ঢাকা: রোহিঙ্গা যেখানে আরাম পাবে সেখানেই তো যাবে! শেখ হাসিনা এই ভুলটাই করেছেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি দয়া দেখিয়ে তিনি হতে চেয়েছিলেন মমতাময়ী, সেই রোহিঙ্গাই আজ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।  আজ বাংলাদেশে বাংলাদেশীদের চাইতেও রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

নতুন করে আরো দেড় লক্ষ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

কি ভাবছেন দুর্ভিক্ষ মাহমারি, গৃহযুদ্ধ শুধু রোহিঙ্গারাই ফেইস করবে, আপনি আমি নিস্তার পেয়ে গেছি? না, আমাদের কারো নিস্তার নেই।

দুইদিন আগে পরে সবাইকে যুদ্ধ, দূর্ভিক্ষ, মহামারি, গৃহযুদ্ধ এগুলো ফেইস করতেই হবে।

দেশে কয়েক মাসের মধ্যে দেখবেন জ্বালানি সংকটে সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না, গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, তখন আপনাআপনি গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ছোট ছোট ফেক্টরিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

এমনিতেও অনেক হয়েছে।  মধ্যপ্রাচ্য থেকে লক্ষ লক্ষ প্রবাসী দেশে ফিরে বেকার বসে থাকবে।

বাংলাদেশীদের অবস্থা ২০৩০ সালে রোহিঙ্গাদের মতোই হবে। অথচ আজো আমরা তাদের দয়া দেখিয়ে চলেছি।

বর্তমানে দেশের এমন অবস্থা হয়েছে না পারছে গিলতে, না পারছে উগরাতে। ঐ যে বলে না খাইতে পারি না মরার ভাত, ফালাইতে পারি না প্রসাদ?!

নতুন করে আরো রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল নেমেছে  দেশে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র গত ১৬ মাসে দেশে ১ লক্ষ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী শহর বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায়।

স্থলপথে পায়ে হেঁটে বা নদীপথ দিয়ে মুসলিম রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।

এদিকে তো দেশে থাকা রোহিঙ্গারা বাচ্চা ফুটিয়েই চলেছে, তাদের সংখ্যা বাড়ছেই বাড়ছে।

কক্সবাজারে নতুন করে অনুপ্রবেশ ও ক্যাম্পে উচ্চ জন্মহারের কারণে রোহিঙ্গা সংকট দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

এছাড়া অশান্তি তো আছেই। ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিত্যদিন খুনোখুনি লেগেই আছে।

অভিযোগ রয়েছে, তরুণী-যুবতীদের দিয়ে সামুদ্রিক পর্যটন শহর কক্সবাজার-সহ বন্দরনগর চট্টগ্রামের হোটেলগুলোতে দেহব্যবসাও চলছে। তাঁদের আয় হচ্ছে একদিকে এইভাবে।

রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে গত ১৬ মাসে নতুন করে দেড় লাখ অনুপ্রবেশের কথা বলা হয়েছে।

২০১৭ সালে মায়ানমারে সেনা অভিযানের মুখে ৭ লক্ষ রোহিঙ্গার আগমন ঘটে। তারও আগে এসেছিল ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বর্তমানে তাদের সংখ্যা ১৫ লক্ষ বলা হচ্ছে।

দিনে দিনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা অ্যাটম বোমায় পরিণত হচ্ছে। যেকোনোদিন ফাটবে ফাটবে করছে।

১৩ মে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ১৬ মাসে নতুন করে দেড় লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

মাসিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন রোহিঙ্গা নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে গত মাসে ২ হাজার ৭৮০ জন নতুন আগত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, প্রায় ২৮ লাখ জনসংখ্যার এ জেলায় এখন অতিরিক্ত প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার চাপ সামলাতে হচ্ছে।

মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের ফলে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী এলাকাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

উখিয়া ও টেকনাফে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ হলেও সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা তার প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত এ জনসংখ্যার চাপ স্থানীয় অর্থনীতি, সামাজিক ভারসাম্য, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪-তে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার বেশি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *