আমেরিকান ‘ডিপস্টেট’ ও নো-বেল লরিয়েট ষড়যন্ত্রকারী ড. ইউনুসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এর অংশ হিসেবে গত ২০২৪ এর জুলাই আগষ্টে ‘ইসলামী জঙ্গী-সামরিক ক্যু’ এর মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটানো হয়।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের সামরিক উড়োজাহাজে করে ভারতের দিল্লীতে পৌঁছে দেয় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী। তারপর থেকে শেখ হাসিনা নির্বাসনে আছেন।

আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনসমূহকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হলো। কিন্তু শেখ হাসিনাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে ও আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করার পর বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদে ও শান্তিতে আছে?
দেশের মানুষ কেমন আছে তা জিজ্ঞেস করলে একটি কৌশলী উত্তরই যথেষ্ট। তা হলো- “আগেই ভালো ছিলাম”।
উচ্চমাত্রায় সুদখোর ইউনুস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার পর নির্বাহী আদেশে আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
ব্যাপকভাবে এই দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, কারাগারে ঢোকানো, পিটিয়ে হত্যা, বিনাবিচারে আটক রাখা, বিচারের নামে প্রহসন করা, পুলিশী ও ইসলামী ফ্যানাটিক দল ও বিএনপি ক্যাডারদের মাধ্যমে ঘর ছাড়া , এলাকাছাড়া করা হলো সে প্রক্রিয়া এখনো চলছে।
অনেকে প্রাণটি বাঁচাতে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। গত প্রায় দুই বছরে নানা চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ।
কিন্তু আওয়ামীলীগ নামে যে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হলো সেটি কি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে? একাত্তরের ঘৃণিত কুখ্যাত খুনীর দল, গণহত্যাকারির দল, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারি দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা দোসররা নানা কৌশলে আওয়ামীলীগকে ও দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা করেছে। করেই যাচ্ছে এবং করবে। এটিই বাস্তবতা।
কারণ তাদের প্রধান শত্রু আওয়ামীলীগ। কারণ এই আওয়ামীলীগের নেতৃত্বেই একাত্তর সালে এদেশের আপামর জনসাধারণ পাকহানাদার বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। আর সেই মুক্তিযুদ্ধের ডাকও দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সুতরাং আওয়ামীলীগকে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি তা দেশের ভেতরে হোক বা বাইরে হোক তারা সহ্য করবে কেন? কারণ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী রাষ্ট্রগুলো ও চীন (একাত্তরে পাকিস্তানে পক্ষে ছিল, তা সবাই জানেন) তাদের নানারকম অবৈধ সুবিধা নিতে পারবেনা তা তারা জানে।
কারণ বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা কিন্তু এসব দেশকে অনৈতিক সুবিধা দিতে রাজী হননি। তবে অনেক ক্ষেত্রে আপোষ করেছেন সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই।
সেই একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধেও এসব অপশক্তি বাংলাদেশের চরম বিরোধীতা করেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী দেশগুলোতো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তারমানে কি? এসব দেশ শেখ মুজিবুর রহমানকে ইসলামের বন্ধু মনে করতোনা। কিন্তু শেখ মুজিব মুসলিম দেশগুলোর মনযোগাতে নানা কিছু করেছেন।
তিনি পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওআইসি (আন্তর্জাতিক ইসলামী কনফারেন্স) মিটিংয়ে যোগ দেয়ার জন্য। কিন্তু তখনও পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি।
অনেকটা আগ বাড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের মত বিশ্বনেতা পাকিস্তান ও ইসলামী দেশগুলোর মুখাপেক্ষী হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আওয়ামী ঘরানার বিশ্লেষকরা যুক্তি দেখান যে- তখন যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য এসব করা ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের অন্য পথ খোলা ছিলনা।
কিন্তু এসব করেও কি সেসব ইসলামী রাষ্ট্রের মন ভেজাতে পেরেছিলেন তিনি? পারেননি। অথচ স্বাধীনতাত্তোর যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশের পুনঃ গঠনে এগিয়ে এসেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারতসহ তখনকার সমাজতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দেশগুলো ও সেসব দেশের রাষ্ট্রনায়কেরা।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু ইসলামী দেশগুলোর কাছে নিজেকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন।
সেই একই ভুল কিন্তু করেছেন তারই কন্যা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনিও মনে করেছিলেন চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী রাষ্ট্রগুলো তাঁকে বিশ্বাস করে ও বন্ধু মনে করে।
কারণ শেখ হাসিনা যতদূর জানি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন নিয়মমাফিক। ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করেন।
দেশের অনিয়ন্ত্রিত কওমী মাদ্রাসাগুলোকে কোন যাচাই বাছাই করা ছাড়াই তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন-কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে দিলেন।
আর এই কওমী মাদ্রাসার সুবিধাবাদী হুজুররা নানা সুযোগ সুবিধা পেয়ে শেখ হাসিনাকে ‘কওমী মাতা’ উপাধি দিলেন। এ উপাধিতে ভূষিত করা যে শুধুমাত্র লোকদেখানো ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা আদায়ের জন্য তা বোধ হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বুঝতে পারেনি।
অথবা বুঝলেও মনে করেছিলেন, এই কওমী জঙ্গী হুজুররা তাঁকে মানে আওয়ামীলীগকে ভোট দেবে, সমর্থন করবে। কিন্তু ভুল সবই ভুল। এই জীবনের পাতায় পাতায় ভুল সবই ভুল হে জাতির পিতার কন্যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
চব্বিশের ‘ ইসলামী জঙ্গী সামরিক ক্যু ’ এর পর তো শেখ হাসিনাকেজ সেই ভারতেই আশ্রয় নিতে হলো। কোন ইসলামী দেশ কিন্তু তাঁকে আশ্রয় দেয়নি বা দেবেও না। অন্য কোন দেশও হয়তো তেমন কোন আগ্রহ দেখায়নি- মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চাপের কারণে। অথবা সেসব দেশের নিজস্ব কোন কৌশল থাকতে পারে।
কিন্তু যত কিছুই হোক শেখ হাসিনা ভারতেই অত্যন্ত সুরক্ষিত। তার দলের অসংখ্য নেতাকর্মীও সেখানে আশ্রয় নিয়ে আছেন।
শুধু এবারই যে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বা ভারত তাঁকে সাহায্য করেছে, চরম বিপদের দিনে পরীক্ষিত বন্ধুর মত সাহায্য করছে এটি অন্য কেউ করবেনা। অতীতেও করেনি।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শেখ হাসিনা, তাঁর স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া, বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানাসহ তাদের পুত্রকন্যাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন মাতৃস্নেহে। এমনকি ড. ওয়াজেদ মিয়াকে ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনে চাকরি-গবেষণার সুযোগও দিয়েছিলেন।
আগামী ২৩ জুন এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলটির ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এখন আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ। প্রকাশ্যে আসতে পারেননা দলের নেতাকর্মীরা।
কিন্তু তাই বলে গত দুই বছরে একেবারে নিশ্চুপ ছিলনা নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। কোন না কোনোভাবে ঝটিকা মিছিল করেছে, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা , শেখ হাসিনা ভয় নাই, আমরা আছি লক্ষ ভাই এ ধরনের নানা শ্লোগানে প্রকম্পিত করেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
এখনো নানা জায়গায় প্রতিনিয়ত তা করে যাচ্ছে এই সংগ্রামী দলটির নেতাকর্মীরা শত জুলুম, অত্যাচার, গ্রেপ্তার ইত্যাদি সহ্য করে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে যোগাযোগ। তবে আওয়ামীলীগ এই সাইবার যুদ্ধে অনেক পিছিয়ে রয়েছে তার বিরুদ্ধ অপশক্তির চেয়ে।
সেই চব্বিশের পাঁচ আগষ্টের পর থেকে সেই ইউনুস সরকার ও তার বশংবদ সভাসদসহ আওয়ামীবিরোধী গ্রুপ সব সময় ভয়ে ছিল এই বুঝি শেখ হাসিনা ঢুকে গেল বাংলাদেশে। এই বুঝি আওয়ামীলীগ আবার চলে আসলো দেশে! এদের মধ্যে প্রচন্ড আতঙ্ক বিরাজ করছিল তখন।
কারণ তারা জানতো যে, কোন না কোন সুযোগে যদি শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা একবার মাঠে নেমে পড়ে তাহলে সেনা-পুলিশ দিয়ে কোনভাবেই তাদেরকে রোধ করা যাবেনা।
সেই অবৈধ-অগণতান্ত্রিক-ক্ষমতালোভী ইউনুস তাই কোন না কোনভাবে শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগকে প্রকাশ্যে আসতে না দেয়ার জন্য নানা রকমের ফন্দি আঁটতো। যদি কোন না কোন দিক থেকে বলা হতো শেখ হাসিনা ঢুকছে ওমুক দিন বাংলাদেশে এ ধরনের কোন সংকেত বা গুজবেই প্রচন্ড ভয়ে থাকতো তারা।
তখন সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সেনাসহ অন্য গোয়েন্দা প্রধানদের ডেকে জরুরী মিটিংয়ে বসে যেতো। অসংখ্যবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তা নিশ্চয়ই দেশবাসী ভুলে যাননি।
কিন্তু অনেক নাটকীয়তার পর এ বছর ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনের নামে যে সিলেকশনে হলো তাতে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলো।
১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার একমাত্র জীবিত পুত্র তারেক রহমান দেশে ফিরলেন এবং প্রধানমন্ত্রীও হলেন।
এই ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ১১ দলীয় দোসররা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতা দখলের পায়তারা শুরু করেছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগের স্লিপিং সমর্থক ও এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় এই জামায়াতিদের ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকাতে একচেটিয়া বিএনপি প্রার্থীদেরকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে এনেছে।
এতে করে আর যাই হোক আপাতত: ইসলামী চরমপন্থাকে ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকানো গেল। ধারণা করা হয়েছিল যে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামীলীগের ওপর থেকে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
আওয়ামীলীগ আবার দেশের প্রচলিত ধারায় রাজনীতিতে ফিরে আসবে। কোন কোন জেলায় ও শহরে আওয়ামীলীগের অফিস খোলা শুরু ও জাতীয় ও দলীয় পতাকা লাগানোও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাও আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মব সন্ত্রাস করে।
পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনযন্ত্রও স্টিমরোলার চালানো শুরু করলো আওয়ামী নেতাকর্মীদের ওপর।
কিন্তু আওয়ামীলীগ আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে সত্য, কিন্তু তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি কখনো। সভা সমাবেশ করেছেন তারা। হয়তো সবকিছু স্বাভাবিকভাবে করতে পারেনি।
কিন্তু আওয়ামীলীগ কখনো বিএনপিকে নিষিদ্ধ করেনি। গত নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময় আওয়ামীলীগ হয়তো ধারণা করেছিল যে, বিএনপি তাদেরকে রাজনীতিতে প্রকাশ্য হওয়ার সুযোগ দেবে ধীরে ধীরে।
কারণ বিএনপিকে একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবেই দেখে আসছিল বা মূল্যায়ন করেছিল আওয়ামীলীগ।
কিন্তু সেখানেই হয়তো একটু ভুল হয়ে গেছে রাজনৈতিক কৌশল বা অংকে।
আওয়ামীলীগ নেতারা কেমনে ভাবলেন যে বিএনপি তাদের প্রতি সহানুভুতিশীল আচরণ করবে? কিন্তু সে ধারণাটি একেবারেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ইউনুস সরকারতো নির্বাহী আদেশে আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল।
আর বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে আইন করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো।
এটিই বিএনপি। এটিই সামরিক ছাউনিতে লে: জে: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আসল চরিত্র। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও তাদের দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কি করে ভুলে গেলেন যে, ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এ্যভেন্যুতে আওয়ামীলীগের জনসভায় শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে হত্যার জন্য উপর্যুপরি আর্জেস গ্রেনেড হামলা ও শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের বুলেট ছোড়া হয়েছিল।
কিন্তু এই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাদের নেত্রীকে সেদিন মানবঢাল তৈরী করে বাঁচিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ কমপক্ষে ২৪ জন নেতাকর্মী সেদিন প্রাণ হারিয়েছিল। অসংখ্য নেতাকর্মী এখনো বুলেটের স্পিন্টার শরীরে নিয়ে বসবাস করছেন।
সেই ২০০৪ সালেতো বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় ছিল। নানা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ও মামলার অনুসন্ধানে তো দিবালোকের মত ষ্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এই হামলার পেছনে বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে।
তারেক জিয়া মূলত শেখ হাসিনাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। সে ভয়াবহ বিভীষিকার কথা,জিঘাংসার কথা আওয়ামীলীগ ভুলে যায় কেন সেটাই বুঝিনা।
শুধু কি একবার শেখ হাসিনাকে হত্যা করার অপচেষ্টা হয়েছিল? ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ১৯ থেকে ২১ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো বেঁচে আছেন।
এখনো বাংলার মানুষ যে জঙ্গী-অপশক্তির নাগপাশে বন্দী হয়ে আছে তা থেকে মুক্ত করার জন্য হলেও আওয়ামীলীগের বিকল্প নেই। স্বাভাবিকভাবেই তা হতে হবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।
ইউনুস সরকারতো ভয় পেতোই শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগকে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও প্রচন্ড রকমের ভীত আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার নামে।
তাই আওয়ামীলীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলতে গেলে একপ্রকার রেড এলার্টে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়তো রীতিমতো তার বাহিনীকে নামিয়ে দিয়েছে লতায়-পাতায় যারা আওয়ামীলীগ আছে তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য।
কিন্তু ইতিহাস বলে- অত্যাচার-নির্যাতন-জুলুমবাজি করে কেউই বেশিদিন টিকতে পারেনি। বিএনপি ও তাদের সহযোগী যারা গত চব্বিশে ‘ইসলামী জঙ্গী-সামরিক ক্যু’ এর সৈনিক ছিলেন তাদের অভিযোগ – আওয়ামী অত্যাচারে দেশের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।
কিন্তু এমন দিনও কি অপেক্ষা করছে যে আবার এর উল্টোটাও হতে পারে এখনকার ক্ষমতাসীন দলের জন্য?
সমস্যা হলো সবাই ইতিহাসের কথা বলে ঠিকই। কিন্তু ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না। বাঙ্গালীর ও বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশেষ্ট অর্জন হলো মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা পাওয়া।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যে দলটি নেতৃত্ব দিয়েছিল সেটি হলো আওয়ামীলীগ। সেই একাত্তরের রণহুংকার ছিল জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো। তোমার আমার ঠিকানা – পদ্মা মেঘনা যমুনা। এমনতরো অসংখ্য দেশপ্রেমে উজ্জীবীত শ্লোগানই ছিল বাঙ্গালীর প্রাণশক্তি।
তাই বলতে হয়- ৭৭ বছরের ঐতিহাসিক দলটিকেও নানা অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরী।
দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা-সুযোগসন্ধানী বর্ণচোরাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে না পারলে দল তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। এই কঠিন সত্য মেনে নিয়েই তবে এগোতে হবে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগকে।
একবার যদি বাঙ্গালী জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে মাঠে নেমে পড়ে তাহলে কিন্তু কোন অপশক্তিই সেই শক্তিকে রোধ করতে পারবেনা। শুধু দরকার দলের সঠিক পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও ঐক্যবদ্ধ ত্যাগী নেতাকর্মীর দৃঢ়তা। সেই সাথে আপামর জনসাধারণের সম্পৃক্ততা।
দেশবাসী তৈরী আছে ঠিকই, শুধু আওয়ামীলীগকে তৈরী হয়ে ডাক দিতে হবে।
# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
