বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের নীতি ও সম্পর্কে যদি বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়, তবে দুই দেশের মধ্যেকার নানা সমস্যা আরো জটিল হয়ে ওঠার আশংকা রয়েছে।

তবে ভৌগোলিক নৈকট্য, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বাস্তবতায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কি করবে সরকার। প্রতিবেশী এই দুই দেশের নেতৃত্ব ঠিকই বোঝে যে, দীর্ঘমেয়াদে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিকল্প নেই।

কিন্তু তা রক্ষায় দুই দেশের রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিতদেরকেই বড় ভূমিকা নিতে হবে। এখানে তৃতীয় কোন পক্ষ নাক গলালে তা কারো জন্যই হয়তো সুখকর হবেনা।

কারণ এরই মধ্যে আমরা দেখেছি সেই চব্বিশের অপশক্তির সঙ্গে তুরস্ক -পাকিস্তান তাদের ইসলামী জোশ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক শক্তি ও সামরিক শক্তিকে নানা ধরনের উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে।

সেই ফাঁদে পা দিলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে তা হয়তো কল্পনাও করতে পারছেন না এখনকার বিএনপি সরকার। যেভাবেকই হোক তারেক রাহমান যদি তার গদিটি টিকিয়ে রাখতে চান তাহলে তাকে একটু ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে এগুতে হবে।

কথাগুলো এ জন্য বললাম যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীই তাদের বিশেষ বিমানে করে ২০২৪ এর ৫ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে পৌঁছে দেয়ার পর থেকে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে।

সেই চব্বিশে মার্কিন ডিপষ্টেট ও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি ড. ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের যৌথ নীলনকশায় ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সরকারকে। যা ছিল মূলত “ইসলামী জঙ্গী-সেনা ক্যু”।

এই ক্যু এর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান এর নেতৃত্বাধীন একটি অংশ যে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে তাতো দিবালোকের মত স্পষ্ট।

ইউনুস সরকার ক্ষমতায় বসেই শুরু করে ভারত বিরোধী যত ধরনের প্রপাগান্ডা আর অপপ্রচার আছে তা ছড়াতে। এজন্য সেই জামায়াতের বাই প্রোডাক্ট টোকাই জঙ্গীর দল এনসিপিসহ বিভিন্ন ইসলামী চরমপন্থী রাজনীতিবিদ ও গ্রুপগুলোকে পেট্রোনাইজ করা হয়।

তবে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করেও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি তাঁর করণীয় সম্পর্কে কিন্তু বলে যাচ্ছেন। নিয়মিত দেশে-বিদেশে যেখানেই আওয়ামীলগের নেতাকর্মী আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন,নির্দেশনা দিচ্ছেন ।
শেখ হাসিনা এবছর ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রথম তাঁর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান।

পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নিউ দিল্লিতে আয়োজিত একটি মিডিয়া ইভেন্টে ভার্চুয়াল বা অডিও বার্তার মাধ্যমেও তিনি একই ইচ্ছার পুনরাবৃত্তি করেন। এরপর দেশ বিদেশে বিভিণ্ন সংবাদ মাধ্যমেও নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশে এখনকার ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার ও জামায়াতে ইসলামী-টোকাই জঙ্গী সংগঠন এনসিপি’র মধ্যে অনেকটা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। মুখে এসব দল যাই বলুকনা কেন ।

এরই মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমীকরণে নতুন মাত্র যোগ হয়েছে। তিনি সম্প্রতি ঢাকার সেন্ট্রাল ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স’-এর একটি সেশনে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং তাঁর প্রত্যর্পণ বা প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

এটিকে অনেকে বলছেন এভাবে-“ ভারতের নতুন রাজনৈতিক-কূটনৈতিক” খেলা শুরু হয়েছে মাত্র। হয়তো আরো নানা ধরনের খেলা চলবে। ভারতের সেই দাবা খেলার চালে আন্তর্জাতিক গ্রান্ডমাষ্টাররাও ফেল মারতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশ সরকার কি করবে তা এখন তাদের বিষয়।

৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স’-এর প্রশ্নোত্তর পর্বে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পরিষ্কার করেন যে, ২০২৪ সালের আগস্টে যখন শেখ হাসিনা ভারতে এসেছিলেন, তখন তিনি সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত ফ্লাইটটি যখন ভারতের আকাশসীমায় ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি চায়, তখন ভারতের সামনে অন্য কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প খোলা ছিল না।

হাইকমিশনার স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারতীয় বিমান বাহিনী বা সেনাবাহিনী তাঁকে ভারত নিয়ে আসেনি। এটি সম্পূর্ণ একটি আকস্মিক পরিস্থিতি ছিল এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে জীবন বাঁচানোর সেই চরম বাস্তবতায় তাঁকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়াকে ভারত তার নৈতিক ও প্রতিবেশীসুলভ দায়িত্ব বলে মনে করেছিল। যদি ভারত সেই সময় অবতরণের অনুমতি না দিত, তবে পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে পৌঁছাত তা কেউ জানত না।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বা প্রত্যর্পণের প্রশ্ন প্রসঙ্গে ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং তাদের নিজস্ব আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আইনি ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বিধায় এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা দিনক্ষণ জানানো সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, এতে করে দীনেশ ত্রিবেদী মূলত যা বার্তা দেয়ার তা দিয়ে দিয়েছেন। তার বাচনভঙ্গি ছিল অত্যন্ত বিচক্ষণ। এটি শুধুমাত্র কূটনৈতিক বক্তব্য নয় , অনেকটা রাজনৈতিক যুক্তিসঙ্গতও বটে। তিনি পেশাদার কূটনীতিক না হলেও যে ভাষায় এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের সরকার বিব্রত হয়ে গেছে। তবে এখনো এ ব্যাপারে সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে ও আওয়ামীবিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা ধরনের বক্তব্য এসেছে ও তা অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ তো বলছেন- শেখ হাসিনা দেশে আসা মাত্র তাকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের” আদেশ অনুযায়ী ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। কেউ বলছেন- তাকে দেশে আসতে দেয়া হবেনা।

আবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা যাকে দিল্লিতে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল সেই ডা. জাহেদ ( কষা জাহেদ হিসেবে পরিচিত) বলেছেন শেখ হাসিনাকে আইনগতভাবে নিরাপত্তা দেয়া হবে.. ইত্যাদি ইত্যাদি।

আসলে সবকিছু মিলিয়ে সরকার ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী+ এনসিপি’র নেতারা খেই হারিয়ে ফেলছেন – তারা শেখ হাসিনার ইস্যুতে কি করবেন তা ভেবে। বলতে গেলে এরা শেখ হাসিনা আতংকে ভুগছেন চরমভাবে। এ প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ও ভার্চুয়াল মন্তব্য বা প্রেস ইন্টারঅ্যাকশন নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ভারত থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক বিবৃতি বা কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য ঢাকা অতীতেও তাগিদ দিয়েছে। ডিসেম্বরে তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণাটি আইনি জটিলতা, প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তবে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, ভারত আকস্মিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করলেও বর্তমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলোকে পাশ কাটাচ্ছে না।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর তৎকালীন ভূমিকা, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা এবং সরকারের প্রত্যর্পণের দাবি সামগ্রিকভাবে এক জটিল রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ তৈরি করেছে।

এই বহুমুখী সংকটের সমাধান শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে দুই দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক পরিপক্বতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ ও ত্বরিৎ বাস্তবায়নের ওপর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনাকে যখন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী তাদের বিমানে করে ভারতে দিয়ে আসেন মর্যাদা সহকারে।

সে কথাটিই মূলত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মাত্র খুব শান্তভাবে।

অনেকের মতে সেই বিশেষ মুহূর্তে নজিরবিহীন সহিংসতা ও রক্তক্ষয় এড়াতে এবং একটি বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয় রোধে সশস্ত্র বাহিনী সংবিধান ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বার্থে একটি বাস্তবসম্মত ও নিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপ নিয়েছিল।

তবে বিএনপি পড়েছে ফাটাকলে। ওই যে বাংলায় একটা প্রবাদ আছেনা? ‘ফাটাবাঁশের চিপায় .. চি’ আটকে গেছে। বিএনপির তারেক রহমানের ও সরকারের হয়েছে সেই দশা।

কারণ রাজনৈতিক দল ও ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালের আইনি প্রক্রিয়ার মুখে এই প্রস্থান প্রক্রিয়ার অন্তর্নিহিত ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন ও জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে।

সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের ক্রান্তিলগ্নে এই যে ভূমিকা রেখেছিল—এটি অনেকের ভাষ্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি অজুহাত হতে পারে। কিন্তু দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের মাটিতে বসেই হাসতে হাসতে যে কঠিন বাস্তবতা ও কূটনৈতিক যুক্তির মারপ্যাঁচে ফেলেছেন তাতে অনেকটা ধরাশায়ী বিএনপি সরকার।

সরকার হয়তো এর উত্তর দেয়ার জন্য কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এক্ষেত্রে মার্কিনীদের পেইড বুদ্ধি-অ-জীবী ফরহাদ মাজহার, টাকলা ফুয়াদ, জামায়াতের আইনজীবী শিশির মুনীরসহ এমন আরো কিছু আইন-অ-জ্ঞদের দারস্থ হতে পারেন। কারণ আপাতত বিএনপি’র মধ্যে তেমন কোন আইনজীবী আছেন বলে মনে হয়না।

তবে বাংলাদেশের বর্তমান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান ইতিপূর্বে বলেছেন- যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত বা পরোয়ানাভুক্ত আসামির দেশে ফেরার এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করার আইনি অধিকার রয়েছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, “তিনি (শেখ হাসিনা) আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে আত্মসমর্পণ করার আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন।”

অর্থাৎ, বাংলাদেশের বিচারিক সীমানায় প্রবেশ করা মাত্রই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁকে হেফাজতে নেবে।

শেখ হাসিনার বর্তমান কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হওয়া এবং তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী সরাসরি বলেন, “তিনি কীভাবে আসবেন সেটি তাঁর সমস্যা, আমাদের সমস্যা নয়।” তিনি মূলত বুঝিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা যে প্রক্রিয়াতেই দেশের সীমানায় প্রবেশ করুন না কেন, কর্তৃপক্ষের মূল কাজ হবে দেশের প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন করা।

কিন্তু আমাদের দেশের সাংবাদিক ভাইয়েরা এ প্রশ্ন কখনোই করার সাহস রাখেনা যে, শেখ হাসিনাকেতো বাংলাদেশের সশস্র বাহিনীর বিমানে করে সশস্ত্র বাহিনীই পৌঁছে দিয়েছিল ভারতে। তাহলে তাকে আনার দায়িত্ব অবশ্যই বাংলাদেশের।

স্বাভাবিকভাবেই যে প্রত্রিয়ায় তাঁকে সেখানে পৌঁছানো হয়েছিল সেই প্রক্রিয়াতেই আনতে হবে- ভারত দি এমন প্যশন্ তোলে তাহলে আমাদের দেশের সরকারের কি জবাব তা জানা জায়নি। আসলে এটি কখনোই জানা যাবেনা। কারণ তাদের কাছে এর কোন সদুত্তর নেই।

এরই মধ্যে নানা সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্যাঙ্গারু আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি ও তাঁর আইনি দল আন্তর্জাতিক আদালতের মানদণ্ড তুলে ধরে এই বিচারকে “রাজনৈতিক প্রহসন” হিসেবে বৈশ্বিক মঞ্চে প্রমাণ করতে চান।

আদালতে সরাসরি হাজির হয়ে তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের আইনি প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান।

আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ এবং দলটির সিংহভাগ নেতাকর্মী হয় কারাগারে, না হয় আত্মগোপনে আছেন। দলটির রাজনৈতিক অস্তিত্ব যখন সংকটে, তখন দলনেত্রীর এমন “মৃত্যুভয়হীন” ঘোষণা পলাতক নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এবং মাঠে পুনর্বার সংগঠিত হওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

পাশাপাশি কারাবরণ বা চরম শাস্তির ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামলে সেটি দেশের মানুষের একাংশের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক সহানুভূতি বা আবেগ তৈরি করতে পারে, যা তিনি অতীতে ১৯৮১ সালের সামরিক শাসনের সময় দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছিলেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক অনেকাংশেই নির্ভর করছে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা বাংলাদেশ সরকারের ভাষায় প্রত্যর্পণ ইস্যুটির সন্তোষজনক নিষ্পত্তির ওপর।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং তারা স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নেবে কার সঙ্গে কেমন সম্পর্ক বজায় রাখবে।

মি: ত্রিবেদীর এ বক্তব্যকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। এটি যেমন রাজনৈতিক তেমনি ডিপ্লোমেটিক বার্তাও বটে। যদি বাংলাদেশ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা তা বুঝে থাকেন।

## নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *