একাত্তরের নারী ধর্ষণকারী, খুনী ও লুটপাটের দল জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের সহযোগী ও সাগরেদ দলের নেতাকর্মীদের ব্যাভিচার ও নারী ধর্ষণের নানা ভিডিও ফুটেজ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
নানা সংবাদ মাধ্যমেও তা নানাভাবেই প্রকাশিত হচ্ছে। ইসলামের নামে ব্যবসা এই জামায়াতী, হেফাজতী, জামায়াতের বি-টিম এনসিপিসহ আরো কয়েকটি ইসলামী দলের নেতারা বেশ ভালোই জমিয়েছিলেন।
কিন্তু তাদের মাননীয় (!) সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীরা যে পারফর্মেন্স দেখাচ্ছেন তাতে দেশবাসী মোটামুটিভাবে তাদেরকে মনে রাখবে। মনে রাখবে মানে ঘৃণাভরে চিহ্নিত করে রাখছে ও রাখবে।
যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে।
যে তিনটি দলের কথা উল্লেখ করলাম তারা ইতিমধ্যেই প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েছে।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সেই কুখ্যাত ধর্ষকের দল-নারী নির্যাতনকারি দল জামায়াতে ইসলামীর আমির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
জামায়াতের আমির মানে ডা.মো. শফিকুর রহমান যাকে তার সমালোচনাকারিরা ‘সাদা শকুন’ হিসেবেই বেশি ডাকেন তারা তার সেই সংবাদ সম্মেলনের ফেইসবুকে লাইভ সম্প্রচারের পর যেসব মন্তব্য করেছেন তাতেই বোঝা যায় তার ও তার দলের প্রতি মানুষের কি পরিমাণ ঘৃণা জমে আছে।

মারিফ আহমেদ বাপ্পী নামে একজন তার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এভাবে- ‘মগবাজারের আবাসিক হোটেলগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলে জা’মা’তের বড় বড় নেতাদের ভিডিও বের হবে ছাত্রীসংস্থা আর এনসিপির নেত্রীদের সাথে, এটা আপনি লিখে রাখতে পারেন।
আমি ওয়েস্টিন, র্যা ডিসন না বলে মগবাজারের হোটেলগুলোর কথা বলছি কারণ এমপি মন্ত্রীর চাইতে আরো বড় জায়গাতে বসালেও এদের নজর ছোটই থাকবে। এরা এখনো জাতে উঠে নাই। কোয়ালিটি সম্পন্ন কোনো নারীর আশেপাশেই এরা যাওয়ার সাহস করেনা, কারণ এরা জানে তাদের আশেপাশে গেলে পাত্তাও পাবেনা। এদের নজর থাকে বাসার গৃহ পরিচারিকা অথবা এলাকার গরীব অভাবী ঘরের মেয়েদের দিকে।
এরা এমপি হয়ে নিজের সন্তানের নাম দরিদ্রদের সহায়তার লিস্টে বসায়, সংসদ অধিবেশনের সময় নিজেদের জন্য ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন খুঁজে বেড়ায়।’
তিনি আরও বলেন-, ‘২৪ না আসলে এরা খুব বেশি হলে স্থানীয় মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতো অথবা অনলাইনে মধু বাদাম বেচতো। এবং শুক্রবারের দিনগুলোতে কুলখানি মেজবানির দাওয়াতে গরুর গোশত দিয়ে ভাত খাওয়ার আশায় হা করে বসে থাকতো।
সুতরাং এরা বড় বড় চেয়ারে বসলেও নজরটা সেই ছোট ছোট জায়গাগুলোতেই থাকে। এটাতে এদের কোনো দোষ নেই। এদের পুরো সংগঠন চলে মধ্যপ্রাচ্যের জাকাত সদকা দান খয়রাতের পয়সায়। হাভাইত্তা মিসকিনের স্বভাব এদের রক্তের প্রতিটা ফোঁটায় মিশে আছে।’
এরই মধ্যে সাতক্ষীরার জামায়াতের নেতা ও সাংসদ গাজী নজরুল ইসলামের আরো কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারীর সঙ্গে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করতে এবং পরে হোটেলের লবিতে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
তবে ভিডিওতে থাকা নারী তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষেরও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজী নজরুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করছেন।
এ সময় হোটেলের রিসেপশনে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দন করে তারা ভেতরে চলে যান। ভিডিওটির অন্য একটি অংশে হোটেলের লবিতে ওই নারীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। তবে কোন হোটেলে এসব ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি।
তবে ভিডিও ফুটেজে যা দেখা গেছে তা জামায়াতের নেতারা অফিসিয়ালি স্বীকার করে নিয়েছেন। ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ওই ভিডিওকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াত প্রথমে তাকে রক্ষার জন্য নানা চেষ্টা করেও পারেনি। বাধ্য হয়েছে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে।
জামায়াত বলেছে, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অশালীন কর্মকান্ডের কাহিনী ও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
ধর্ষণকারি ও ইসলামের অপব্যাখ্যাকারি দল হিসেবে গণধিকৃত দল জামায়াতের বাই প্রোডাক্ট এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। আর উঠবেইনা কেন? তাদের মূল ওস্তাদ যেহেতু জামায়াত তাই সেই দলের সাগরেদ হিসেবে এনসিপি’র নেতারাও তা ঠিকভাবেই তালিম নিয়েছে।
২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর যে দাপটের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যা পরে এনসিপি নামের রাজনৈতিক দলে রুপান্তরিত হয় তার নেতারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অসংখ্য নারী কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়েছিল।
কিন্তু এখনকার বিএনপি সরকারের সময় তাদের সেই দাপট অনেকটা কমে গেছে।
ফলে নির্যাতিত নারীরা এই এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই অভিযোগ করছেন, প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করছেন, কেউ কেউতো প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলনও করছেন এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রামে এনসিপি নেতা আফতাব মজুমদার জয় নামে চট্টগ্রাম মহানগরীর একজন নেতাকে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। এর পর এনসিটি বাধ্য হয় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে।
সেই কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, ফেইসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভালোলাগা-ভালোবাসা ও বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিল আফতাব মজুমদার জয়।
সম্পর্কের সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও থানাধীন ‘সুইট প্যালেস’ হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষে তরুণীকে নিয়ে যান জয়। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে বিয়ের লোভনীয় প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি।
কিন্তু এরপর ভুক্তভোগী তরুণী যখনই বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন, তখনই বদলে যেতে থাকে জয়ের আচরণ। একপর্যায়ে তিনি বিয়েতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান এবং তরুণীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরবর্তীতে অনুসন্ধান করে ভুক্তভোগী তরুণী জানতে পারেন এক নির্মম সত্য-যে মানুষটিকে তিনি নিঃসংকোচে বিশ্বাস করেছিলেন, সেই আফতাব মজুমদার জয় আগেই বিবাহিত। গোপন রাখা হয়েছিল তার আগের সংসার ও বাস্তব জীবনের বড় একটি অধ্যায়।
প্রতারিত ও প্রতারণার শিকার তরুণী চুপ থাকেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের আশায় গত ১৯ জুলাই চান্দগাঁও থানায় নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(১) ধারায় মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়। গত ২২ জুলাই অভিযুক্ত আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
তারমানে দেখা যাচ্ছে এই যে ওস্তাদ-সাগরেদের দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের বি-টিম এনসিপি কথিত জুলাই আন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে জাতিকে যে নতুন বন্দোবস্তের-সংস্কারের কথা বলেছির তার সবই ছিল প্রতারণা।
মূলত এরা ওস্তাদ-সাগরেদ সবাই চরম মিথ্যুক-প্রতারক-জোচ্চোর । সেই সাথে এরা মূলত নারী ধর্ষক ও নির্যাতনকারি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ওই যে সাদা শকুন যিনি জামায়াতের আমির সেই ডা. শফিকতো ইতিমধ্যেই “চুম্মা শফিক” বা “চুম্মা শকুন” ও “ধর্ষকদের নেতা” হিসেবে উপাধি পেয়েছেন।

অবশ্য সেটিইতো হওয়ার কথা। কারণ ইতিমধ্যেই দেখা গেছে এই সাদা শকুন যাকে-তাকে হঠাৎ করে চুমু দিয়ে সম্ভাষণ(!!) জানাচ্ছেন। এ কেমন অসভ্যতা? আসলে এই ইসলাম ধর্মব্যবসায়ীরা একধরনের বিকৃত মানসিকতায় ভোগে। তো ওস্তাদ যে পথে যায় সাগরেদ যায় তার পিছু পিছু। অবাক হওয়ারতো কিছু নাই।
আরেক ইসলাম ধর্মের ব্যবসায়ী ও কওমী হুজুর যিনি আবার হেফাজতে ইসলামীর নেতা সেই কথিত মাওলানা মামুনুল হকের সেই বিখ্যাত (!) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও রয়্যাল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে আপনাদের।
মামুনুলও একই কায়দায় আরেকজনের বউ নিয়ে গিয়ে আনন্দ-ফূর্তি করেছে সেখানে। কিন্তু ধরা পরার পর নানা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করেছিল।

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল মামুনুল হক নিজে গাড়ি চালিয়ে এসে ওই দিন দুপুরে রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষটি বুকিং করেন। রিসোর্টের নথিতে তিনি তার সঙ্গীনির নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা হওয়া সত্ত্বেও নিজের প্রথম স্ত্রীর নাম ‘আমেনা তৈয়বা’ লিখেছিলেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে ওই রুমে অবরুদ্ধ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।মামুনুল হক ওই নারীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করলেও পরবর্তীতে ওই নারী তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা করেন।
মামুনুল কারাগারেও ছিল, মামলাও চলছিল। কিন্তু ’২৪ এর ৫ আগষ্টের পর অবৈধ ইউনুস সরকার ক্ষমতায় এলে প্রভাব খাটিয়ে আদালত থেকে এই বদমায়েশ মামুনুল সব মামলায় খালাস পেয়ে যায়।
মোটামুটি সেই থেকে এই মামুনুল হকের কথা উঠলেই দেশের লোকজন বলে ওঠে ৫০১ এর মাওলানা মামুনুল ! তারমানে সোনারগাঁওয়ের সেই রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষটি অত্যন্ত পরিচিতি পেয়ে যায়।
অপরদিকে কিশোরগ্যাং রাজনৈতিক জঙ্গী দল এনসিপির নেতা আফতাব মজুমদার জয় চট্টগ্রামের চাঁন্দগাও এলাকার ‘সুইট প্যালেস’ হোটেলের ২০৮ নম্বরকেও বিখ্যাত(!) করে দিলেন।
শুধু সাতক্ষীরার জামায়াতের করিৎকর্মা সাংসদ গাজী নজরুল ইসলামের অপকর্মের স্বাক্ষী হোটেলটির নাম ও রুম নম্বরটি জানা যায়নি। তাহলে সেটিও বিখ্যাত হয়ে যেত। অবশ্য এই জামায়াতী সাংসদতো অনেক হোটেলকেই বিখ্যাত(!) করে দিয়েছেন তার অপকর্মের স্বাক্ষী করে।
এজন্যই বোধ হয় আমাদের বিদ্রোহী কবি ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল বলেছিলেন জাতের নামে বজ্জাতি। কবিতাটি সবসময়েই প্রাসঙ্গিক ।
জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত-জালিয়াৎ খেলছ জুয়া!
ছুঁলেই তোর জাত যাবে? জাত ছেলের হাতের নয়তো মোয়া॥
হুঁকোর জল আর ভাতের হাঁড়ি — ভাব্লি এতেই জাতির জান,
তাইত বেকুব, করলি তোরা এক জাতিকে একশ’-খান।
এখন দেখিস ভারত জোড়া পঁচে আছিস বাসি মড়া,
মানুষ নাই আজ, আছে শুধু জাত-শেয়ালের হুক্কাহুয়া॥
জানিস নাকি ধর্ম সে যে বর্ম সম সহন-শীল,
তাকে কি ভাই ভাঙ্তে পারে ছোঁয়া ছুঁয়ির ছোট্ট ঢিল!
যে জাত-ধর্ম ঠুন্কো এত, আজ নয় কা’ল ভাঙবে সে ত,
যাক্ না সে জাত জাহান্নামে, রইবে মানুষ, নাই পরোয়া॥
বলতে পারিস, বিশ্ব-পিতা ভগবানের কোন সে জাত?
কোন্ ছেলের তার লাগলে ছোঁয়া অশুচি হন জগন্নাথ?
ভগবানের জাত যদি নাই তোদের কেন জাতের বালাই?
ছেলের মুখে থুথু দিয়ে মার মুখে দিস ধূপের ধোঁয়া॥
# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
