সিআরবিতে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প থেকে কিন্তু এখনকার গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকার সরে আসেনি।

অথচ এই প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল তাদের ভাষায় সাবেক ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকার তথা শেখ হাসিনার সময়ে। যেহেতু সেই ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের’ সব প্রকল্পই খারাপ তাহলে এই প্রকল্পটি কেন বাদ দেয়া হচ্ছেনা সে প্রশ্ন কিন্তু দেখা দিয়েছে।

নাকি সেখানে বিশাল টাকার অংকের ভাগবাটোয়াসহ নানা সুযোগ সুবিধা আদায়ের বিষয়টি এখনকার সরকার চরম যত্নে লালন-পালন করছে অন্তরে ?

এই সরকার এসেই তো বলা শুরু করেছে-মেট্রোরেল, এলিভেটেটে এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মাসেতু, নদীর তলদেশে টানেলসহ আরো যেসব উন্নয়নমূলক কাজ শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হয়েছিল তার সবই নাকি কোন কাজের না। মানে অকাজের।

এমনকি তা বন্ধ করে দেয়ার কথাও বলছেন কোন কোন নেতা-মন্ত্রী। তো তাই যদি হয় তাহলে এই সিআরবিতে আবার সেই “ফ্যাসিবাদের প্রকল্প” নিয়ে তা বাস্তবায়নে উঠে পড়ে লেগেছেন কেন বাপু আপনারা ? নাকি আপনাদের কাছে টাকা বানানোটাই আসল – এমন প্রশ্ন যদি জনগণ করে থাকে তাহলে তাকি খুব বেশি অমূলক হবে ?

সিআরবি বলতে বাংলাদেশে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং এলাকাকেই বোঝানো হয়। চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং বা সিআরবি (CRB) ভবনটি ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।

এটি বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ভবনগুলোর মধ্যে একটি এবং এটি ব্রিটিশ আমলে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের সদর দপ্তর হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। ভবনটি শুধু নান্দনিকই নয়, সেই সাথে হেরিটেজ হিসেবেও ঘোষিত। রেলওয়ের এই ভবন কমপ্লেক্সটি একটু উঁচু পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।

আর এটিকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি পাহাড়। যেখানে রয়েছে শতবছরের ও অধিক প্রাচীন কিছু শিরীষ গাছসহ নানা প্রকার বনজ ও ঔষধি গাছপালা-লতাগুল্ম। পাখির কলকাকলিতো বটেই চট্টগ্রাম নগরীর মধ্যে বিশাল এলাকা জুড়ে এই সবুজ অরণ্যবেষ্টিত এলাকাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে প্রকৃতি।

মানবদেহ যেমন ফুসফুসের মাধ্যমে অক্সিজেন নিয়ে দেহকে সচল রাখে তেমনি বলা চলে এই সিআরবিও মানবদেহের মত নগরীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু সেখানেই একদল লোভী ব্যবসায়ী ও অবিবেচক-আমলার নজর পড়েছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ করার। সেটি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই শুরু হয়।

তবে তখন চট্টগ্রামের বিভিন্ন পরিবেশবাদী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক এমনকি দলমত নির্বিশেষে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এর বিরোধীতায় আন্দোলন করে তা ঠেকিয়ে দিয়েছিল। তখন কিন্তু চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগের যেসব মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ছিলেন তারাও এর বিরোধিতা করেছিলেন।

বিএনপিও তখন সায় দিয়েছিল এই বিরোধিতায়। ফলে আওয়ামীরীগ সরকার তা থেকে পিছুটান দিতে বাধ্য হয়।
সবাই ভেবেছিল রক্ষা পেলো প্রাণবৈচিত্রে ভরা সিআরবি এলাকা।

২০২৪ এর ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারকে উৎখাত করা হলো একটি ইসলামী জঙ্গী-সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে। তারপর আমেরিকার মদদপুষ্ট ও আজ্ঞাবহ ইউনুস সরকার দেশে যা পারলো তাই করলো। সীমাহীন লুটপাট-ইউনুস বাণিজ্যকরণ ও ইউনুসের সম্পদ নামে বেনামে ফুলে-ফেঁপে অনেক মোটা হয়েছে।

সেইসাথে তার সরকারের নিকৃষ্ট উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যদেরও। আর এনসিপি-জামায়াতে ইসলামীও বেশ ইনকাম করে নিয়েছে সে সময়। এখনো তাদের সে বানিজ্য চলছে নানাভাবে যদিও এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়।

অবশ্য ইউনুসের সময় এই সিআরবি নিয়ে আর কোন খবর ছিলনা। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মাথাতেই আবার সেই হাসপাতাল প্রকল্প মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যদিও এর মধ্যে চট্টগ্রামে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকরা এর মধ্যেই আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেছেন।

আর তাতে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন বললেন, সিআরবিতে পরিবেশ ধ্বংস করে কোন হাসপাতাল করার পক্ষে তিনি থাকবেন না। কি কারণে মেয়র এ কৌশল নিলেন সে বিষয়ে একটু পরেই আলোচনা করছি।

এদিকে আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকারের নতুন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যার পর সেই সিআরবি এলাকা দেখতে গেলেন। কিন্তু তার আগেই সরাদিনমান ধরে আন্দোলনকারিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা এখানে কোন হাসপাতাল করতে দেবেন না। তা অবশ্য মন্ত্রীর কানে দিয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়র শাহাদাত।

ফলে রেলমন্ত্রী এদিন সন্ধ্যার পর অন্ধকারে সিআরবিতে কি দেখতে গেলেন তা ঠিক বোঝা গেলোনা।

তবে রেলমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলতে বাধ্য হলেন যে, সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের কোনো সিদ্ধান্তই এখনো নেয়নি সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে রেলমন্ত্রীর পরিদর্শন সূচিতে সিআরবিতে প্রস্তাবিত হাসপাতাল নির্মাণের স্থান উল্লেখ ছিল।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরব হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজ। কিন্তু গত রবিবার সন্ধ্যার পর সিআরবি পরিদর্শনে গিয়ে রেলমন্ত্রী জানাচ্ছিলেন, সিআরবিতে কোনো অবৈধ স্থাপনা আছে কি না বা অফিস-কোয়ার্টারগুলোর অবস্থা দেখার জন্য এসেছেন। কি হাস্যকর কথা !! যেকোন বাচ্চা ছেলেও বুঝবে যে রেলমন্ত্রী কেন গিয়েছিলেন সেখানে।

অন্যান্য কথার সাথে রেলমন্ত্রী এটাও কিন্তু বললেন- “তবে পিপিপির সেই প্রকল্প এখনো আগের অবস্থায় রয়ে গেছে।” তারমানে কি!!?

মন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন যে, প্রকল্প বাতিল হয়নি। এটি অন্যভাবে ঘুরিয়ে মানে এখন রেলওয়ের যে পুরনো হাসপাতাল রয়েছে সেটিকে ঘিরে নতুন করে সেই নতনি হাসপাতাল প্রকল্প যা “ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার” নিয়েছিল তা বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

মন্ত্রীর কথাতেই বোঝা যায়-ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। তিনি আরো বললেন- নাগরিক সমাজের আন্দোলন ও সরব প্রতিবাদ নিয়ে তার ভাষ্য, ‘আন্দোলন হতেই পারে।আন্দোলন যারা করছে এটা তাদের ব্যাপার। হয়তো কেউ জেনে করছে, কেউ করছে না জেনে। মেয়র সাহেব আমাকে বলেছেন, যারা আন্দোলন করছেন তারা সিআরবিতে হাসপাতাল চান না। আমি বলেছি, না চাইতেই পারে।’ চসিক মেয়র সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের কৌশলে হাঁটছেন!?

তবে এই আন্দোলন সংগ্রাম দেখে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত বলেই বসলেন- সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল বা নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। গত ১৯ এপ্রিল রবিবার নগরীর জামালখান লিচুতলা এলাকায় ‘নগরীর খাল-নালা পরিষ্কারে বিশেষ কার্যক্রম’ উদ্বোধন এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এ কথা বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর, সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং-সিআরবি এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনা-সমালোচনা ও আন্দোলনের মধ্যেই মেয়র এই ঘোষণা দিলেন।

তবে এখনকার বিএনপি সরকারের মধ্যে চট্টগ্রামের কিছু নেতা অন্যভাবে তদবির করছেন যাতে এখানে আগের প্রস্তাবিত হাসপাতাল হয়। কারণ তাতে তাদের একধরনের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়াসহ নানা সুযোগ সুবিধে নিতে পারবেন বলেই কেউ কেউ বলছেন।তবে এখনকার মেয়র ডা. শাহাদাত আগামী মেয়র ইলেকশনের বিষয়টি মাথায় রেখে চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারনের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগাতে কৌশলী অবস্থানে রয়েছেন।

সিআরবি’র প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ বলছেন, ডা. শাহাদাত বিএনপির রাজনীতি করলেও তিনি চট্টগ্রামের তিন তিনবারের সাবেক মেয়র প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মত কিছু কৌশল নিয়েছেন সম্ভবত।

এ ব্যাপারে তারা বলছেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আমেরিকান স্টিভিডোর কোম্পানী এসএসএ যে টার্মিনাল নির্মানের প্রক্রিয়া ও তার বিরুদ্ধে মহিউদ্দিন চৌধুরীর আন্দোলনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

তারা বলছেন, সে সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী আওয়ামীলীগের নেতা ও মেয়র হয়েও খোদ আওয়ামীলীগ সরকারের তীব্র বিরোধিতাই শুধু করেননি তিনি চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণকে নিয়ে এসএসএ টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়াই বন্ধ করে দিতে পেরেছিলেন। এতে তখন তার জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। হয়তো এখনকার বিএনপি দলীয় নেতা ও চসিক মেয়র সেই কৌশল নিচ্ছেন।

এদিকে গত তিনদিন ধরে একাধিক সংগঠন বিবৃতি দিয়ে ও সমাবেশ করে সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল প্রকল্প স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিও জানিয়েছে। এরই মধ্যে সিআরবি’তে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকগন মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

এ ব্যাপারে ন্যাপ নেতা মিতুল দাশগুপ্ত বললেন- “ভাবিনি আবার চট্টগ্রাম সিআরবি রক্ষা আন্দোলনে নামতে হবে। ২০২২ সালে মীমাংসিত চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবিতে কোন হাসপাতাল হবে না মর্মে ঘোষণার পর এবার নতুন সরকারের এখনো ৩ মাস অতিবাহিত হয়নি, তার মধ্যে এক শ্রেণীর উৎ পেতে থাকা অর্থ লোভী ধান্ধাবাজ গুটিকয়েক আমলা আর বর্তমান বিএনপি সরকারের ১ জন মন্ত্রী ও গুটিকয়েক রেল কর্মকর্তার যোগসাজশে সিআরবি তে ইউনাইটেড গ্রুপের হাসপাতাল তৈরীর দৌড়ঝাঁপ শুরু করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

পাশাপাশি নতুন সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। তাই সিআরবি তে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ডাঃ মাহফুজ রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, রেল শ্রমিকদল সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছি। আসুন, ভূমিখেকো চট্টগ্রাম বিদ্ধেষীদের রুখে দাঁড়াই!”

এর আগে সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলে মেয়র বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছিলেন। এবারও সেই উদ্যোগে তার ভূমিকা জানতে চান সাংবাদিকরা। মেয়র শাহাদাত বলেন, “দেখুন এখানে অনেক কথা আসছে সিআরবি নিয়ে। আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। “উনাকে আমি বলেছিলাম, যে এখানে গাছ কেটে সিআরবিতে কখনো কোনো হসপিটাল বা স্থাপনা আমরা করতে দিব না। এবং এটা চট্টগ্রামবাসী কখনো মেনে নিবে না।

সিআরবি’র এই আন্দোলন নিয়ে গতবার এই আন্দোলনের সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন কবি-লেখক কামরুল হাসান বাদল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন- “২০২১ সালে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সফল হয়েছিলাম আমরা। আমরা মানে কথিত ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’। এবার কী হবে? সরকারি দলের লোকেরা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে তো?”

পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনকারিরা বার বারই বলে আসছেন– রেলের প্রচুর জায়গা আছে চট্টগ্রামে। দখলে যত আছে বেদখলে সম্ববত সে পরিমাণ। নগরের আমবাগান, পাহাড়তলী, অক্সিজেন মোড়, হালিশহর-বন্দর এলাকায় রেলের প্রচুর জায়গা আছে। সেখানে কোথাও হতে পারে হাসপাতালটি।

হতে পারে কুমিরায় বক্ষব্যাধী হাসপাতালের আশেপাশেও। সেসব জায়গা বেদখলে ফেলে রেখে কেন রেল মন্ত্রণালয় সিআরবির এই জায়গাটি বেছে নিল তা বড় রহস্যময়।
৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল ও ১০০ আসনের একটি মেডিকেল কলেজে প্রতিদিন কত শত গাড়ি আসা -যাওয়া করবে, হাসপাতালকে কেন্দ্র করে কত ওষুধের দোকান, খাবারের দোকানসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে সে খবর কি কর্তৃপক্ষের জানা নেই? তারপরও কোন যুক্তিতে নগরের এই নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে হাসপাতাল করতে হবে? বিকল্প ব্যবস্থা বা জায়গা যেহেতু অনেক আছে।

আসলে সাধারণভাবে হাসপাতাল বলতে আমরা বুঝি একটি আলিশান বিল্ডিং, তার ভেতর সারি সারি বেড, বেডের ওপর নাকেমুখে নল লাগিয়ে রাখা রোগী। কিন্তু প্রকৃতি যে একটি বিশাল হাসপাতাল সে কথা আমরা থোড়াই মনে রাখি। এই সিআরবিতে সকাল-সন্ধ্যায় হাঁটতে আসেন শত শত হার্টের রোগী, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও নানা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।

এখানে এসে তারা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখেন, ফুসফুস ভরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণ করেন। কেউ অবসর সময় কাটাতে পরিবার পরিজন নিয়ে আসেন। অনেকে খেলাধুলা করতে আসেন। আর নানা উৎসবে এখানে এসে মনের পিপাসা মেটান।

মোট কথা অনেকভাবে এই সিআরবি নগরবাসীকে সুস্থ রাখতে, আনন্দ ও জীবনমুখী করে রাখতে অবদান রাখছে। প্রকৃতির এই বিশাল হাসপাতালকে ধ্বংস করে ইট-পাথরের কোনো হাসপাতাল এখানে চাই না।

দীর্ঘদিন ধরে লুটেরাদের (রাজনীতিবিদ-ব্যাবসায়ী-লোভী সামরিক-বেসামরিক আমলা) কাছে হেরে যাচ্ছি আমরা। এবার আমাদের জয়লাভ করতেই হবে।

# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী আন্দোলনের সংগঠক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *