ঢাকা: ‘দক্ষতা বাড়াতে’ হলে বুঝি জঙ্গীস্থানে যেতে হয়? কেন? বারবার প্রশ্ন কেন?
প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন সরকারের উচ্চপদস্থ ১২ কর্মকর্তা।
লাহোরের ‘সিভিল সার্ভিসেস একাডেমিতে’ ৪ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের (৩০ এপ্রিল) ওই অফিস আদেশে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং ১১ জন যুগ্ম সচিব পদের কর্মকর্তাসহ ১২ জনের নামও লেখা রয়েছে।
পাকিস্তানে কিসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সেটা তো শুধু আমরা না সারা পৃথিবী জানে!
প্রশিক্ষণ নিতে তারা যাচ্ছেন পাকিস্তানে, সেখানে জঙ্গিপনা ছাড়া আর কি শিখবেন?
বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১২ জন সিনিয়র বিসিএস কর্মকর্তা পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিসেস একাডেমিতে (CSA) একটি এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গন, নীতিনির্ধারক মহল এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা এবং প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন।
একটাই সন্দেহজনক প্রশ্ন পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ? প্রশিক্ষণ নিয়ে আসার পর এই ১২ জন তথা এই সরকারকে কী আর আস্থায় নিতে পারবে জনগণ? যে সরকারকে এত বিশ্বাস করে তারা ভোট দিয়েছিলো?
যে ১২ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন
সরকারি আদেশ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের তালিকা:
• স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সালমা সিদ্দিকা মাহতাব
• বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মোস্তফা জামাল হায়দার
• জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আবু রায়হান মিয়া
• মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. ফিরোজ আহমেদ
• মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. তৌফিক ইমাম
• জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. তৌফিক ইমাম
• জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রায়হান আখতার
• স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ.এফ.এম. এহতেশামুল হক
• স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. শামসুল হক
• জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুহাম্মদ আব্দুস সালাম
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. জিল্লুর রহমান
• বিসিএস প্রশাসন একাডেমির এমডিএস (যুগ্ম সচিব) জিয়া আহমেদ সুমন
লাহোরের সিভিল সার্ভিসেস একাডেমি পাকিস্তানের একটি প্রধান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ বিনিময় অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে বেছে নেওয়া—এটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণে একটি মারাত্মক সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত। এবং জনগণের অন্তরে আঘাত, এবং মুক্তিযুদ্ধকে না মানার একটি চক্রান্ত।
এবং আরো একটি বিষয় হচ্ছে,বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকের বেশি সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে সীমিত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ থাকলেও, উচ্চপর্যায়ের বিসিএস কর্মকর্তাদের এমন ধরনের প্রশিক্ষণে পাকিস্তানে পাঠানোর নজির নেই।
এই যে পাকিস্তানের যাওয়া হচ্ছে, এই বিষয়ে মূলত কোনো আলোচনাই সামনে আসেনি, মানে আনা হয়নি। কেবল পাঠানো হবে এটাই বলা হয়েছে। জনসমক্ষে কিছু আসেনি। ফলে এটি এখন চর্চার মূল বিষয়বস্তু!
