কয়েকদিন আগে সংসদে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ছোট বক্তব্য শুনছিলাম। তিনি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শিশু শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি ও লন্ডনে শিক্ষার্থীদের একটি তুলনামূলক উদাহরণ তুলে ধরছিলেন।

অবশ্য তিনি বিস্তারিত বিবরণে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কেুল ড্রেসের বিষয়টি বলছিলেন। বিশদ আলোচনায় না গেলেও তার মনে একধরনের আকুতি ছিল বোধ করি।

কারণ লন্ডনে শিশু শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের শিশু শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি এক নয়। তিনি অন্তত এ ফারাকটি বুঝে তা নিরসনের উপায় বের করার চেষ্টা করবেন সম্ভবত- এমনটাই বুঝেছি।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে জনাব তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। সেই সময়কালে তিনি সেখানকার সমাজ-রাজনীতি-ইকোনমি-স্বাস্থ্য-গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থাসহ নানা বিষয়ই অবহিত হয়েছেন নিশ্চয়।

তিনি সেদিনই সম্ভবত সংসদে ঘোষণা দিয়েছিলেন চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। সেতো খুবই ভালো কথা। খুশীর কথা।

তবে এই যে বিনামূল্যে ড্রেস দেয়া হবে সেখানে কি ওই কোমলমতি মেয়ে শিশুকে হিজাব বা নেকাব কোনভাবে বাধ্যতামূলক করা হবেনাতে এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে।

কারণ বেশ আগে থেকেই আমাদের দেশে বেশকিছু সময় ধরে ধর্মের নামে বা ধর্ম চর্চার নামে কথিত পর্দাপ্রথা বা হিজাব-নেকাব এধরনের একটি অবরুদ্ধতা বা অবগুন্ঠনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

সেই ১৯০৯ সালে বেগম রোকেয়া যে নারীমুক্তির জন্য, নারীশিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন তা কি আমাদের এই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা গেছে? আমি এর আগে বিভিন্ন নারী মুক্তি-সমাজ সংস্কারকদের প্রসঙ্গে নাইবা গেলাম।

কারণ বেগম রোকেয়াকে নারীশিক্ষা, বিশেষত মুসলিম নারীশিক্ষার অগ্রদূত বা কান্ডারি বলা হয়ে থাকে।

সেই মহিয়সী বেগম রোকেয়াকে মুসলিম নারী সমাজের মধ্যে অশিক্ষা, কুসংস্কার, পর্দাপ্রথার বাড়াবাড়ি ভীষণভাবে পীড়িত করে তুলেছিল।

তাই তিনি প্রথাগত সমাজের মূলে কুঠারাঘাত করে নারীর মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর নারী মুক্তি আন্দোলন ছিল মূলত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর প্রতি নীচু মানসিকতার বিরুদ্ধে।

তার নারী মুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চাৎপদ মুসলিম নারীসমাজকে পুরুষশাসিত সমাজের কবল থেকে মুক্ত করা। কিন্তু তা কি পেরেছেন তিনি বা তাঁর অনুসারি বলে দাবিদার নারী আন্দোলনকারি সংগঠন বা নেত্রীগণ?

তাই যদি হতো তাহলে এই ২০২৬ সালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগেও আমরা শালীন-অশালীন খুঁজে বেড়াই কারো পোষাকে, জীবনাচারণে।

যে মানুষ তার নিজের চোখের শালীন-অশালীন বোঝেনা সে কি করে অন্যের শালীনতা-অশালীনতা যাচাই করবে? পুরুষ বা নারীর বিভেদের চেয়ে প্রথমে যে মানুষ হতে হবে সেটিই আমাদের মননে নেই।

কারণ সেই ছোটবেলা থেকেই আমাদের দেশের মুসলিম সমাজব্যবস্থায় সেই কিতাব পড়াকে অত্যন্ত ছওয়াবের কাজ বলে চিহ্নিত করা হয়। তা যত প্রগতিশীল মানুষই হোক না কেন, একটি সময়ে এসে তারা সেই কিতাবের এত বেশি ভক্ত হয়ে পড়েন যে তা আর বলা বাহুল্য।

তবে গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট মাসের “ইসলামী জঙ্গী –সেনা ক্যু” এর সময় থেকে এই লালসবুজের পতাকার দেশে আবারো অবগুন্ঠনের পরিমাণ এতবেশি বেড়েছে যে তা ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে।

এই হিযাব নেকাব এমন ভয়াবহ অবস্থায় চলে গেছে যে, জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত মহিলা সাংসদের কয়েকজন আগাগোড়া এমন পোশাকে নিজেদের আবৃত করে সংসদে আসেন যে তাদেরকে কেউ চিনতে পারেন না।

যে সংসদে উপস্থিত থেকে তারা আইন পাশ করবেন বা করছেন সেখানে তার অন্য সহযোগীরাই এসব অবগুন্ঠিত নারীদের বদন দেখার সুযোগটি পাননি।

এ নিয়ে বিএনপি’র একজন সাংসদ কিছুটা রসিকতা করে সংসদে কথা বলায় তাকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তাকে এটাও শুনতে হয়েছে যে, কারো পোষাক পড়ার বিষয় নিয়ে, কাপড়ের ভেতরে অন্তরীন থাকার বিষয়ে কোন কথা বলা যাবেনা।

এই হলো আমাদের জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের মনমানসিকতা।পাঠক আপনারা হয়তো জানতে চাইছেন – এতসব কিছু কেন বলছি।

আমাদের সমাজেতো নারী, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকরা প্রতিবাদ করছেন নানা বিষয়ে। অনেকটা তাই মনে হয়। এটি ঠিক যে, সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশে আমাদের শিক্ষক-তরুণ-শিক্ষিত সমাজ-নারীসমাজসহ সবাই মনে হয় একটু একটু প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন বা হতে শিখছেন নতুন করে।

এটি বলছি এজন্য যে, গত দুইটি বছর যে তারা কোন পাহাড়ে বা জলাশয়ে লুকিয়ে ছিলেন তা ভেবে পাই না। সম্প্রতি গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখছি প্রতিবাদের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক খুললেই বেজে উঠছে.. শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে..নামবে বুঝি শ্রাবণেই। এর সঙ্গে এক নারী শিক্ষক জড়িত। এরসঙ্গে স্বাধীন মানসিকতার-স্বাধীন সাংস্কৃতিক আবহ জড়িত।

প্রকৃতি, প্রাণোচ্ছ্বলতা জড়িত। মনকে ভালো রাখা জড়িত।

আর এসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিউটি পাল নামে একজন প্রাণোচ্ছল –সংস্কৃতি-শিক্ষামনষ্ক-জাতিগঠনে যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা রয়েছে সেই শিক্ষকের বা শিক্ষিকার। ছোট্ট একটি ভিডিও ক্লিপ।

তাকে কি ছিল তা সবাই দেখেছেন ইতিমধ্যে। কিন্তু সেটিকে ব্যঙ্গ করে নানা ট্রল করা হলো। সেটি যেই পুরুষ করেছেন তিনি দেশেও থাকেন না, বিদেশ থেকেই বিউটি রানী পালের সঙ্গে অন্যায়ভাবে খাতির জমাতে না পেরে এই শিক্ষিককে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু কথায় বলেনা সত্যের কল বাতাসে নড়ে। মানে হলো- সত্য কখনো গোপন থাকেনা। অন্যায্যভাবে কারো ক্ষতি করতে চাইলে তা উল্টো হয়ে বিঁধে যায় অন্যায়কারির।

বরং বিউটি পালকে এতদিন যারা চিনতেন না, তারা বরং জেনে এখন তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন শক্তভাবে। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শিক্ষক-সংস্কৃতিসেবী-কিশোর-যুবক-বুড়ো সবার আপনজন হয়ে উঠেছেন এই শিক্ষক বিউটি পাল।

যারা অত্যন্ত সযতনে গত চব্বিশের আগষ্টের পর ফেইসবুকে কোন ধরনের কমেন্ট করা থেকে নিজে এড়িয়ে থাকতেন তারাও দেখছি সরব হয়েছেন এই ইস্যুতে।

এর মধ্যেই কিন্তু আমাদের সমাজে-প্রশাসনে যেসব মৌলবাদী-কুপমন্ডুক ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠ রয়েছে তারাতো এই শিক্ষিকা বিউটি পালের বিরুদ্ধে শিক্ষাবিভাগ থেকে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল।

কিন্তু সমাজের নানা দিক থেকে যেহারে সব শ্রেণী-পেশার নাগরিকরা জোটবদ্ধভাবে প্রতিবাদ শুরু করেছেন আর বিউটি পালের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন তাতে প্রশাসন পিছটান দিতে বাধ্য হয়েছে।

বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি সিলেটে গিয়েছিলেন সরকারি কাজে। তিনি সেখানে কয়েকটি প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশেছেন, এমনকি ক্লাশও নিয়েছেন। বেশ ভালোভাবেই কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন তার নিজের স্বকীয়তা দিয়ে। এমনটিইতো শিক্ষামন্ত্রী হওয়া প্রয়োজন।

এই যে শিক্ষামন্ত্রী ববি শিশুদের সাথে মিশে তাদের আপনজন হওয়ার চেষ্টা করেছেন, শিশুদের মনে লেখাপড়া নিয়ে, শিক্ষক নিয়ে যে ভীতি রয়েছে তা দূর করার চেষ্টা করেছেন। আনন্দের সঙ্গে, প্রাণোচ্ছ্বলতার সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে শেখার যে পরিবেশ সেটিইতো আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা।

সেই শিক্ষাটিইতো দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। শিশুদের কাছে যিনি অত্যন্ত আপনজন হয়ে উঠেছেন তার পড়ানোর কৌশলের কারণে।

সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক শিক্ষামন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমনটাই বলেছেন যে, তিনি যতটুকু জেনেছেন তাতে অশালীন কিছু মনে হয়নি।

সুতরাং তদন্ত কমিটির কোন প্রয়োজন নেই। এই যে মন্ত্রী বললেন- তদন্তের প্রয়োজন নেই, সৃতরাং জেলা শিক্ষা অফিসারও বললেন আর তদন্ত হবেনা। কিন্তু তদন্ত কেন, কাদের উদ্দেশ্য পূরণে তদন্ত করতে যাচ্ছিল শিক্ষা অফিস সেটাতো জানা দরকার।

আচ্ছা একটি বিষয় কি আমাদের করিৎকর্মা কর্তাব্যক্তিদের মাথায় ঢোকেনি যে , যেই শিক্ষিকা সারা জেলার মধ্যে শ্রেষ্ট শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন সবদিক বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার আগে একটু ভেবে দেখা দরকার!

নাকি সংখ্যালঘু ও একজন নারী বলে তাকে অবলা ভেবেছিলেন বা ভাবছেন? সেটি ভাবার সময় বোধ হয় পাননি আপনারা, তাই না?

তার আগেই নানামুখী প্রতিবাদের মুখে খোদ শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রীর পজেটিভ মন্তব্যে আপনাদের তদন্তের মুখে ছাই পড়েছে !

সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য ও প্রতিক্রিয়াতো সাংঘাতিক এক কাজ করেছে এক্ষেত্রে। তবে একটি বিষয় খেয়াল করলে দেখবেন, আগে যেখানে সংবাদমাধ্যম তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতো সেখানে এখন তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া কি তা দেখার জন্য অপেক্ষা করে।

তারপরই তাদের কাজে নামার পক্ষে সুবিধে হয় বোধ হয়। এজন্যই আমি ব্যক্তিগতভাবে সংবাদমাধ্যমকে আর গণমাধ্যম বলিতে রাজি নই এখন। কারণ গণমাধ্যম তার নিজস্ব চরিত্র হারিয়েছে যা আগে সত্যিকারভাবেই গণমানুষের কথা বলতো।

সরকারিভাবে যেখানে শিক্ষার্থী‌দের নাচ-গান-আবৃত্তি, খেলাধুলাসহ নানা সাংস্কৃতিক ও একট্রা কারিকুলামের দিকে বেশি নজর দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যেখানে আনন্দের সাথে –উৎফুল্লচিত্তে খেলতে খেলতে শিখতে পারে সে ব্যবস্থা যাতে আরো সহজে করা যায় তার উপায় বের করা দরকার, আর সেখানে এই বিউটি পালসহ অন্য শিক্ষকগণ করছে বলে তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য লেগেছে এই সমাজেরই কিছু তষ্কর।

এরা মূলত সেই অন্ধকারের জীব। যারা শিক্ষার প্রকৃত মানে বুঝতে অক্ষম। এরাতো আলো সহ্য করতে পারেনা। শিক্ষা-জ্ঞান আমাদের মনের জানালাকে খুলে দিয়ে আলো-বাতাসকে অবারিত করে দেয়। ছোট চারাগাছ যেমন আলো-বাতাস-পানি পেলে ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে ঠিক তেমনি ছোট ছোট শিক্ষার্থী‌রাওতো তেমনি। এদেরকে সঠিক আলো-বাতাসে বড় করতে না পারলে সমাজতো সেই অন্ধকারেই থেকে যাবে।

তবে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরকারের জন্য একটি বড় আশংকা রয়েছে। তাহলো-আধুনিক-বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা প্রসারের বিরুদ্ধে সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন গোঁড়ামির শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য হিম্মত প্রয়োজন। লড়াইটা চলবেই। অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের । অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের। অন্ধকারে বিরুদ্ধে জ্ঞানের আলোর।
তাই সিদ্ধান্ত আমাদের। আমরা কি সেই মধ্যযুগীয় বর্বর-অসব্য যুগে ফেরত যাবো নাকি আরো পরিশীলিত- মার্জিত কিন্তু অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলবো। আবারো তাই সেই কবিগুরু রবিছাকুরের স্মরণাপন্ন হই বিনম্র শ্রদ্ধায়।

মনে পড়ে যায় সেই গানটি-

আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান॥
অসীম কালের যে হিল্লোলে জোয়ার-ভাঁটার ভুবন দোলে
নাড়ীতে মোর রক্তধারায় লেগেছে তার টান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান॥
ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি বনের পথে যেতে,
ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে,
ছড়িয়ে আছে আনন্দেরই দান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
কান পেতেছি, চোখ মেলেছি, ধরার বুকে প্রাণ ঢেলেছি,
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান॥

এ সমাজে বিউটি পালের মত শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগন জানার মাঝে অজানাকে সন্ধান করে চলেছেন। সেই সন্ধান হয়তো নতুন প্রজন্মকে আনন্দের মধ্য দিয়ে, প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধের মধ্য দিয়ে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সন্ধান ।

আমাদের সমাজে যত কীটই থাকুকনা কেন এমন সত্যের সন্ধানে যারা ব্রতী তাঁদের জয় অবশ্যম্ভাবী। এ যে সেই “ জোট বাঁধো তৈরী হও” শ্লোগানের মতো।

# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার কর্মী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *