বাংলাদেশের রাজনীতিতেতো নয়ই, সিভিল সমাজ মানে প্রথম আলো-ডেইলি স্টার গোছের সংবাদমাধ্যম যাদেরকে সুশীল সমাজ বলে থাকে তারাও কখনো বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে কোন কথা বলেননি। কারণটি খুব ষ্পষ্ট।

এই যে যাদেরকে ‘সু-শীল’ বলা হচ্ছে তারাতো সেই উত্তর পাড়াকেই নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।

আবার অনেক বুদ্ধিজীবী গোছের কিছু লেখক আছেন যারা উত্তর পাড়া’র প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী লিখে থাকেন নানা পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে।

তো সেই সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যা কিছুই করে থাকুক না কেন সব কিছুই জায়েজ আমাদের এই মেরুদণ্ডহীন সমাজে। এমনকি এ দেশের রাজনীতিতে।

এই যে উত্তর পাড়া মানে সশস্ত্রবাহিনী যে দেশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেদারসে ব্যবসা করছে তার ব্যাপারে কেউ কিছু বলেছে কখনো? সশস্ত্র বাহিনীর কাজ কি ব্যবসা করা?

বাংলাদেশে হেন কোন বড় বড় কনস্ট্রাকশন কাজ নেই যা সেনাবাহিনী মানে সশস্ত্র বাহিনীর লোকজন করছে না। অথচ তাদের কাজ তো ব্যবসা করা নয়। তাদের কাজতো দেশ প্রতিরক্ষা করা।

বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করা, স্বাধীনতাকে রক্ষা করা। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা। কিন্তু তারাতো সে কাজে নেই।

আমরাতো দেখছি এই সশস্ত্র বাহিনীর কি অবস্থা। গত ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে যখন জঙ্গী-সামরিক ক্যু এর মধ্য দিয়ে দেশটি চরম অরাজকতায় চলে গেছিলো তখন কি এই সশস্ত্র বাহিনী কোন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছে? করেনি।

কারণ তারাও আমেরিকান ডিপষ্টেট ও বিশ্ববেহায়া জোচ্চোর-সুদখোর ড. ইউনুসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এর অংশ ছিল। তার মানে কি দাঁড়ালো? সশস্ত্র বাহিনী তো দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছে তখন।

সাংবিধানিকভাবে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কারণ সংবিধান অনুযায়ী কেউ তার পদত্যাগপত্র দেখাতে পারেনি। আর পারবেও না।

কারণ তিনিতো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। তাহলে তারা দেখাবেই বা কি করে? আর ওই যে বিভিন্নজন বলছেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন। এটি কি করে সম্ভব?

তাঁকে তো ভারতীয় সেনাবাহিনী বা অন্য কোন দেশের সেনাবাহিনী এসে উড়িয়ে নিয়ে যায়নি। তাঁকে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ বিমানে করেই সসম্মানে ভারতে পৌঁছে দিয়েছেন এ দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অফিসাররা।

তো তার এই দেশান্তরকে কোনভাবেই পালিয়ে গেছেন বলা যাবেনা। কোনো যুক্তি নেই তাতে। আসুক কেউ যুক্তি দেখাক তাতে। মেনে নেবো।

তার মানে আমি শেখ হাসিনার পক্ষে সাফাই গাইছি না। কিন্তু যেটি সত্য দিবালোকের মত সেটিই বলছি মাত্র। এতে কেউ কেউ হয়তো আমাকে আওয়ামীলীগার বা শেখ হাসিনার অনুসারি বলতে পারেন। কিন্তু স্পষ্ট করে বলি আমি কখনোই আওয়ামীলীগার ছিলামনা, বা এখনো নই।

তবে এটি কি কেউ অস্বীকার করতে পারবেন যে, আওয়ামীলীগের নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানেই এবং সেই মহান নেতার নামেই এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে আপামর জনসাধারণ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে।

যার নামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, যে আওয়ামীলীগ দলটি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল তাকে অস্বীকার করবেন কি করে আপনারা? দলের নেতৃত্বের অনেকের ভুল থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও বেশ কিছু ভুল নিশ্চয় ছিল। তাওতো অস্বীকার করার কিছু নেই।

কিন্তু বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে যা করেছে তা কি সঠিক করেছিল? তারা কি দেশের সংবিধানকে মেনেছিল? স্পষ্ট করে বলতে চাই তারা তা মানেনি।

কিন্তু এই না মানার জন্য তাদের বিরুদ্ধে কখনো কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখেছেন বা শুনেছেন? কোন নজির আছে বাংলাদেশে?

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংস ও অমানবিকভাবে হত্যা করলো সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী অফিসার সেই সেনা অফিসারদের কমান্ডিং অফিসারদের কোন বিচার হয়েছে?

সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান ছিলেন তখন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। সেনাপ্রধান ছিলেন শফিউল্লাহ। তারা কেউই কিছু করেননি। শফিউল্লাহর কমান্ড কেউ শুনছিলোনা।

অপরদিকে জিয়াউর রহমান তো এই ষড়যন্ত্র বেশ ভালোভাবেই অবগত ও তার ইন্ধন ছিল- এটি সবারই জানা।

কারণ সকালে যখন তার সরকারি বাসভবনে গিয়ে বঙ্গবন্ধু মানে তখনকার বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের হত্যার খবরটি দেয়া হলো তিনি তখন নাকি শেইভ করতে করতে ভাবলেশহীনভাবে উত্তর দিয়েছিলেন- “সো হোয়াট! ভাইস প্রেসিডেন্ট (খোন্দকার মোশতাক আহমেদ) তো আছেন। আপনারা আমাদের কনস্টিটিউশন (সংবিধান) মেনে চলুন।”

এই হলো আমাদের দেশের সশস্ত্র বাহিনী ! কিন্তু ইতিহাসের কি নিয়তি ! সেই জিয়াউর রহমানকেও প্রাণ দিতে হলো সেনাবাহিনীর হাতে। বাংলাদেশের দুই দুইজন প্রেসিডেন্টের রক্তের দাগ লেগে আছে সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। আর জিয়াউর রহমানের হাতে এবং লে: জেনারেল এরশাদের হাতেও সেই রক্ত লেগেছিল। তা তারা কেউ মুছতে পারেনি।

জিয়াউর রহমানের আমলেতো শত শত মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে কোন বিচার ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে।

এই যে আমাদের সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমার। সেখানকার বাহিনী প্রায়শই কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে হামলা করে, গুলি করে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করে। তখনতো আমাদের বিজিবি বা সেনাবাহিনীকে কোন কাজে দেখিনা। তারা নাকি দেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বে আছে। আসলে তা হলো নামকাওয়াস্তে।

আর আমাদের কথিত ইসলামী রাজনৈতিক দল ও কথায় কথায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা ‘ঈমানী দায়িত্ব’ পালন করে থাকেন রাজপথে আর বিবৃতির মধ্য দিয়ে তাদের হুংকার শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন বিক্ষোভ মিছিল বা মিয়ানমার অভিমুখে কোন লংমার্চ করতে দেখলাম না। এ যেন এক রহস্যে ঘেরা রাজনীতি আমাদের এই বাংলাদেশে। আরো বেশি রহস্যময় এর সশস্ত্র বাহিনীর আচরণ ও কর্মকাণ্ড।

বাংলাদেশে কথায় কথায় ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল, বা পশ্চিমবঙ্গ দখলের নানা হুমকি-ধামকি দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা জনগণ।

বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমার যতই হামলা আর মানুষ খুন করুক না কেন মিয়ানমার বাংলাদেশের শত্রু নয়।কারণ হিসেবে মনে হয়, মিয়ানমারের বন্ধু চীন। আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই চীনের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে আছে।

তা সেই চরম বাম হোক আর চরম ডান ও ইসলামী জঙ্গীত্ববাদী দলই হোক। কারণ তাদের সবার স্বার্থ রয়েছে সেখানে। সুতরাং অনেকটা বৌদ্ধ সংখ্যাগুরু দেশ মিয়ানমার যতই বাংলাদেশীদেরকে খুন করুক, অপহরণ করুক, সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখুক তাতে কোন সমস্যা নেই।

তখন আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয় এই বাংলাদেশের । বড়ই বিচিত্র রাজনৈতিক-কূটনৈতিক কলাকৌশল।

আসলে যে বিষয়টি নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম- বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আলোচনা-সমালোচনা প্রসঙ্গে। আসলে অহেতুক সমালোচনা করার কোন কারণ দেখিনা আমি।

কারণ এরাইতো আমাদেরই দেশের সন্তান। কিন্তু সেই সন্তান যদি উল্টোপাল্টা কাজ করে তখন তার সমালোচনা বা তাকে শুধরে দেয়ার দায়িত্বও কিন্তু রাষ্ট্রের মালিকদের। কারণ সংবিধান অনুযায়ী এই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির মালিক হলো- জনগণ।

আর সশস্ত্র বাহিনীসহ সব সরকারি চাকুরিজীবীরা সেই মালিকের কথা শুনতে বাধ্য। কিন্তু এই দেশে তা হয়নি কখনো। বরং উল্টোটাই হয়েছে, হয়ে আসছে।

সেই উত্তরপাড়া মানে সেনাবাহিনীই এ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে সবসময় নিয়ন্ত্রণ করেছে অল্প কয়েকবছর ছাড়া। তা সে উর্দি পড়ে হোক বা উর্দি না পড়ে হোক। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেও আমরা দেখেছি এই সশস্ত্র বাহিনীই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে ক্ষমতার কলকাঠি নাড়ছে ও নেড়েছে।

যা এই কথিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভাগ্যে লিখে রেখেছেন এ দেশেরই রাজনীতিবিদগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো।

গত চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর থেকে ভারতে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার ক্ষমতার সেদিকের কয়েক বছর অতিমাত্রায় সামরিক-বেসামরিক আমলার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। এটি তাঁর দলের লোকজনও অকপটে স্বীকার করে।

এই যে ‘সামরিক-বেসামরিক আমলা নির্ভরতা’ সেটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার সরকারের জন্য। এমনকি তাঁর নিজের জন্যও। তিনি হয়তো পরে বুঝতে পেরেছেন হাড়ে হাড়ে। কিন্তু যখন বুঝেছেন তখন আর সময় ছিলনা তার।

যে যতই বলুক না কেন-“ দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী বা দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী”, আমি কিন্তু কখনোই বলতে পারিনা যে এই সশস্র বাহিনী কখনো বাংলাদেশপন্থী ছিল। এটি সবসময়েই পাকিস্তানপন্থী একটি আধাখেচরা বাহিনী মাত্র।

বলতে গেলে এদেরকে শুধু শুধু রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাই শুধু নয় আরো অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা অপচয় করা হচ্ছে মাত্র।

এরই মধ্যে এই সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে হঠাৎ করে সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছেন চব্বিশের লালবদর বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। এই মে মাসের ৯ তারিখ তিনি হঠাৎ করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সমালোচনামুখর হয়ে উঠলেন কেন সেটাই বোঝা গেলোনা।

কারণ এই দিলারা চৌধুরীও কিন্তু আমেরিকান ডিপ স্টেট এর লোক। কিন্তু তার কথায় মনে হবে আরে ইনিতো ঠিক কথাই বলছেন- এমনটা মনে হওয়ার বা বিভ্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ এদের মত ডিপ স্টেটের লোকেরা কোন কারন ছাড়া প্রকাশ্য সভায় সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে সমালোচনা করার দুঃসাহস দেখাতো না।

তিনি সেদিন বলেছেন- “আপনি কোনো বড় কন্ট্রাক্ট দেখাতে পারবেন না—যেখানে আর্মির ইনভলভমেন্ট নাই।” বিভিন্ন ‘বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে’ সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “আমি জানি আমাদের এখানে গোয়েন্দা বিভাগের লোক আছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও এ কথাটা আমাকে বলতেই হবে। বাংলাদেশ আজকে যেখানে দাঁড়িয়েছে, এটার জন্য ৭০ ভাগ দায়ী হল বাংলাদেশের আর্মি এবং ব্যুরোক্রেসি।

“বাংলাদেশের আর্মি এখন আমাদের একটা গোদের উপর বিষফোঁড়া হয় না, গোদের ওপর বিষফোঁড়া। আপনার তাদের বাজেট কত যায় আমরা জানি না। যখন বাজেট দেওয়া হয় পার্লামেন্টে, তাদের বাজেট কিন্তু সিক্রেট। সেই বাজেট আমরা জানি না।”

মজার বিষয় হলো যে , দিলারা চৌধুরী সেদিন সশস্র বাহিনীকে এত তুলোধুনা করলেন কিন্তু আইএসপিআর থেকে কোন প্রতিক্রিয়া দেখলাম না। বা আমার নজর এড়িয়ে গেছে তা ঠিক বুঝতে পারছিনা।

সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী গত ৯ মে শনিবার বিকালে রাজধানীর পান্থপথে সেল সেন্টার অডিটোরিয়ামে ‘দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন দিলারা চৌধুরী।

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে’ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

তাহলে বুঝে নিতে কষ্ট হয়না কেন বা কি কারণে কোন প্রেক্ষিতে আমাদের এই অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী সশস্ত্র বাহিনী বা সেনাবাহিনীর এতবড় সমালোচক হয়ে উঠলেন।

দেখা গেলো- আয়োজক হলো “‘দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি ”।

আর দুর্নীতি বিরোধীদের আলোচ্য বিষয় হলো-“পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ”।

লে ঠেলা সামলাও এখন ! ওই যে বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- “ কিসের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে ঘি” !

আমেরিকান ডিপ ষ্টেটের এই বুদ্ধিজীবী আধ্যাপক দিলারা চৌধুরী সেদিন আরো কয়েকটি প্রণিধানযোগ্য কথা বলেছেন। সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা নীতির সমালোচনা করে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, “আপনার শত্রু কে? আপনি যে প্রতিরক্ষা করছেন—প্লেন কিনছেন, ট্যাংক কিনছেন, অমুক কিনছেন—তো আমার শত্রুটা কে?

এটাকে তো আইডেন্টিফাই করতে হয় সবার আগে। “আপনি কার সঙ্গে যুদ্ধ করবেন—যে জন্য আপনি এই সমস্ত কিনছেন? কে আমাদের শত্রু? কোনো রকম ক্লিয়ার কাট এরকম কোনো ডিফেন্স পলিসি নাই।”

আসলে আকারে ইঙ্গিতে দিলারা চৌধুরী কি বোঝাতে চেয়েছেন তা “সমঝদারকে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যায়” বলে একটি কথা আছেনা তা যাদের বোঝার তারা বুঝে নেবেন। চৌধুরী কি বাংলাদেশের পাকিমনস্ক সশস্ত্রবাহিনীকে পক্ষান্তরে কারো বিরুদ্ধে উষ্কে দেয়ার জন্যই তাদের সমালোচনামুখর হয়ে উঠলেন?

তারমানে আমেরিকান ডিপষ্টেট ও নোবেল লরিয়েট ড. ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের প্ল্যান গেইম এখনো সক্রিয় বাংলাদেশে।

# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *