একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আজ সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে এসেও চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে বাঙালি নিধন, গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা, নারী ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের দায়ে যে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি জড়িত ছিল এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত কর্তৃক যাদের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছিল, সেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন রূপ ধারণ করে রাজনীতিতে চড়ে বসার চেষ্টা করছে।

তারা তাদের একসময়ের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকেই ছুরি মারতে চাইছে এখন। অথচ বাংলাদেশে আওয়ামী বিরোধী ও প্রগতিশীল বাঙ্গালি সংস্কৃতি বিরোধী রাজনৈতিক ধারায় এরা পরস্পরের সহযোগী এমনকি “খালাতো ভাই” হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তো হঠাৎ এমন কি হলো যাতে করে খালাতো ভাইদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলো? নাকি এটি রাজনীতির বহির্দৃশ্য খেলা মাত্র?

তবে ঘটনা যাই হোক না কেন সম্প্রতি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের দেওয়া কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে এ বিরোধ শুরু হয়।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অতীত নিয়ে জামায়াতের এই নেতার কিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবং বিভিন্ন উগ্রপন্থী ও ইসলামী দলগুলোর সাথে তাদের নতুন মেরুকরণের চেষ্টা সচেতন মহল ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অনেকেই আশঙ্কা করছেন, জামায়াত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের প্রধান রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকে কোণঠাসা করে বা ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যাতে তারা অন্যান্য কট্টরপন্থী দলগুলোকে সাথে নিয়ে একটি চরমপন্থী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে পারে।

একটু দেখা যাক একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারি ও খুনীর দল হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা গোলাম পরওয়ারের বিতর্কিত বক্তব্য। তিনি কিভাবে তাদের একসময়ের রাজনৈতিক মিত্রের ওপর আঘাত হেনেছেন।

সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রাষ্ট্রপতি ও বিএনপি’ র সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রয়াত পিতা মির্জা রুহুল আমীনকে ‘রাজাকার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি দাবি করেন যে রাজাকারের তালিকায় মির্জা রুহুল আমীনের সিরিয়াল নম্বর ছিল ৭১০।

শুধু মির্জা ফখরুলের পিতাই নন, তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ( যিনি এক সামরিক ক্যু’ তে নিহত হন চট্টগ্রামে) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেছেন , তাদের আমলে ১৪-১৫ জন চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া ব্যক্তিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও রাষ্ট্রীয় পদে বসানো হয়েছিল।

এদের মধ্যে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস, প্রবীণ নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া, সাবেক মন্ত্রী ডক্টর ওসমান ফারুক, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।

কেউ কেউ অবশ্য এই বক্তব্যের নেপথ্য রাজনীতি খুঁজে দেখতে চাইছেন। কারণ সেটাই স্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামী ও তার মিত্রশক্তি ৮০ টির বেশি সীট পেয়েছে। সুতরাং তাদের সমালোচনা কড়াতো হবেই।

অথচ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধভাবে রাজনীতি করেছে, একসঙ্গে সরকার গঠন করেছে এবং রাজপথে আন্দোলন করেছে।

কিন্তু গোলাম পরওয়ারের এই হঠাৎ আক্রমণ মূলত একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। জামায়াতকে যখনই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়, তখনই তারা পাল্টা আক্রমণ হিসেবে বিএনপির কাঁধে একাত্তরের দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত এখন বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে নিজেদের একাত্তরের কলঙ্কজনক ইতিহাসকে সাধারণ মানুষের চোখ থেকে আড়াল করতে চাইছে।

বিএনপির তীব্র প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক ফাটল

গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্যের পর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট এবং “আওয়ামী লীগের পুরনো বয়ান” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিএনির পক্ষ থেকে জামায়াতের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

বিএনপি জোরালোভাবে দাবি করেছে যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিবার মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং মির্জা ফখরুল নিজে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই ভুয়া রাজাকারের তালিকা ও অপপ্রচার চালিয়েছিল, যা এখন জামায়াত নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।

জামায়াত দ্বিচারিতার লিপ্ত, এমন অভিযোগ বিএনপির। বিএনপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ফাঁসি দিয়েছেন, সেই দলটির মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা এবং দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীর পিতাকে নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি চরম রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই ঘটনার পর স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে এক বড় ধরনের ও অপূরণীয় ফাটল ধরেছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি সরকারের চরম ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী ইসলামী চরমপন্থি দলগুলো নতুন কৌশল ও অবস্থান নিয়েছে।

চব্বিশের জুলাই- আগষ্টে ‘দেশি ও আন্তর্জাতিক ইসলামী জঙ্গী- সেনা ক্যু’ এর পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের একটি “নতুন ও সংস্কারপন্থী” দল হিসেবে জাহির করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

‘ভিকটিম’ কার্ড খেলা: জামায়াত নেতারা এখন প্রচার করছেন যে তারা বিগত দেড় দশকে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারা একাত্তরের প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে ২০২৪ সালের কথিত গণ-অভ্যুত্থানে তাদের সম্পৃক্ততার কথা সামনে আনছে।

ট্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি: গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, জামায়াতকে আর “স্বাধীনতাবিরোধী” বা “উগ্রপন্থী” তকমা দেওয়া যাবে না।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, জামায়াতকে মাঠের রাজনীতি থেকে মাইনাস করার কোনো চেষ্টা সফল হবে না এবং তারা দেশের শাসনব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেবেন।

জামায়াতের বাই- প্রোডাক্ট সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যা পরিবর্তিত এনসিপি ও অন্য ইসলামী দলগুলোর সাথে মেরুকরণের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জামায়াত। এমন অভিযোগ ও আভাসও পাওয়া যাচ্ছে তাদের কথাবার্তা ও কর্মকান্ডে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে এককভাবে কিংবা বিএনপির ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি থেকে সরে এসেছে।

তারা এখন জাতীয়তাবাদী শক্তির সমান্তরালে একটি শক্তিশালী ‘ইসলামী ব্লক’ বা ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি করতে চাইছে বা করছে অলরেডি।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ও আশঙ্কা রয়েছে যে, জামায়াত এবং নেজামে ইসলাম পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিশ, হেফাজতে ইসলামের একাংশ এবং পর্দার আড়ালে থাকা বিভিন্ন চরমপন্থী ও উগ্রবাদী চক্র এক হয়ে একটি সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে।

নানা ষড়যন্ত্রে পটিয়সী এই জামায়াত বেশ কয়েকটি রূপরেখা তৈরী করেছে এজন্য যতটুকু জানা যাচ্ছে বিভিন্ন আলামতে।
তাহলো-

১. বিএনপিকে কোণঠাসা করা: জামায়াত ভালো করেই জানে যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে। তাই তারা নির্বাচন বিলম্বিত করা অথবা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে যেখানে বিএনপির জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।

২. ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের উচ্চাকাঙ্ক্ষা: গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী বাংলাদেশের বদলে একটি উগ্র ধর্মীয় অনুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম করাই জামায়াতের মূল আদর্শিক লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে তারা অন্যান্য উগ্র ডানপন্থী দলগুলোকে সংগঠিত করে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের চেষ্টা করছে।

৩. ক্ষমতা দখলের ছক: সচেতন মহলের ধারণা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর বা বাইরে অস্থিরতা তৈরি করে, কিংবা একাত্তরের মতো কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখা এবং সুযোগ বুঝে উগ্র ইসলামী দলগুলোকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা নীতি নির্ধারণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়াই তাদের বর্তমান গোপন এজেন্ডা।

৫. জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক অপরাধ ও আদালতের রায়: জামায়াত যতই নিজেদের সাধু বা নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করুক না কেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাদের অপরাধকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জামায়াতে ইসলামীকে একটি “ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন” (অপরাধী সংগঠন) হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যারা একাত্তরে পদ্ধতিগতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে।

গণহত্যা ও নির্যাতন: একাত্তরে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্র সংঘ’ (বর্তমান ছাত্রশিবির) রূপান্তরিত হয়েছিল আলবদর ও আলশামস বাহিনীতে। তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিলে লাখ লাখ বাঙালি হত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল।

নিবন্ধন বাতিল: ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিল করে, যা পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে বহাল থাকে। একটি দল যার মূল ভিত্তিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ, তারা যখন দেশের শাসনক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখে, তখন তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

তো এখনতো বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ। বিএনপি এখনো বুঝতে পারছেনা যে, জামায়াত ও ইসলামী চরমপন্থী দলগুলোর বিষাক্ত ছোবল থেকে নিজেকে বাঁচাতে হলে তার একার পক্ষে সম্ভব নয়।

তাই আওয়ামীলীগের মত বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আপোষ ও তাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ না দিলে তা বিএনপি’ র জন্যই বরং চরম ক্ষতিকর হবে। এই দুটি দল যদি কিছু জাতীয় ইস্যুতে দেশের স্বার্থে ছাড় দিয়ে হলেও সমঝোতার রাজনীতি করার সৌজন্যতা দেখায় তাহলে তা বিএনপি’ র রাজনীতির জন্যই ভালো হবে।

বাংলাদেশ রক্ষায় জাতীয় ঐক্যে ছাড়া বিকল্প নেই।

জামায়াত ও তার সহযোগী উগ্রপন্থী দলগুলোর এই বিপজ্জনক রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে হলে দেশের প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একতাবদ্ধ হতে হবে।

ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে একাত্তরে জামায়াতের নৃশংস ভূমিকা এবং তাদের উগ্র মতাদর্শের ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে।

বিএনপি এবং দেশের অন্যান্য মূলধারার গণতান্ত্রিক দলগুলোকে জামায়াতের এই বিভাজনমূলক পাতা ফাঁদ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একযোগে কাজ করতে হবে।

চরমপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিএনপিকে দৃঢ় থাকা জরুরী। কোনো ধর্মীয় উগ্রবাদী বা জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী যেন জনআকাঙ্ক্ষাকে জিম্মি করে রাষ্ট্রকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে না পারে, সেজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে সদা জাগ্রত থাকতে হবে।

বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিল বিশ্বে। এ দেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করে, কিন্তু ধর্মীয় উগ্রবাদ বা ফ্যাসিবাদের স্থান এ মাটিতে খুব বেশি স্থায়ী আসন গাড়তে পারেনি বলেই বিশ্বাস অনেকের। তবে গত ২০২৪ এর জুলাই- আগষ্টের ‘ইসলামী জঙ্গী সেনা ক্যু’ সে ধারনাকে একেবারে ম্লান করে দেয়।

জামায়াতে ইসলামী তাদের অতীত অপরাধের দায় স্বীকার না করে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূল স্তম্ভগুলোকে আঘাত করে যে নতুন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে, তা দেশের জন্য চরম উদ্বেগের।

বিএনপিকে মাইনাস করে বা অন্য কোনো অগণতান্ত্রিক উপায়ে উগ্রপন্থী দলগুলোকে সাথে নিয়ে ক্ষমতা দখলের যেকোনো নীল নকশা রুখে দিতে দেশের ছাত্র-জনতা এবং মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

তবেই একাত্তরের শহীদদের রক্তে ভেজা এই বাংলাদেশ একটি নিরাপদ, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

সেক্ষেত্রে বিএনপি’ র বর্তমান ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে গভীর চিন্তার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাকে বুঝতে হবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্মলগ্নে ও তার পরবর্তী সময়ে সত্যিকার বন্ধু কারা ছিল।

দল নয়, দেশকে যদি প্রাধান্য দিতে দেরি করে বা না পারে তাহলে বিএনপি যেমন জামায়াতের ছোবল খাবে। তেমনি দেশ সাম্প্রদায়িক ইসলামী জঙ্গীদের কবলে চলে যাবে।

এখন এ পরিস্থিতিতে বিএনপি ও সরকার প্রধান তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কোন পথে হাঁটবেন!

# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *