প্রতারক যে সবসময়েই প্রতারক তা বিশ্বপ্রতারক-ভণ্ড ড.ইউনুসই সবচেয়ে বড় উদাহরণ। পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে বাংলাদেশে ’৯০ এর দশকের সেই সামরিক প্রেসিডেন্ট লে:জে:হো:মো: এরশাদের কথা।
পটুয়া কামরুল হাসান সারাদেশের জনমানসের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ-ঘৃণাকে ব্যক্ত করেছিলেন তাঁর অসাধারণ রেখাচিত্রের মাধ্যমে “দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে” শিরোনামে।

আর আজ ২০২৬ এসে আমাদেরকে বলতে হচ্ছে “দেশ আজ বিশ্বপ্রতারক এর খপ্পরে” আর সেই বিশ্বপ্রতারকটি হচ্ছেন গরীবদের বেঁচে খাওয়া মুনাফাখোর ড. ইউনুস।

একটু পেছনের দিকে তাকাই আমরা।
১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে অনুষ্ঠিত জাতীয় কবিতা উৎসবের মঞ্চে বসে এঁকেছিলেন। তৎকালীন স্বৈরশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে তিনি এই স্কেচটি করেন।
এরশাদকে ব্যঙ্গ করে এই চিত্রে একটি দানবীয় অবয়বে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। উৎসবের মঞ্চে সভাপতির আসনে বসে কবি রবীন্দ্র গোপের কবিতার ডায়েরিতে শিল্পী কামরুল হাসান পেন্সিল দিয়ে এই স্কেচটি আঁকেন এবং নিচে লিখে দেন “দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে”।
এই ঐতিহাসিক রেখাচিত্রটি সম্পন্ন করার মাত্র কয়েক মিনিট পরই তিনি সভামঞ্চে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তাই এটি তাঁর জীবনের শেষ শিল্পকর্ম বা স্কেচ হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে এই ব্যঙ্গচিত্রটি পোস্টার আকারে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে প্রবলভাবে বেগবান করে তোলে।

কিন্তু দুঃখ হচ্ছে গত ২০২৪ এর আগষ্টে “ইসলামী জঙ্গী-সেনা ক্যু” এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অবৈধভাবে দখলকারি সেই ইউনুসের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত এমন কোন প্রতিবাদী শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী বললেন না যে ইউনুস হচ্ছে-“বিশ্বপ্রতারক”।
ইউনুস যে বাংলাদেশের সঙ্গেই প্রতারণা করেছেন তা কিন্তু নয় আসলে তিনি সারা বিশ্বের সাথেই প্রতারণা করেছেন ও করে চলেছেন। আমরা হারিয়েছি পটুয়া কামরুল হাসানকে। কিন্তু সেই বাংলাদেশে পটুয়া কামরুল হাসানের অনেক ছাত্র-অনুসারি শিল্পী থাকলেও তারা কেউ একটি স্কেচ করে দেশবাসী ও বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন না এই “বিশ্বপ্রতারক” এর ব্যঙ্গটিত্রটি।

গত দুদিন ধরে একটি ছবি ও সংবাদ দেশের বিভিণ্ন সংবাদমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। এমনকি সবচেয়ে বেশি ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ভাবভঙ্গি ও প্রচারণায় এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, তাতে মনে হবে- ড.ইউনুস জাতিসংঘের ৮১ তম অধিবেশনে ভাষন দিচ্ছেন। আবার তার পাশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন নাগরিক খলিলুর রহমান মানে রজার খলিল আছেন।
যেই খলিলুর রহমান এই সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি। সুতরাং তাকে পাশে বসিয়ে ইউনুস যেভাবে ভাষণ দিচ্ছেন তাতে যে কারোই মনে হবে যে ইউনুস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেই বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রতারক-ভণ্ড আর কাকে বলে?
আর আমাদের বাংলাদেশের সকল মিডিয়ায় খবর: জাতিসংঘে ড. ইউনূস। তুলে ধরা হয়েছে তাঁর সুন্দর বক্তব্য।
স্বাভাবিকভাবেই সবাই মনে করছেন ও ভাবছেন- রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান না হয়েও এতবড় একটি ফোরামে ভাষণ দিতে পারা তো বিরাট ব্যাপার।
ড. ইউনূস বিরাট মানুষ। ড. খলিলুর রহমান এখন যে পদে আছেন, তাতে তিনিও আসতে পারেন। কিন্তু লামিয়া মোর্শেদ কীভাবে সেখানে বসতে পারেন? পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টসহ বাকি যারা উপস্থিত, তারাও প্রফেসর ইউনূসের বন্ধু-বান্ধব। এটি কেমন আয়োজন, জানার আগ্রহ হলো।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেলো, এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনুষ্ঠান নয়। এটি সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি শীর্ষক একটি সাইড ইভেন্ট।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে -সামাজিক ব্যবসা শীর্ষক এই যে সাইড ইভেন্ট, তার আয়োজক কি জাতিসংঘ? আসলে তা নয় না, জাতিসংঘ এ ধরনের আয়োজন করে না। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন ও সামাজিক সংস্থা সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে এ আয়োজনগুলো করে থাকে।
ইউনূস সেন্টার ও ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এরসঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আয়োজনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
কিন্তু ইউনুস ঠিকই খলিলুর রহমানকে তার পাশে বসিয়ে রেখেছেন যাতে ছবি দেখে মনে হয়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেই বক্তব্য রাখছেন ‘নো-বেল’ লরিয়েট ইউনুস।
আর এরফলে কিন্তু মিডিয়ায় খবর হয়ে গেছে যে, জাতিসংঘের আয়োজন। রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান না হয়েও ইউনূস জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন। বাংলাদেশের মিডিয়ারও বলিহারি! তারা নানা কৌশলেই সেটি এমনভাবে ছাপিয়েছে বা প্রচার করেছে যে, দেখেশুনে মনে হবে- ড.ইউনুস জাতিসংঘেই ভাষণ দিচ্ছেন।
জাতিসংঘ ভবনে এই আয়োজনের জন্য ইউনূস সেন্টারকে হল ভাড়া করতে হয়েছে, টাকা দিতে হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় হল ভাড়া নিয়ে টাকা পরিশোধ করতে হয়।
যে প্রক্রিয়ার মধ্যে ভণ্ড ইউনুস তার এই প্রচারণা চালালেন তাতে বুঝলাম, জাতিসংঘে হল ভাড়া নিয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠান করা যায়। ড. ইউনূস তাই করেছেন। আর তার মাধ্যম দেশবাসীকে বোকা বানিয়েছেন। তারমানে তিনি দেশবাসীতো বটেই বিশ্ববাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
এই নির্লজ্জ ইউনুস মার্কিন ডিপষ্টেট ও তার মেটিকুলাস ডিজাইনে গভীর ষড়যন্ত্রে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকে তার ক্ষমতাকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ব্যবহার করে এমন কিছু সুবিধা গ্রহণ করেছেন, যা একাধারে নজিরবিহীন এবং গভীরভাবে দুর্নীতিপূর্ণ।
এই ঘটনাপ্রবাহ দেখলে প্রশ্ন উঠে এটি কি কেবল দক্ষতা, নাকি একটি সুগভীর দুর্নীতির নীলনকশা?
নিজের মামলাগুলো ‘অদৃশ্য হাতে’র ক্ষমতাবলে খারিজ করিয়ে ফেলেছেন এই অঘটন ঘটানোতে পটিয়সী ইউনুস। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, শ্রম আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও, ড. ইউনুস অল্প সময়ের ব্যবধানে সব মামলা খারিজ করিয়েছেন।
যেখানে সাধারণ নাগরিকদের বছরের পর বছর কোর্টে ঘুরতে হয়, সেখানে তার মামলাগুলো মুহূর্তেই উধাও!
৬৬৬ কোটি টাকার কর ‘মওকুফ’! একবার ভাবুনতো -কত টাকার মালিক হলে তার কর হতে পারেন ৬৬৬ কোটি টাকা?
গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল অংকের বকেয়া কর মওকুফ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহারে তার জুড়ি নেই। শুধু কি তাই? আগামী ৫ বছরের কর মওকুফ নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আঘাত করে ভবিষ্যতের আয়ও করমুক্ত করে নেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো সরকারের আমলে সম্ভব হয়নি।
তবে হঠাৎ তারেক রহমানের সরকারের সময় অতি সম্প্রতি আদালতে আবার সেই কুখ্যাত ট্রিপল সিক্স বা ৬৬৬ কোটি টাকার ট্যাক্স মওকুফের বিষয়ক মামলাটি সচল করেছে। এর পেছনে মাজেজ া কি তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে সরকারের অংশীদারিত্ব। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ গিয়েছে ‘নামহীন’ প্রাইভেট শক্তির হাতে।
নিজের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ এর নামে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন এরই মধ্যে।
মূলত রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ব্যবহার করে এই চরম অসৎ ইউনুস ব্যক্তি-ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ যার মূল উদ্দেশ্য জাতি নয়, একক প্রচার। কিন্তু এসব করেও তার পেট ভরেনি। নেমেছেন আদম বেপারিতেও।
জনশক্তি রপ্তানিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ করার পথ তৈরী করেছেন। গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের মাধ্যমে শ্রমবাজার দখলের পথ প্রশস্ত হয়েছে, যেখানে নিয়ন্ত্রণ যাবে ইউনুস-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর হাতে।
ডিজিটাল ওয়ালেট অনুমোদনের মাধ্যমে ডিজিটাল লুট করার ব্যবস্থাও করে রেখেছেন ইতিমধ্যে। গ্রামীণ টেলিকম পেয়েছে ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি, যা দেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় একচেটিয়া আধিপত্য নিশ্চিত করবে।
এর পাশাপাশি কোনো টেন্ডার বা প্রতিযোগিতা ছাড়াই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৭০০ কোটি টাকার সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের অর্থ ট্রান্সফার করা হয়েছে গ্রামীণ ট্রাস্টে। মানে সরাসরি রাষ্ট্রীয় টাকা চুরি।
এসব ঘটনা এখন আর গুজব নয় সরকারি গেজেট, বোর্ড সভার কার্যবিবরণী, আদালতের রায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই এসবের সত্যতা মেলে। অতএব, কিছু জুনিয়র কর্মকর্তা কিংবা অল্পবয়সী উপদেষ্টাদের দোষ দিয়ে মূল অপরাধীকে আড়াল করা মানে জাতিকে ধোঁকা দেওয়া। প্রতারণা-ভন্ডামি-লুইচ্চামি-লুটপাটই ইউনুসের মূল কাজ।
আমরা যদি একটু মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে তাকাই, সেখানে দেখতে পাই- ১৯৭১ সালে বিদেশে ছিলেন তিনি। দেশের জনগণ যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের মহাসংগ্রামে লিপ্ত,তখন উনি ব্যস্ত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নিতে।
জীবনে কোনোদিন অন্যায় অত্যাচার অবিচারের বিরুদ্ধে উনি সোচ্চার হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছেন? উনি নিজের ব্যক্তিগত লোভ-লালসা ছাড়া জীবনে আর কোনকিছু দেখার প্রয়োজন বোধ করেননি।

গ্রামীন ব্যাংকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার জন্য এই ক্ষমতালোভী ইউনূস শিক্ষিত পুরুষ কর্মচারীদের ডিরেক্টর বানানোর বদলে ডিরেক্টর বানিয়েছেন তারই ব্যাঙ্কের ঋণ-প্রাপ্ত অল্পশিক্ষিত ও অশিক্ষিত নারী ঋণগ্রহীতাদের। এতে একসাথে অনেক উদ্দেশ্যই সাধন করা যায়।
নিজের এমডি পদটি আজীবনের জন্য অক্ষুণ্ণ থাকে। এতে করে কোন প্রতিদ্বন্দ্বীর সম্মুখীন হতে হয়না তাকে। আবার বহির্বিশ্বে এটাও প্রচার করা যায় যে –দেখো, আমি কত জনদরদী – নারীদরদী- দরিদ্র-হিতৈষী, পাশাপাশি আমি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।
সত্যিকার অর্থে তার মতো এমন ভণ্ড-প্রতারক জালিয়াত এই বাংলাদেশে আর জন্মেছে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
শান্তিতে নোবেল পেয়েছিল যুগ্মভাবে। গ্রামীন ব্যাংকের নারী সদস্য ও ড. ইউনুস। কিন্তু সেক্ষেত্রে এই প্রতারক-জোচ্চোর ইউনুস ও তার সঙ্গীসাথীরা প্রচার করে থাকে বাংলাদেশে একমাত্র নোবেল লরিয়েট ড. ইউনুস।
এদেশের দরিদ্র মানুষকে নিয়ে ইউনুস যে হারে প্রতারনা-জোচ্চুরি করেছে ও করে যাচ্ছে তা আর নতুন করে কিছু বলার নেই।আসলে তার মূল উত্থানতো এই জালিয়াতির মাধ্যমেই।পুরো জাতির সাথে জালিয়াতি করেইতো আজকে এই ভন্ড ইউনুস এই অবস্থায় এসেছেন।
জালিয়াতি যার মূল শিক্ষা ও ব্যবসা তার সেই অপকর্মতো চলবেই নতুন নতুন ফঁন্দিতে। আর তিনি তা করেও যাচ্ছেন নতুন মোড়কে।
তিনি সরাসরি ক্ষমতায় না থাকলেও নানাভাবেই তিনি প্রচুর সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন তার ব্যবসা-বানিজ্যকে আরো বেশি করে সম্প্রসারিত করতে।
ইউনুস প্রতারক হয়েছেন সাবালক হওয়ার পরে নয়, সেই ছোটবেলা মানে কৈশোরকাল থেকেই তিনি এই প্রতারণা বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন। তার নিজের একটি স্বীকারোক্তিমূলক বয়ানেই তার নিজের প্রতারণার কথা ফুটে উঠেছে।
যা লেখা রয়েছে তার লিখিত ‘গ্রামীণ ব্যাংক ও আমার জীবন’ নামের বইতে।
ইউনুসের বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। পরিবারের সাথে থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ব্যবসায়িক এলাকা ২০, বক্সির হাট রোডে। বই পড়তে পছন্দ করেন। কিন্তু সেই ৫০-এর দশকে বাংলা বই খুব অপ্রতুল। সেসময় কলকাতা থেকে ছোটদের মাসিক পত্রিকা ‘শুকতারা’ প্রকাশিত হত।
ইউনুসের চিন্তা-কিভাবে এই পত্রিকা ফ্রি পাওয়া। সে সময় পত্রিকা ফ্রি পাওয়ার একটি উপায় ছিল। তা হলো, বিভিন্ন পত্রিকা তার পাঠকদের জন্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করতো।
আগের সংখ্যার বিজয়ী প্রতিযোগীর নাম ঠিকানা পত্রিকা পরের সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং পুরষ্কার হিসাবে পত্রিকা বিশেষ ছয় মাস বা ১ বছরের ফ্রি সাবস্ক্রিপশন প্রদান করতো। এইসব আমরা এখনও দেখি। সেই ৫০-এর দশকেও সেই সুযোগ ছিল।
এতটুকু পড়ে আপনারা হয়তো ভাবছেন, ইউনুস এমন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন নিশ্চয়ই। মেধাবী মানুষ, হতেই পারেন। কিন্তু আসলে বিষয়টি তা নয়। চতুর ইউনুস জালিয়াতির এক অভিনব পন্থা আবিষ্কার করেছিলেন।
আমার ধারণা আজ এত বছর ধরে তিনি সেই পন্থাটিই অবলম্বন করে এতবড় টাউটে পরিণত হয়েছেন। এই কিশোর ইউনুস যেটা করেছিলেন তা অনেকেই হয়তো জানেন পাঠকেরা যারা ড. ইউনুসের সেই বইটি পড়েছেন। তিনি পত্রিকার পূর্ববর্তী সংখ্যায় প্রকাশিত একজন বিজয়ীর নাম বেছে নিয়ে সম্পাদক বরাবর চিঠি লিখেছিলেন।
তাতে তিনি লিখেছিলেন- ‘মাননীয় সম্পাদক, আমি অমুক, একজন বিজয়ী প্রতিযোগী। আমার ঠিকানা বদল হয়েছে। এখন থেকে আমার বিনামূল্যে প্রাপ্য সংখ্যা বক্সির হাট রোডের অমুক ঠিকানায় পাঠাবেন।’
তার এই কূটকৌশল ছিল অত্যন্ত কার্যকর। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সেই চিঠির ঠিকানা অনুযায়ী পরের মাস থেকে তাকে ফ্রি পত্রিকা পাঠাতে থাকে। কিন্তু তিনি একবারের জন্যও ভাবেননি এটি চরম প্রতারণা-জোচ্চুরির বিষয়।
এতে করে তিনি সত্যিকার বিজয়ীকে বঞ্চিত করেছেন। অন্য মানুষের বিজয়কে নিজের নামে শিফট করে বেনিফিটেড হওয়ার কার্যকর পদ্ধতি, ইউনুস সাহেব ১২ বছর বয়সেই রপ্ত বা আবিষ্কার করেছিলেন।
অথচ সেই ইউনুস দুইটি বছর বাংলাদেশের জনগনের ওপর স্টিমরোলার চালিয়েছেন। নানা প্রতারনা করে জাতিকে বিভ্রান্ত করে একটি জাতিকে শেষ করে দিয়েছেন। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে ইউনুস তার মেটিকুলাস ডিজাইনের মধ্য দিয়ে এই জাতির অন্তত ১০ টি জেনারেশনকে শেষ করে দিয়ে গেছেন।
মানে শিক্ষার ক্ষেত্রে-মানবিক চিন্তাচেতনা-দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে এসব জেনারেশন শেষ হয়ে গেল। তারমানে জাতি-দেশ আর সঠিকভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করে গেছেন।
গতবছর (২০২৫ সালে) ঈদের জামাতে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ভান করতে দেখা গেছে। সেটিও ইসলাম ধর্মের সাথে প্রতারণা। একই সঙ্গে দেশবাসীর সাথে প্রতারণা। এই প্রতারক ইউনুসই কিন্তু নানা ফন্দি-ফিকির করে সুদের ব্যবসায় অত্যন্ত সফল হয়েছেন।
তো সেই প্রতারক-ভণ্ড-জোচ্চোর ইউনুস তার মুরুব্বি মার্কিনীদের দেশে গিয়ে জাতিসংঘ ভবনে একটি করফারেন্স রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে তার কথিত সামাজিক ও তরুনদের উদ্যোক্তা বানানোর নানা ফঁন্দি ফিকিরমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
আর সেটিকেই জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন বলৈ মিডিয়াতে খাইয়েছেন। বাংলাদেশে তো তার ডলারখাওয়া অনেক সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম রয়েছেই।
এই যে প্রতারক-ভণ্ড-জোচ্চোর ইউনুস এতসব বাগাড়ম্বর করেন, তিনি একবারও কি ভেবেছেন তার নিজের খাসলৎ বা চরিত্র বদলানোর কথা? ভাবেননি।কথায় বলেনা- কয়লা ধুলেও ময়লা যায়না। তো এই ইউনুস হয়েছে সেই রকম।
কথায় বলেনা- বাটপারের আবার চোরের ভয় আছে নাকি?? আজীবনতো বাটপারি-প্রতারনা-জোচ্চুরি করেই বেরিয়েছেন। হয়তো এই নোবেল লরিয়েট ইউনুস মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাই করে যাবেন।
# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
