বর্তমান ২০২৬ সালের সংকটের পেছনে রয়েছে দেশীয় সার কারখানাগুলোর ভয়াবহ উৎপাদন স্থবিরতা।

দেশের গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাত এবং বিদ্যুৎ খাতের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে দেশের বৃহৎ সার কারখানাগুলোর উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

যতটুকু জানা গেছে- তীব্র প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের কারণে দেশের অন্যতম প্রধান সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও উৎপাদনহীন হয়ে পড়ে আছে।

কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত ফসফরিক অ্যাসিড আমদানি করতে না পারায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি (ডায়ামোনিয়াম ফসফেট) সার কারখানাও বন্ধ রয়েছে।

বারংবার টেন্ডার আহ্বান করেও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আদৌ তা সম্ভব হবে কিনা তারও নিশ্চয়তা নেই।

অপরদিকে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্প চালু করার জন্য কারিগরি সহায়তা নেওয়া হলেও গ্যাস সংকটের কারণে দেশীয় সামগ্রিক সার উৎপাদন দেশের মোট চাহিদার তুলনায় নগণ্য।

দেশের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ বৈশ্বিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই যে অতিমাত্রায় আমদানী নির্ভরতা সেজন্যদো চাই বৈদেশিক মুদ্রা। সে মুদ্রা আসবে কোত্থেকে তা কি ভেবে দেখেছেন জনাব তারেক রহমান?

দেশীয় কারখানাগুলো উৎপাদন সচল রাখতে না পারায় বাংলাদেশ রাসায়নিক সারের জন্য এখন মারাত্মকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে প্রায় ৫৮ লাখ মেট্রিক টন রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হবে।

দেশের সিংহভাগ ইউরিয়া সার আমদানি করতে হচ্ছে সৌদি আরবের ‘সাবিক’ (SABIC) কোম্পানি থেকে। এছাড়া রাশিয়া, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পটাশ (MOP) ও টিএসপি সার আমদানি করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টন সার আমদানির জরুরি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সার আমদানির নিয়মিত শিপমেন্ট মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

একই সাথে, ডলার সংকটের এই সময়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে সার আমদানি করতে গিয়ে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ট্রিপল সুপারফসফেট (TSP), এমওপি (MOP) এবং ডিএপি (DAP) সারের মজুত ইতিমধ্যে নিরাপদ মাত্রার নিচে নেমে গেছে।

ঠিক এই আমদানি সংকট এবং মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনার বাস্তব বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে।

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ইউনিয়নে সারের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৪,০০০ বস্তা, কিন্তু সরকারি বরাদ্দ ছিল মাত্র ১,৩২০ বস্তা। ডিলার সেই বরাদ্দেরও পুরোটা সংগ্রহ করেননি, গুদামে ছিল মাত্র ৩৪০ বস্তা।

চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের এই বিশাল ঘাটতি এবং ডিলারের বণ্টন নিয়ে গড়িমসিই কৃষকদের আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য করেছে। যেকোনো সরকারই নিজেকে “কৃষকবান্ধব” হিসেবে দাবি করতে পছন্দ করে।

কিন্তু কুড়িগ্রামের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, এই স্লোগান অনেক ক্ষেত্রেই কেবল কাগজে-কলমে বা রাজনৈতিক শ্লোগান বা বাগাড়ম্বরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সরকারের এই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দাবি করা হতে পারে যে সারের মজুত পর্যাপ্ত। যদি তাই হয়, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা কেন সময়মতো সার পাচ্ছেন না? ডিলাররা কেন সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন?

কুড়িগ্রামের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে যে স্থানীয় প্রশাসন ডিলারদের তদারকি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন থেকে ডিলারদের অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি না করার জন্য সতর্কবার্তা দিলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন নেই।

যেখানে চাহিদা ৪,০০০ বস্তা, সেখানে বরাদ্দ ১,৩২০ বস্তা দেওয়া কীভাবে একটি দূরদর্শী ও কৃষকবান্ধব নীতি হতে পারে? এই ধরনের বিশাল ঘাটতি রেখে কৃষকদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া এক ধরনের তামাশা। সরকারি গুদামে সার না থাকলেও খোলাবাজারে চড়া দামে সার পাওয়া যাওয়ার অর্থ হলো—সার পাচার ও কালোবাজারির শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয়।

সরকার যদি এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারে, তবে তার “কৃষকবান্ধব” ইমেজের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অতীতে এই বিএনপি সরকারের কাঁধে তো ১৯৯৫ সালের কৃষক হত্যার ন্যাক্কারজনক উদাহরণ রয়েছেই।

১৯৯৫ সালের সারের দাবিতে ১৮ জন কৃষকের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কৃষকের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

কুড়িগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনাটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ডিলারদের সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার ও ডিজেল পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত নিরীহ কিন্তু প্রতিবাদী কৃষকের রক্তে রঞ্জিত ছিল। তো এখনকার বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশ্চয়ই সেই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়টি মনে থাকার কথা।

এখনো বর্ষা শেষ হয়ে যায়নি, তাই সেচের প্রয়োজন নেই। কিন্তু কয়েকমাস পরে জমিতে সেচের প্রয়োজন হবে। তার জন্য চাই ন্যায্যমুল্যে ডিজেল ও বিদ্যুৎ । জমির উর্বরতার জন্য সারতো অত্যাবশ্যক এখনকার দিনে। কিন্তু দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ-জ্বালানী-সারের যে সংকটময় পরিস্থিতি এরই মধ্যে দেখছি তাতে সংকট সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলেই আশংকা করা হচ্ছে।

তো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোন পথে হাঁটবেন? ১৯৯৫ সালে ও ২০০১ সালে তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালীন সময়কালের উদাহরণে নাকি তিনি লন্ডন থেকে নতুন কোন প্ল্যান এনেছেন?

ওই যে তিনি বলেছিলেন লন্ডন থেকে ফিরেই-“আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”। আমরা আপামর জনতা এখনো জানতে পারিনি সেই প্ল্যানটি কি? তা জানার অপেক্ষায় রইলাম।

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *