ঢাকা: স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ভীষণ স্পষ্টবাদী একজন মানুষ। সত্য কথায় ভয় পান না তিনি।
এবারো রীতিমতো বোমা ফাটালেন। মামলা বাণিজ্য কীভাবে চলছে, এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায় জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বললেন।
“আওয়ামী লীগের ১৫ জন মিছিল করলে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। ফোন করে ভয় দেখানো হয়, টাকা না দিলে মামলায় নাম দেওয়া হয়”! — রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক অভিযোগ।
আমরা তো তাই দেখে আসছি।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ‘মামলা বাণিজ্য’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইতিহাসের এক অদ্ভুত নিয়ম হলো—আপনি আজ অন্যের জন্য যা অন্যায় করে যাবেন, ভবিষ্যতে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শাস্তি আপনার নিজের ওপর ফিরে আসবে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত পরশু বা তার আগের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন লোক মাথায় কাপড়ের ক্যাপ এবং মুখে মাস্ক পরে সেই মিছিলটি করেছে। মাস্ক এবং ক্যাপ পরার কারণে স্বাভাবিকভাবেই কাউকে চেনা অত্যন্ত কঠিন ছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানলাম, সেই সামান্য ঘটনার জেরে স্থানীয় থানায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের নামে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। ১৫ জনের মিছিলের বিপরীতে ১৫০ জন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কেন এই বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হলো?
কারণ এর পেছনে রয়েছে একটাই নিকৃষ্ট উদ্দেশ্য—আর তা হলো ‘মামলা বাণিজ্য’।
স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী নেতাকর্মী পুলিশের সঙ্গে সরাসরি অবৈধ যোগসাজশ করে এই মামলা বাণিজ্য দেশজুড়ে অবাধে চালাচ্ছে বলে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন।
সাধারণ মানুষকে ফোনে নিয়মিত ভয় দেখানো হচ্ছে, ‘টাকা না দিলে কিন্তু এজাহারের তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দেব।’
এভাবেই নিরীহ মানুষের রক্ত জল করা টাকা সর্বত্র ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে।
বিএনপি যখন দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রধান বিরোধী দলে ছিল, তখন আমরা দেশে ‘গায়েবি মামলা’র এক কুৎসিত উৎসব দেখতাম, যেখানে কোনো ঘটনাই ঘটেনি বা আসামি ঘটনাস্থলে সশরীরে ছিল না, তাও অবাস্তব মামলা হতো।
আজ ক্ষমতার ঐতিহাসিক পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুরোনো সেই নোংরা কালচারের কোনো পরিবর্তন দেশের মাটিতে হয়নি। বরং এখন আগের গায়েবি মামলার সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে এই নিকৃষ্ট ‘বাণিজ্য’।
সবশেষে তীব্র প্রশ্ন তুলে স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, যদি একই ঘটনা, একই জুলুম এবং একই গায়েবি মামলার নিকৃষ্ট সংস্কৃতি দেশে আরও কুৎসিতভাবে চলতে থাকে, তবে এত বড় রক্তের বিনিময়ে হাজারো ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের প্রকৃত দরকার কী ছিল?
রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করেন, আমরা আজ কোন ‘নতুন বাংলাদেশ’, কোন ‘নতুন রাজনীতি’ আর কোন ‘নতুন চিন্তা’র কথা মুখে বলছি? সব তো আগের মতোই চলছে, বরং ক্ষেত্রবিশেষে বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এ
ই দুষ্টচক্রের বৃত্ত থেকে আমরা যদি দ্রুত বের হতে না পারি, তবে আমাদের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
